ফুটবল
৫০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে শুরু হচ্ছে ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ’: মাহ্দী আমিন
৫০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ’ শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
তিনি বলেছেন, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বাংলাদেশের সকল স্কুল, কলেজ, মাদরাসা এবং টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা এতে অংশগ্রহণ করবে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এতে অংশগ্রহণ করবে।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ’ নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এ কথা জানান।
‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ’ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই উপদেষ্টা বলেন, সকল ছেলে শিক্ষার্থীর জন্য এটি বাধ্যতামূলক। আর মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য এটি ঐচ্ছিক। সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা দিয়ে তাদের পাশে থাকবে।
তিনি বলেন, আমরা চাই দেশজুড়ে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হোক। প্রধানমন্ত্রী সবসময় বলে এসেছেন, আগামী শিক্ষা ব্যবস্থা এমন হবে যেখানে আমাদের শিক্ষার্থীদের মেধা, মননশীলতা এবং সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে। সে লক্ষ্যেই ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় একযোগে দেশব্যাপী সারা বছরজুড়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে।
মাহ্দী আমিন বলেন, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো—এখানে ন্যায্যতা থাকবে, সমতা থাকবে এবং শহর ও গ্রামের শিক্ষার বৈষম্য কমে আসবে। সেই লক্ষ্যেই এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করতে চাই। আমাদের বিশ্বাস, এর মাধ্যমে আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগামীর নেতৃত্ব দেওয়ার যে গুণাবলি, মেধা এবং মননশীলতা রয়েছে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, আজ (সোমবার) সর্বসম্মতিক্রমে এখানে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি মন্ত্রণালয় তাদের সহযোগিতা প্রদান করবে। যেসব মাঠে খেলা অনুষ্ঠিত হবে, সেসব মাঠ সেভাবেই প্রস্তুত করা হবে।
তিনি বলেন, সচিবরা আগামীকাল (মঙ্গলবার) বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সঙ্গে সভা করবেন। স্থানীয় মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান সকল শিক্ষা বোর্ডে পরিদর্শন করবেন। তিনি প্রতিটি বিভাগীয় পর্যায়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে যেখানে যার সংশ্লিষ্টতা প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, এখানে দুইজন সচিব রয়েছেন। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রয়েছেন, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব রয়েছেন। তারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবেন এবং যেখানে প্রয়োজন, সেখানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করবেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে প্রাইমারি স্কুল গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে যে ফরম্যাট ছিল, এখানেও একই ফরম্যাট অনুসরণ করা হবে। আমরা যেহেতু বলছি, সারা বাংলাদেশে তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলোয়াড় তৈরি করতে চাই, তাই প্রথমে উপজেলা পর্যায়ে খেলা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর জেলা পর্যায়, তারপর বিভাগীয় পর্যায় এবং সবশেষে জাতীয় পর্যায়ের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, প্রথম যে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে আমরা প্রত্যাশা করছি প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। পাশাপাশি, প্রাইমারি স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টের মতো ফাইনালেও ইনশাআল্লাহ আমরা তার উপস্থিতি আশা করছি। এই ফুটবল টুর্নামেন্টের বৈশিষ্ট্য হলো, প্রধানমন্ত্রী সরাসরি এর পৃষ্ঠপোষকতা করছেন। সে কারণেই প্রাইমারি স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টের পাশাপাশি আমরা এটিকে ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’ বলছি। প্রধানমন্ত্রী সরাসরি এই আয়োজনকে অনুপ্রাণিত করবেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা সমন্বিতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, প্রতিটি মন্ত্রণালয় নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। যেখানে যে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে, আমরা সমন্বিতভাবে তা নিশ্চিত করব।
সারা দেশ থেকে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের জাতীয় পর্যায়ে যথাযথ স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করার জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এ ধরনের প্রতিযোগিতায় যারা ভালো করে, তাদের সঠিক মূল্যায়ন ও অনুপ্রেরণা জোগালে তা তাদের ভবিষ্যৎ সাফল্যের পথকে আরও প্রশস্ত করবে।
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ আকাঙ্ক্ষা পূরণ এবং জাতীয় পর্যায়ে তাদের সাফল্যের যাত্রাকে সুগম করতে গণমাধ্যমে তাদের অর্জনগুলো যথাযথভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন মাহ্দী আমিন। পাশাপাশি, প্রতিযোগিতায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রতিভা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে এবং তাদের প্রয়োজনীয় প্রচারণার আওতায় আনতে মিডিয়ার সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেন তিনি।
তিনি সরকারের পক্ষ থেকে নীতিমালার প্রণয়ন এবং সুষ্ঠু আয়োজনের মাধ্যমে দেশের শিক্ষাঙ্গনে সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া ও শিক্ষার একটি ত্রিপাক্ষিক বিপ্লব সৃষ্টি করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রাথমিক পরিকল্পনা তুলে ধরে উপদেষ্টা জানান, আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই প্রতিযোগিতা শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই চূড়ান্ত সূচি প্রস্তুত করে তা গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে শেয়ার করা হবে। এছাড়া প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে পুরো প্রতিযোগিতা সফলভাবে সম্পন্ন করার টার্গেট রয়েছে বলে জানান তিনি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, এটিকে একটি জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করে একাধিক মন্ত্রণালয় একযোগে কাজ করছে। এই সমন্বিত আয়োজনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সরাসরি সম্পৃক্ত রয়েছে।
অনুষ্ঠানে সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, যেহেতু এটি জাতীয় পর্যায়ের একটি বিশাল আয়োজন, তাই প্রতিটি মন্ত্রণালয় নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন ও সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র আশাবাদ ব্যক্ত করে আরও বলেন, এই সুপরিকল্পিত উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সৃজনশীল ক্রীড়া ও মেধার সঠিক বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে। এর মাধ্যমে আগামী বাংলাদেশের কাণ্ডারি হিসেবে আমাদের শিক্ষার্থীরা জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের মেধার সাক্ষর রাখতে ও উঠে আসতে সক্ষম হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক প্রমুখ।
১ দিন আগে
চট্টগ্রামে প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পিছিয়েছে
আগামী আগস্টে চট্টগ্রামে প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হওয়ার কথা থাকলেও বন্যা পরিস্থিতি এবং এইচএসসি পরীক্ষার কারণে তা এক মাস পেছানো হয়েছে। আগামী ৯ বা ১০ সেপ্টেম্বর এই ফুটবল প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই স্মৃতি হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নতুন সূচি অনুযায়ী আগামী ৯ বা ১০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম থেকে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬’ সেপ্টেম্বরে শুরু হতে যাচ্ছে। এই বিশাল আয়োজনের উদ্বোধন করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানাতে গেলে তিনি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বন্দরনগরী চট্টগ্রামে আয়োজনের নির্দেশ দেন। তারই আলোকে আমরা চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে এই বর্ণাঢ্য আয়োজন করতে যাচ্ছি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন করবেন।
তিনি জানান, দেশের ৪০ হাজার ২৩১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় দেড় কোটি শিক্ষার্থী এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলোয়াড় তৈরি, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং দেশের ক্রীড়া অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলাধুলার পরিবেশ গড়ে তোলার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক, পুলিশ কমিশনার, পুলিশ সুপারসহ সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলন শেষে শিক্ষামন্ত্রী চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেন।
৫ দিন আগে
ফুটবল খেলা দেখে দেরিতে বাড়ি ফেরায় স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্য, পরে যুবকের ‘আত্মহত্যা’
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় রাতে ফুটবল খেলা দেখে দেরিতে বাড়ি ফেরায় স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়ার পর সকালে নিজ ঘর থেকে সুমন হোসেন (৩০) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২০ জুলাই) সকালে উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের ১৬ দাগ দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সুমন হোসেন একই এলাকার আফজাল হোসেনের ছেলে। তিনি কৃষিকাজ করতেন। তার পাঁচ বছর ও দেড় বছর বয়সী দুইটি সন্তান রয়েছে।
জানা গেছে, সুমন আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের সমর্থক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল (রবিবার) দিবাগত রাতে বিশ্বকাপ ফুটবলের আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচ দেখে ভোরে বাড়ি ফেরেন সুমন। এ সময় পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি ও মনোমালিন্য হয়। পরে আজ (সোমবার) সকালে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
নিহতের স্ত্রী জানান, ভোর ৪টার দিকে ফুটবল খেলা দেখে বাড়িতে ফেরেন সুমন। তাকে শুধু বলেছিলাম, ‘এখন তোমার আসার সময় হলো!’ তখনই আবার বাড়ি থেকে মাঠের দিকে বের হয়ে যান তিনি। এরপর আমি মোবাইল দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়ি। ভোরে হঠাৎ ঘুম ভেঙে দেখতে পাই ‘ঘরের ডাবের’ (ঘরের আড়া) সঙ্গে সুমনের দেহ ঝুলছে।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় আব্দুল জলিল বলেন, আনুমানিক ভোর সাড়ে ৫টা হবে। আমি ফজরের নামাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলাম। এ সময় হঠাৎ সুমনের বাড়ি থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে ভেতরে গিয়ে দেখি ঘরের ডাবের সঙ্গে সুমন ঝুলছে। তাৎক্ষণিক আমি ও আরেকজন মিলে সুমনকে নামাই। এরপর স্থানীয় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, সুমন নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন। তবে কারণ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। জানতে পেরেছি, খেলা দেখে আসার পর স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্য হয়েছিল। আবার ওই যুবক আর্জেন্টিনা দলের সমর্থকও ছিলেন।
১৫ দিন আগে
যমুনায় হারিয়ে যাওয়ার আগে শেষবারের মতো মাতল ঢালারচরের ফুটবল মাঠ
শেষ বাঁশিটি শুধু একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচের সমাপ্তি ঘোষণা করেনি; বিদায় জানিয়েছে এমন একটি মাঠকে, যা আর কয়েক সপ্তাহ পরই যমুনার গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) পাবনার আমিনপুরের ঢালারচরের বালুচরে অনুষ্ঠিত হয় ‘স্বপ্নগ্রাম ব্রাজিল’ ও ‘স্বপ্নগ্রাম আর্জেন্টিনা’র মধ্যকার শেষ প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। ‘চর বয়েজ’ নামে পরিচিত স্থানীয় তরুণ ফুটবলাররা এতে অংশ নেন। নদীভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা একটি জনপদের মানুষকে সম্মান জানাতে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করে বিকে ফাউন্ডেশন।
বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা এখন সারা বিশ্বে। ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার লড়াই দেখতে টিভি পর্দায় চোখ রাখে কোটি কোটি মানুষ। কিন্তু ঢালারচরের মানুষগুলো ফুটবল উন্মাদনাকে বরণ করে নিয়েছে অন্য একভাবে। তাদের ছোট ছোট নৌকা আর টিনের ঘরের চালায় উড়ছে ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার পতাকা। জেলেরা যখন নদীতে জাল ফেলছে, তখন তাদের নৌকার মাস্তুলে দোল খাচ্ছে সেই পতাকা। ঘরের স্ত্রীরা রান্নাঘরের কাজ করতে করতেও যেন এক পলক দেখে নিচ্ছে সেই পতাকার দিকে—বিশ্বকাপের স্বপ্ন তাদেরও। কিন্তু এই স্বপ্ন তারা দেখছে এক অনিশ্চিত জীবনের মাঝে। নদী যাদের সবকিছু কেড়ে নিতে পারে, তারা অন্তত আজকের এই খেলাটি দেখবে। বিশ্বকাপের সেই উন্মাদনা হয়তো তাদের ঘরে পৌঁছায় না, কিন্তু আজ তারা সেই উন্মাদনাকে নিজেদের করে নিয়েছে।
ঢালারচরের মৎস্যজীবী ও কৃষক পরিবারগুলোর কাছে যমুনা নদী শত্রু নয়; এটি একটি শক্তি, যার বিরুদ্ধে তারা লড়াই করা ছেড়ে দিয়েছে। বছর বছর ধরে এই শক্তিশালী নদী তাদের বসতবাড়ি গ্রাস করে নিচ্ছে, তাদের ফসল ও জমি কেড়ে নিচ্ছে। তারা দেখেছে প্রতিবেশীরা কীভাবে নিজেদের সবকিছু গুছিয়ে ভেতরের দিকে সরে গেছে। একমাত্র পরিচিত ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে গেছে তারা। এখন আর কোনো রাগ নেই, শুধু ক্লান্তিকর এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি।
৩০ দিন আগে
বিশ্বকাপের রঙে রঙিন কবি গোলাম মোস্তফার বাড়ি
চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা কেবল টেলিভিশনের পর্দা কিংবা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতেই সীমাবদ্ধ নেই, তা যেন ছড়িয়ে পড়েছে ঝিনাইদহের এক শান্ত সবুজ পল্লীতেও। আর সেই উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ‘মুসলিম জাগরণের কবি’ খ্যাত গোলাম মোস্তফার স্মৃতিবিজড়িত আদি বাড়ি।
শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের ঐতিহাসিক এই বাড়িটি এখন ল্যাটিন আমেরিকার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে রঙিন। কবিবাড়ির এই অভূতপূর্ব রূপান্তর পুরো গ্রামকে পরিণত করেছে এক টুকরো ‘ফুটবল ভিলেজে’।
সরেজমিনে মনোহরপুর গ্রামে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে এক ভিন্নজগৎ। চারদিকে শুধু ফুটবল আর ফুটবল। রাস্তার দুপাশে উড়ছে বিভিন্ন দেশের পতাকা, তবে মূল আকর্ষণ কবি গোলাম মোস্তফার বাড়ি। কবির বাড়ির মূল ফটক, কাচারিঘর, সবুজ আঙিনা, বসতঘর থেকে শুরু করে আশপাশের গাছপালা সবই এখন মুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ফুটবল আবেগে। একদিকে আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা, অন্যদিকে ব্রাজিলের সবুজ-হলুদ রঙের নান্দনিক দেয়ালচিত্র ও পতাকা শোভা পাচ্ছে। দেয়াল আর বাঁশের খুঁটিতে শোভা পাচ্ছে লিওনেল মেসি, নেইমার জুনিয়র কিংবা কিলিয়ান এমবাপ্পেদের বিশাল সব প্রতিকৃতি। কোথাও আবার আঁকা হয়েছে কাঙ্ক্ষিত সোনালী ট্রফি।
ফুটবল আর ইতিহাসের এই অপূর্ব মেলবন্ধন দেখতে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কবিবাড়িতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে আসছেন। মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন অনেকেই।
বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো। কেউ প্রিয় দলের জার্সি পরে, কেউবা পতাকা কাঁধে জড়িয়ে উৎসবে মেতে উঠছে। স্থানীয়রা বলছেন, দলের সমর্থনে ভিন্নতা থাকলেও এই আয়োজন পুরো গ্রামের মানুষকে এক সুতোয় বেঁধেছে। এটি এখন শুধু ফুটবল উন্মাদনা নয়, বরং সম্প্রীতির এক অনন্য মিলনমেলা।
ফরহাদ হোসেন নামে এক যুবক মুগ্ধতা প্রকাশ করে বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখে বিশ্বাস করতে পারিনি। এখানে এসে মনে হচ্ছে কোনো বিদেশি ফ্যান জোনে দাঁড়িয়ে আছি। গ্রামীণ আবহে এমন নান্দনিক আয়োজন সত্যিই চোখ জুড়িয়ে দেয়।’
স্থানীয় বাসিন্দা সিজার জিকরুল বলেন, ‘বিশ্বকাপ এলেই গ্রামে আনন্দ হয়, কিন্তু এবার কবিবাড়িকে কেন্দ্র করে যে সাজসজ্জা হয়েছে, তা আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। প্রতিদিন নতুন নতুন মানুষের আগমনে আমাদের গ্রামজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ।’
এই বর্ণিল উদ্যোগের পেছনে রয়েছেন স্থানীয় একঝাঁক উদ্যমী তরুণ। কয়েক সপ্তাহের অক্লান্ত পরিশ্রমে তারা কবিবাড়ি ও আশপাশের এলাকাকে এভাবে সাজিয়ে তুলেছেন।
তরুণ সংগঠক শাওন শ্রাবন ও শিহাব হোসেন বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল বিশ্বকাপের বৈশ্বিক আনন্দকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া এবং নতুন প্রজন্মকে মাঠের খেলাধুলার প্রতি আকৃষ্ট করা। নিজেদের পকেটের টাকায়, নিজেদের পরিশ্রমে এই আয়োজন করেছি। দর্শনার্থীদের হাসিমুখ আর ভালোবাসাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’
বিশ্বকাপের মাঠের লড়াই যত জমছে, মনোহরপুরের কবিবাড়িতে দর্শনার্থীদের আনাগোনা ততই বাড়ছে। ফুটবল আর ঐতিহ্যের এই মেলবন্ধন যেন প্রমাণ করছে—খেলাধুলা শুধু মাঠের লড়াই নয়, তা মানুষের হৃদয়কে এক করার এক শক্তিশালী মাধ্যম।
৪৪ দিন আগে
ব্রাজিলের ৩-০ গোলের দাপুটে জয়, বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল হাইতি
ফিলাডেলফিয়ায় হাইতি জাতীয় ফুটবল দলের বিরুদ্ধে ৩-০ গোলের একটি দাপুটে জয় নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দল। এই হারের ফলে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল হাইতি, অন্যদিকে ব্রাজিলের গ্রুপ পর্ব পার হওয়ার সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হলো।
ব্রাজিলের হয়ে চমৎকার পারফর্ম করে দুটি গোল করেছেন মাথেউস কুনহা, আর ভিনিসিয়াস জুনিয়র করেছেন একটি গোল এবং একটি অ্যাসিস্ট। ১৯৭৪ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া হাইতির চলতি আসর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম দল হিসেবে বিদায় নিশ্চিত হলো।
এবারের বিশ্বকাপে দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথমার্ধে খেলতে নেমেই কুনহা দ্রুতই দলে তার অন্তর্ভুক্তির যৌক্তিকতা প্রমাণ করেন। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিরুদ্ধে ব্রাজিলের হতাশাজনক ১-১ ড্রয়ের ম্যাচে তিনি বদলি হিসেবে নেমেছিলেন। আজকের ম্যাচে ভিনিসিয়াসের একটি শট হাইতির গোলরক্ষক জনি প্লাসিড ফিরিয়ে দিলে ফিরতি বলে গোল করে ডেডলক ভাঙেন এই ফরোয়ার্ড।
প্রথমার্ধের শেষের দিকে ভিনিসিয়াসের একটি নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে বাম পায়ের জোরালো শটে বল টপ কর্নারে পাঠিয়ে ব্রাজিলের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কুনহা। তার এই জোড়া গোল লিঙ্কন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ডে উপস্থিত ৬৮ হাজারেরও বেশি দর্শকের মাঝে থাকা বিপুলসংখ্যক ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের উল্লাসে ভাসিয়ে দেয়।
এর আগে, রাফিনহার একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায় এবং প্রথমার্ধেই তিনি চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। এই ধাক্কা সত্ত্বেও পুরো ম্যাচে আধিপত্য বজায় রাখে দক্ষিণ আমেরিকান দলটি।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ভিনিসিয়াস ব্রাজিলের হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন, যা ম্যাচের ভাগ্য কার্যত নির্ধারণ করে দেয়। সর্বশেষ ২০০২ সালে বিশ্বকাপ নেওয়া দলটি এবারের বিশ্বকাপে শিরোপার অন্যতম দাবিদার।
স্টেডিয়ামের ভেতরের পরিবেশ ছিল বেশ প্রাণবন্ত। হাইতির সমর্থকরা যখন তাদের ঐতিহ্যবাহী গান গাইছিলেন, তখন ব্রাজিলিয়ান ভক্তরা তাদের দেশের সমৃদ্ধ ফুটবল ইতিহাস উদযাপন করার পাশাপাশি কিংবদন্তি ফুটবল আইকন পেলের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছিলেন।
আগামী বুধবার ফ্লোরিডার মায়ামি গার্ডেন্সে স্কটল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে ব্রাজিল তাদের গ্রুপ ‘সি’-এর মিশন শেষ করবে।
এদিকে, পায়ের পেশির (কাফ) চোটের কারণে তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার টানা দ্বিতীয় ম্যাচেও মাঠে নামতে পারেননি।
৪৫ দিন আগে
‘নীল হাঙ্গর’দের রক্ষণে কাটা পড়ল স্পেন
কাবো ভের্দে বা কেপ ভার্দ যে নামেই ডাকুন, ফুটবলের দুনিয়ায় দেশটির একটি ডাকনাম রয়েছে ‘তুবারোঁইস আসুইস’, বাংলায় যার অর্থ ‘নীল হাঙর’। তবে আক্রমণে নয়, রক্ষণাত্মক ফুটবল দিয়ে তারা শক্তিশালী স্পেনকে যে কামড় দিল, ফুটবলপ্রেমীরা তা মনে রাখবে বহু দিন।
পুরো ম্যাচের ৭৪ শতাংশ বলের দখল নিজেদের পায়ে রেখে মোট ২৭টি আক্রমণ শানাল বর্তমান ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের দ্বিতীয় সেরা দল স্পেন। কিন্তু আকাঙ্ক্ষিত একটি গোলের দেখা পেল না কোনোভাবেই। ফলে অপ্রত্যাশিত গোলশূন্য ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে ‘শিরোপার অন্যতম দাবিদার’ তকমা নিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা লা রোহাদের।
প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়ে স্পেনের মতো দলের বিপক্ষে এই ফলাফল তাই কেপ ভার্দের জন্য জয়ের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। আর এই ঐতিহাসিক ফলাফলের কেন্দ্রে ছিলেন একজন মানুষ—৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক হোসিমার দিয়াস ভোসিনিয়া।
৫ লাখ ৩০ হাজার জনসংখ্যার দেশটির ফুটবল দলকে বিশ্বকাপে নিয়ে এসেছেন পেদ্রো লেইতিয়াও ব্রিতো ‘বুবিস্তা’। ৭০ বছর বয়সী বুবিস্তা কেন ২০২৫ সালে আফ্রিকার বর্ষসেরা কোচের পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন, তার প্রমাণ তিনি দিলেন সবচেয়ে বড় মঞ্চেই। স্পেনের মতো পরাশক্তির বিপক্ষে এমন শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণাত্মক কৌশল সাজিয়ে তিনি কার্যত দাবার ছকে আটকে ফেলেন দে লা ফুয়েন্তেকে।
৫০ দিন আগে
দুবার পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তের গোলে ডাচদের রুখে দিল জাপান
বিশ্বকাপের মঞ্চে নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের মতো প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করে পরের ধাপে পৌঁছানো যে কতটা কঠিন তা বিবেচনায় নিয়ে শুরু থেকেই প্রস্তুত ছিল জাপান। নেদারল্যান্ডসের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তাদের পরিকল্পনা ছিল স্পষ্ট—ধৈর্য, শৃঙ্খলা আর সুযোগের অপেক্ষা। পুরো ম্যাচজুড়ে সেই পরিকল্পনাই নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করল এশিয়ার অন্যতম প্রতিনিধিরা। দুইবার পিছিয়ে পড়েও তাই ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ মুহূর্তে সমতায় ফিরে ডাচদের হতাশ করা ড্রয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে জাপান।
বাংলাদেশ সময় রবিবার (১৪ জুন) দিবাগত রাতে টেক্সাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে এফ গ্রুপের প্রথম ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়েছে।
ম্যাচের সবগুলো গোলই এসেছে দ্বিতীয়ার্ধে। ৫১তম মিনিটে ভার্জিল ফন ডাইকের হেডারে নেদারল্যান্ডস এগিয়ে যাওয়ার ৬ মিনিট পর জাপানকে সমতায় ফেরান কেইতো নাকামুরা। তবে ৬৪ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি করে ম্যাচে ফের এগিয়ে গিয়েছিল শক্তিমত্তা ও মাঠের পারফরম্যান্সে এগিয়ে থাকা ডাচরা। এর ৮৯ মিনিটে গোল করে দলকে সমতায় ফিরিয়ে জাপানের সমর্থকদের আনন্দে ভাসান দাইচি কামাদা।
ম্যাচের শুরু থেকেই নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিতে থাকে নেদারল্যান্ডস, অন্যদিকে মাথা ঠান্ডা রেখে ডাচ আক্রমণ রুখে দেওয়ায় মনোযোগী হয় জাপান। তবে তৃতীয় মিনিটে ডনিয়েল মালেনের শট থেকে ভালো একটি সুযোগ এসেছিল ডাচদের, অবশ্য গোলরক্ষক জিয়ন সুজুকির নৈপুণ্যে শুরুতেই পিছিয়ে পড়া থেকে রক্ষা পায় জাপান।
শুরুর দিকে নিজেদের অর্ধেই ব্যস্ত থাকতে হলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে জাপান। ১৫তম মিনিটে দাইজেন মায়েদার নিচু ক্রস থেকে সুযোগ তৈরির চেষ্টা করেছিল তারা, কিন্তু শেষ মুহূর্তে ডাচ রক্ষণ তা নস্যাৎ করে দেয়।
৫১ দিন আগে
বিটিভিতে বিশ্বকাপ সম্প্রচারে ৭২.৭১ কোটি টাকায় মিডিয়া স্বত্ব কিনছে সরকার
বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচারের জন্য বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা ফিফার কাছ থেকে ‘অল মিডিয়া রাইটস’ কিনছে সরকার। এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশও করেছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
রবিবার (৭ জুন) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২৫তম বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উত্থাপিত এ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শেষে সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) ফিফার কাছ থেকে ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬-এর অল মিডিয়া রাইটস সংগ্রহের জন্য বিটিভির প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে। এ জন্য মোট চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭২ কোটি ৭০ লাখ ৫৭ হাজার ৬৯২ টাকা।
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং টুর্নামেন্টটির বাণিজ্যিক ও সম্প্রচারস্বত্বের মালিক ফিফাকে সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় সরবরাহকারী হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে।
এর আগে, প্রস্তাবটি নিয়ম অনুযায়ী অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির নীতিগত অনুমোদন পেয়েছিল। কমিটির মতে, বিশ্বকাপের সম্প্রচার ও মিডিয়া স্বত্বের একচ্ছত্র মালিক হওয়ায় ফিফার কাছ থেকেই সরাসরি এই স্বত্ব সংগ্রহ করা সম্ভব।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অল মিডিয়া সম্প্রচারস্বত্ব অর্জনের ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম বিটিভি তাদের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬-এর ম্যাচ ও সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠান সম্প্রচার করতে পারবে। এর মাধ্যমে দেশের ফুটবলপ্রেমীরা আরও সহজে বিশ্বকাপ উপভোগের সুযোগ পাবেন।
এ বছরের ফিফা বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। এবারই প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল বিশ্বকাপে অংশ নেবে।
৫৮ দিন আগে
হাতুড়ি নিয়ে ফুটবল মাঠে শিক্ষার্থী, ম্যাচ স্থগিত
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ফুটবল খেলা শুরুর আগে কিছু ছাত্র বিদ্যালয় মাঠে গিয়ে প্রকাশ্যে হাতুড়ি দেখানোয় খেলা স্থগিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) উপজেলার দুই বিদ্যালয়ের মধ্যে ফুটবল সেমিফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে খেলা স্থগিত করার কথা নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল হাই সিদ্দিকী।
দৌলতপুরে গ্রীষ্মকালীন ৫২তম বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চলছে। প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার তারাগুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বাগোয়ান কেসিভিএন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ফুটবল খেলার সেমিফাইনাল ম্যাচ ছিল। সকাল ১০টায় উপজেলার রিফাইতপুর ইউনিয়নের রিফাইতপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এ খেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
জানা গেছে, খেলা শুরু হওয়ার আগে কিছু ছাত্র হাতুড়ি নিয়ে মাঠে ঢুকে পড়ে। তারা প্রকাশ্যে হাতুড়ি দেখানোয় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে ইউএনও খেলা বন্ধের ঘোষণা দেন।
এ বিষয়ে তারাগুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিউল ইসলাম বলেন, ‘খেলার আগে আমাদের এক ছাত্রের কাছে হাতুড়ি পাওয়া গেছে— এটা আমরা স্বীকার করছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অন্যদিকে, বাগোয়ান কেসিভিএন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হালিমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার কামাল হোসেন বলেন, ‘হাতুড়ি আনার অভিযোগ পাওয়ার পর ইউএনও স্যার খেলা স্থগিত ঘোষণা করেন। আলোচনার মাধ্যমে পরে নতুন তারিখ নির্ধারণ করে খেলা অনুষ্ঠিত হবে।’
এ বিষয়ে ইউএনও আব্দুল হাই সিদ্দিকী বলেন, ‘খেলা শুরু হওয়ার আগেই শিক্ষার্থীরা হাতুড়ি প্রদর্শন করছিল। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আগেই আমরা খেলা স্থগিত করেছি।’
৩১৫ দিন আগে