মাদক প্রতিরোধ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধসহ সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে দেশের তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রবিবার (১ নভেম্বর) জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শনিবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান।
দিবসটিতে এবারের প্রতিপাদ্য ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে যুবসমাজের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি মাদক প্রতিরোধ, পরিবেশ সংরক্ষণ, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা এবং সামাজিক অবক্ষয় রোধে তরুণদের সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যুবসমাজ একটি জাতির প্রাণশক্তি ও উন্নয়নের প্রধান নিয়ামক। সুশৃঙ্খল, দক্ষ ও প্রতিশ্রুতিশীল যুবসমাজ দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।
ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানসহ গণতান্ত্রিক গুরুত্বপূর্ণ অর্জনে যুবসমাজের অগ্রণী ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, যুবসমাজকে দক্ষ ও কর্মক্ষম করে গড়ে তুলতে পারলে স্বনির্ভর, উন্নত ও আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত হবে। এ প্রেক্ষাপটে এবারের প্রতিপাদ্য যথার্থ হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
বাণীতে তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার বড় একটি অংশ যুবসমাজ, যা বাংলাদেশের প্রধান সম্ভাবনা।
অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ও জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-২০৩০ অর্জনে এই জনমিতিক সুবিধা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে এবং এ জন্য মানসম্মত ও কর্মমুখী শিক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তিগত দক্ষতা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ঙ্গো টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন বল মত দেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তরুণদের উৎপাদনশীল জনশক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে সুদূরপ্রসারী দর্শন ও কর্মসূচির ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সেই ধারাকে শক্তিশালী করেন। বর্তমান সরকার সরকারি ও বেসরকারি সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে এ ধারাকে আরও সুদৃঢ় ও যুগোপযোগী করতে বিভিন্ন কর্মসূচি ও উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি জানান, এসব উদ্যোগের অংশ হিসেবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কৃষি, হস্তশিল্প, কারিগরি শিক্ষা, ফ্রিল্যান্সিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।
সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে নেওয়া এসব কর্মসূচি যুবসমাজকে উদ্যোক্তা ও আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলতে অবদান রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে যুব জনগোষ্ঠীর সার্বিক উন্নতি ও কল্যাণে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত, সামাজিক সংগঠন, বিত্তবান ব্যক্তি ও প্রতিটি পরিবারকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
যুবদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাকে সবার অঙ্গীকার হিসেবে নেওয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্যও কামনা করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল।