জাতীয় যুব দিবস
দক্ষতা ও উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে দেশ গঠনে তরুণদের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
তরুণদের মেধা, উদ্ভাবনী শক্তি ও কারিগরি দক্ষতা কাজে লাগিয়ে দেশ গঠনে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে টিকে থাকতে প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
রবিবার (১ নভেম্বর) জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শনিবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
দিবসটিতে এবারের প্রতিপাদ্য ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুবসমাজই যেকোনো জাতির প্রাণশক্তি ও অগ্রযাত্রার প্রধান চালিকাশক্তি।
স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ নির্মাণ থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি সংকট উত্তরণ এবং উন্নয়ন-অগ্রগতিতে তরুণদের অবদান অনস্বীকার্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থায় টিকে থাকতে হলে প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতায় পারদর্শী হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। এ উপলব্ধি থেকে সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রকল্প নিয়েছে।
ফ্রিল্যান্সিং ও এআই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীরা প্রশিক্ষণের পাশাপাশি অনলাইন কাজে যুক্ত হয়ে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারছেন বলেও জানান তিনি।
দেশের যুবসমাজকে আরও আধুনিক, যুগোপযোগী ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে স্মার্ট কৃষি, রপ্তানিমুখী প্যাকেজিং ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বিদেশি ভাষা শিক্ষার মতো বিষয়ে প্রশিক্ষণ চালুর ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।
বাণীতে তিনি জানান, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এ পর্যন্ত ৮০ লাখের বেশি যুবককে বিভিন্ন মেয়াদে দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ২৫ লাখ সফল আত্মকর্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তারা মাসে ২০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা এবং ক্ষেত্রবিশেষে এর চেয়েও বেশি আয় করে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছেন।
প্রশিক্ষিত যুবকদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দুই হাজার ৮৬১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা যুব ঋণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুবশক্তির অসীম সম্ভাবনা অনুধাবন করে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশ গঠনে যুবসমাজকে সুসংগঠিত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তার দূরদর্শী নির্দেশনায় ১৯৭৮ সালে যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়, যা পরবর্তী সময়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় নামে পরিচিতি পায়। মাঠপর্যায়ে যুব কার্যক্রম বাস্তবায়নে ১৯৮১ সালে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, ১৯৯১ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তরুণদের কারিগরি ও বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশের সব জেলায় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। এর ধারাবাহিকতায় পর্যায়ক্রমে সব জেলায় এসব কেন্দ্র স্থাপিত হয় এবং যুব কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশ ও জাতি গঠনে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ পর্যন্ত ৫৪৬ জন আত্মকর্মী যুবক ও যুব সংগঠককে জাতীয় যুব পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এ বছর পুরস্কার পেতে যাওয়াদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান তিনি।
এছাড়া ইমপ্যান্ট প্রকল্পের মাধ্যমে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করে পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, তরুণদের যেকোনো উদ্ভাবনী উদ্যোগ এগিয়ে নিতে সরকার ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা করেছে। কোনো উদ্ভাবনী উদ্যোগ যেন অর্থের অভাবে থেমে না যায়, সে লক্ষ্যেই দেশে প্রথমবারের মতো স্টার্টআপ খাতে বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
জাতীয় যুব দিবসের প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে যুবসমাজ দেশের অগ্রগতি, নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং দেশ ও জনগণের কল্যাণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
দিবসটি উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
৪ ঘণ্টা আগে
মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে তরুণদের আন্দোলনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
মাদক প্রতিরোধ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধসহ সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে দেশের তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রবিবার (১ নভেম্বর) জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শনিবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান।
দিবসটিতে এবারের প্রতিপাদ্য ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে যুবসমাজের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি মাদক প্রতিরোধ, পরিবেশ সংরক্ষণ, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা এবং সামাজিক অবক্ষয় রোধে তরুণদের সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যুবসমাজ একটি জাতির প্রাণশক্তি ও উন্নয়নের প্রধান নিয়ামক। সুশৃঙ্খল, দক্ষ ও প্রতিশ্রুতিশীল যুবসমাজ দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।
ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানসহ গণতান্ত্রিক গুরুত্বপূর্ণ অর্জনে যুবসমাজের অগ্রণী ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, যুবসমাজকে দক্ষ ও কর্মক্ষম করে গড়ে তুলতে পারলে স্বনির্ভর, উন্নত ও আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত হবে। এ প্রেক্ষাপটে এবারের প্রতিপাদ্য যথার্থ হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
বাণীতে তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার বড় একটি অংশ যুবসমাজ, যা বাংলাদেশের প্রধান সম্ভাবনা।
অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ও জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-২০৩০ অর্জনে এই জনমিতিক সুবিধা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে এবং এ জন্য মানসম্মত ও কর্মমুখী শিক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তিগত দক্ষতা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ঙ্গো টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন বল মত দেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তরুণদের উৎপাদনশীল জনশক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে সুদূরপ্রসারী দর্শন ও কর্মসূচির ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সেই ধারাকে শক্তিশালী করেন। বর্তমান সরকার সরকারি ও বেসরকারি সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে এ ধারাকে আরও সুদৃঢ় ও যুগোপযোগী করতে বিভিন্ন কর্মসূচি ও উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি জানান, এসব উদ্যোগের অংশ হিসেবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কৃষি, হস্তশিল্প, কারিগরি শিক্ষা, ফ্রিল্যান্সিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।
সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে নেওয়া এসব কর্মসূচি যুবসমাজকে উদ্যোক্তা ও আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলতে অবদান রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে যুব জনগোষ্ঠীর সার্বিক উন্নতি ও কল্যাণে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত, সামাজিক সংগঠন, বিত্তবান ব্যক্তি ও প্রতিটি পরিবারকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
যুবদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাকে সবার অঙ্গীকার হিসেবে নেওয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্যও কামনা করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল।
৪ ঘণ্টা আগে
সারাদেশে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন
ব্যাপক উৎসবমুখর পরিবেশে বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শুক্রবার দেশব্যাপী জাতীয় যুব দিবস উদযাপন করা হচ্ছে।
২৫৫৬ দিন আগে