বরিশালের মুলাদীতে মাদক কেনার টাকা চেয়ে না পেয়ে হাবিবুল্লাহ নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক মাদকাসক্ত যুবকের বিরুদ্ধে। হামলার সময় বাবাকে বাঁচাতে গেলে হাবিবুল্লাহর মেয়েকেও পিটিয়ে জখম করা হয়েছে।
সোমবার (২ মার্চ) ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাবিবুল্লাহর মৃত্যু হয়।
মৃত হাবিবুল্লাহ উত্তর বালিয়াতলী গ্রামের মৃত আব্দুস ছত্তার ভূঁইয়ার ছেলে। অভিযুক্ত শাতিল শরীফ একই গ্রামের শাহিন শরীফের ছেলে।
নিহতের পরিবারের দাবি, শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের উত্তর বালিয়াতলী গ্রামে হাবিবুল্লাহর নিজ বাড়িতে শাতিল শরীফ মাদক কেনার টাকা চেয়ে না পেয়ে হাবিবুল্লাহ ও তার মেয়ে কলেজছাত্রী ফাতিহাকে পিটিয়ে আহত করেন।
হাবিবুল্লাহর মেয়ে ফাতিহা জানান, শুক্রবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে একই এলাকার শাতিল তাদের বাড়িতে যান। ওই সময় তার বাবা হাবিবুল্লাহ বাড়িতে ছিলেন না। শাতিল বারান্দার সামনে দাঁড়িয়েই ফাতিহার কাছে ভাত খেতে চান। ওই সময় ফাতিহা তাকে গরুর মাংস দিয়ে ভাত দিলে তিনি বারান্দায় বসে পড়েন। সকাল ১০টার দিকে হাবিবুল্লাহ বাড়িতে ফিরে শাতিলকে বারান্দায় বসে ভাত খেতে দেখলে তাকে ঘরের মধ্যে টেবিলে বসে খাওয়ার অনুরোধ করেন।
শাতিল ঘরের মধ্যে ঢুকেই গরুর মাংস দিয়ে ভাত খাবে না জানিয়ে ডিম ভাজি দিতে বলেন। ফাতিহা ডিম ভাজি করতে গেলে শাতিল মাদক কেনার জন্য হাবিবুল্লাহর কাছে টাকা চান। হাবিবুল্লাহ টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হাবিবুল্লাহকে মারাত্মকভাবে আহত করেন।
বাবার চিৎকারে ফাতিহা তাকে রক্ষা করতে গেলে শাতিল তাকেও পিটিয়ে আহত করে চলে যান। পরে স্থানীয়রা হাবিবুল্লাহ ও ফাতিহাকে উদ্ধার করে ওই দিনই বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে হাবিবুল্লাহার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢামেক হাসপাতালে পাঠান চিকিৎসকরা। সেখানে আজ (সোমবার) ভোরে তার মৃত্যু হয়।
এ ব্যাপারে মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোমিন হোসেন বলেন, গত শুক্রবার সকালে মাদকসেবীর হামলায় হাবিবুল্লাহ ও তার মেয়ে আহত হয়েছিলেন। সোমবার ভোররাতে হাবিবুল্লাহর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার মেয়ে ফাহিতা। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।