সিইসি
২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে
৩৫ বছর পর আজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। জাতীয় সংসদ সদস্যরা উন্মুক্ত ব্যালটে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে ভোট দিচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টা ১০ মিনিটে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে যা চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য এ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন।
নির্বাচনে বিএনপি-সমর্থত জোটের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বিরোধী দল জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে সংসদে বিএনপি ও তাদের মিত্রদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত কোনো সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নিজ দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো প্রার্থীকে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে।
সর্বশেষ সংসদে ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরীকে পরাজিত করে দেশের একাদশ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস। সেই নির্বাচনে আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট এবং বদরুল হায়দার চৌধুরী ৯২ ভোট পেয়েছিলেন।
এরপর থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একক প্রার্থী থাকায় ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয়নি। প্রতিবারই একজন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের ৩৫ বছর পর ভোটগ্রহণ হওয়ায় এবারের নির্বাচনকে ঐতিহাসিক হিসেবে উল্লেখ করেন।
নির্বাচন কমিশন সুন্দরভাবে নির্বাচনটি সম্পন্ন করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতিতে কোনো ধরনের ঘাটতি নেই।’
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষেই ভোট গণনা করে তাৎক্ষণিক ফল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন সিইসি। তিনি বলেন, ভোটের পরে আমরা সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে গণনা শুরু করব। গণনার পরে নির্বাচনি কর্তা হিসেবে আমি যে ফল ঘোষণা করব, সেটাই আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত।
এ এম এম নাসির উদ্দিন জানান, ভোট গণনা শেষে সেখানেই (সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে) ফল ঘোষণা করা হবে। এরপর নির্বাচন ভবনে ফিরে ওই দিনই গেজেট প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের।
এদিকে, নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান শুক্রবার সন্ধ্যায় আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বঙ্গভবন।
ভোটদানের পদ্ধতি সম্পর্কে সিইসি জানিয়েছিলেন, প্রতিটি ব্যালট পেপারের দুটি অংশ থাকবে—কাউন্টারফয়েল ও ব্যালট অংশ। কাউন্টারফয়েলে ক্রমিক নম্বর, সংসদ সদস্যের নাম ও জাতীয় সংসদ সচিবালয় প্রদত্ত বিভক্তি নম্বর (নির্বাচনি এলাকার নম্বর) এবং একটি খালি জায়গা থাকবে।
ব্যালট পেপার নেওয়ার আগে সংসদ সদস্যকে নির্ধারিত স্থানে তার পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করতে হবে।
ব্যালট পেপারের ডান পাশে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম বাংলায় বর্ণানুক্রমে মুদ্রিত থাকবে। প্রতিটি প্রার্থীর নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে সংসদ সদস্যরা পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ভোট দেবেন।
এরপর নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে ব্যালট জমা দেবেন সংসদ সদস্যরা। বিকেল ৫টা পর্যন্ত ব্যালট গ্রহণ করা হবে। এরপর ভোট গণনা শুরু হবে।
চট্টগ্রাম-৪ আসনটি শূন্য থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার সংসদ সদস্যের সংখ্যা ৩৪৯ জন।
ভোটারদের মধ্যে বিএনপির ২৪৭ জন, জামায়াতের ৭৭ জন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আটজন, স্বতন্ত্র আটজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের তিনজন এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি, গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির একজন করে সংসদ সদস্য রয়েছেন।
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণঅধিকার পরিষদ ও গণসংহতি আন্দোলন ক্ষমতাসীন বিএনপির জোটসঙ্গী। সরকারদলীয় জোটের মোট ২৫০ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন, তারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষেই ভোট দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে জামায়াত, এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি ১১ দলীয় বিরোধী দলীয় জোটের অংশ। সংসদে বিরোধী দলীয় জোটে ৯০ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন, যারা অলি আহমদের পক্ষে ভোট দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। এরপর জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের কারণে পদটি শূন্য হলে তা পূরণের জন্য ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হয়।
১৫ দিন আগে
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল তাৎক্ষণিক ঘোষণা হবে: সিইসি
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষেই ভোট গণনা করে তাৎক্ষণিক ফল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
১৯৯১ সালের পর প্রায় ৩৫ বছরে এবারই প্রথম একাধিক প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার।
এ বিষয়ে সিইসি বলেন, দুপুর ২টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ভোট হবে। ভোটের পরে আমরা সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে গণনা শুরু করব। গণনার পরে নির্বাচনি কর্তা হিসেবে আমি যে ফল ঘোষণা করব, সেটাই আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত।
তার কথায়, ‘ভোটের পরে আমরা ওখানে ইন্সট্যান্টলি (তাৎক্ষণিক) গোনা শুরু করব। গোনার পরে রেজাল্ট যেটা আমি অ্যানাউন্স করব অ্যাজ নির্বাচনি কর্তা, দ্যাট ইজ ফাইনাল অ্যাজ পার ল’।’
তিনি জানান, ভোট গণনা শেষে সেখানেই (সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে) ফল ঘোষণা করা হবে। এরপর নির্বাচন ভবনে ফিরে ওই দিনই গেজেট প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ১৩ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে তিনটি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। এর মধ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে একটি এবং ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে দুটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম।
সিইসি জানান, ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। এ সময় প্রস্তাবক ও সমর্থকদের স্বাক্ষর যাচাইয়ে জাতীয় সংসদ সচিবালয় নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করে।
তিনি বলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যরা যে রেজিস্টারে স্বাক্ষর করেছিলেন, জাতীয় সংসদ সচিবালয় সেই রেজিস্টার নিয়ে আসে। এর সঙ্গে মিলিয়ে প্রস্তাবক ও সমর্থকদের স্বাক্ষর যাচাই করা হয়।
‘আমরা তিনটা মনোনয়নই বৈধ পেয়েছি। ১১ দলীয় ঐক্যের দুটোই বৈধ এবং সরকারি দল বর্তমান বিএনপির মনোনয়নটাও বৈধ,’ বলেন সিইসি।
তবে একই প্রার্থীর পক্ষে দুটি মনোনয়নপত্র জমা পড়ায় একটি মনোনয়নপত্রকে অপ্রয়োজনীয় হিসেবে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। ফলে নির্বাচনে দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোট হবে।
মনোনয়ন প্রত্যাহারের বিষয়ে সিইসি বলেন, নির্ধারিত সময়ে কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ‘হাই প্রোফাইল’ উল্লেখ করে এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, রাষ্ট্রপতি (ভারপ্রাপ্ত), প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা, সব সংসদ সদস্য ও হুইপরা এ নির্বাচনে ভোটার হওয়ায় এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপর্যায়ের নির্বাচন।
তিনি আরও জানান, চট্টগ্রাম-৪ আসন শূন্য থাকায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩৪৯ জন। স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করেই ভোটের তারিখ নির্ধারণ ও তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান সিইসি।
১৬ দিন আগে
যেকোনো সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনে ইসি প্রস্তুত আছে: সিইসি
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, যেকোনো সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে, সিইসির নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের একটি প্রতিনিধিদল প্রায় এক ঘণ্টা ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সিইসি বলেন, বৈঠকে নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়াগত বিষয়গুলো নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল কবে ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনো সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে তার ভাষ্য, ‘দিনক্ষণ এখনও ঠিক হয়নি। সূর্য উঠলে জানতে পারবেন।’ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, সম্ভাব্য ভোটার তালিকা চেয়ে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে।
বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাসুদ, তাহমিদা আহমদ ও মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এবং ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে নির্বাচন কমিশনকে স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করতে হয়।
সংসদ অধিবেশন চলাকালে ভোটগ্রহণের অন্তত সাত দিন আগে তফসিল ঘোষণা করতে হবে। আর সংসদ অধিবেশন না থাকলে স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করে নির্বাচন কমিশনকে ভোটের অন্তত সাত দিন আগে সংসদ সদস্যদের একটি সভা আহ্বান করতে হবে।
নির্বাচনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদ সচিবালয় সংসদ সদস্যদের তালিকা নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠাবে। সেই তালিকার ভিত্তিতে কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও প্রকাশ করবে। এরপর তফসিল ঘোষণা করা হবে।
সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন। সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হতে হবে। সর্বাধিক ভোট পাওয়া প্রার্থীকে নির্বাচিত ঘোষণা করবেন সিইসি। সমান ভোট পড়লে লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণ করা হবে এবং এ বিষয়ে সিইসির ঘোষণাই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
৩৮ দিন আগে
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সিইসির বৈঠক মঙ্গলবার
আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে বৈঠকে বসবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জাতীয় সংসদ ভবনে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের কার্যালয়ে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
সোমবার (২৭ জুলাই) সংসদ সচিবালয়ের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) রাশেদ মিজান এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের একটি প্রতিনিধিদল আগামীকাল ২৮ জুলাই (মঙ্গলবার) বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক করবে।’
এর আগে স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়ে সংসদ সচিবালয়ে চিঠি পাঠায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।
জ্যেষ্ঠ ইসি সচিব আখতার আহমেদের সই করা ওই চিঠিতে বলা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই স্বীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের দফা ২-এর বিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগের কারণে ওই পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে তা পূর্ণ করার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হবে।
এতে আরও বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১-এর ৫ ধারার (২) ও (৩) উপধারার বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য স্পিকারের সঙ্গে সানুগ্রহ আলোচনাক্রমে নির্বাচন কমিশনকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে ঘোষণা করতে হবে। এ বিষয়ে স্পিকার কর্তৃক নির্ধারিত সুবিধাজনক তারিখ ও সময়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাক্ষাতের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।
চিঠিতে বলা হয়েছে, সাক্ষাতের সময় সিইসির সঙ্গে অন্য নির্বাচন কমিশনাররা এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়াও, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আশ্রাফুল আলম সহযোগী কর্মকর্তা হিসেবে স্পিকারের দপ্তরে অবস্থান করবেন।
আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে আলোচনার উদ্দেশ্যে স্পিকারের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাক্ষাতের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠিতে অনুরোধ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী, তফসিল ঘোষণার আগে স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করবে নির্বাচন কমিশন।
সংসদ অধিবেশন চলমান থাকলে ভোটগ্রহণের অন্তত সাত দিন আগে নির্বাচনের প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। আর অধিবেশন না থাকলে স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করে ভোটের অন্তত সাত দিন আগে সংসদ সদস্যদের সভা আহ্বান করতে হবে।
নির্বাচন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদ সচিবালয় সংসদ সদস্যদের তালিকা নির্বাচন কমিশনে পাঠাবে। এরপর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও প্রকাশ করে তফসিল ঘোষণা করবে ইসি।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত শুক্রবার পদত্যাগ করার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এ কারণে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন।
সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। আর স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকালে সংবিধানের ৭৪(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ডেপুটি স্পিকার স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন।
৩৯ দিন আগে
এমপি নজরুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও সিইসিকে জামায়াতের চিঠি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে গতকাল বুধবার দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) চিঠি দিয়ে জানিয়েছে দলটি।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে নির্বাচন কমিশনে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই চিঠিটি পাঠিয়েছেন।
চিঠিতে বলা হয়, সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে পরিচালিত সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
গত ২২ জুলাই জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এতে আরও বলা হয়, গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাখিল করা হলো।
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের অনুলিপি জাতীয় সংসদের স্পিকারের দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
৪৩ দিন আগে
যেকোনো মানদণ্ডে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছে: সিইসি
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে পারফেক্ট বলব না। তবে অতীতের তুলনায় যেকোনো মানদণ্ডে এই নির্বাচন ভালো হয়েছে।’
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভোটের ফলাফল ঘোষণার মঞ্চে বসে তিনি এ কথা বলেন।
সিইসি বলেন, ‘নির্বাচনে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকবেই। ১৮ কোটি ভোটারের দেশ। আপনাদের সহযোগিতা না হলে এই সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে পারতাম না। সবার কাছে কৃতজ্ঞ। অনেক দেশে সাড়ে ১৭ লাখ লোকও নেই। অথচ এই পরিমাণ লোক নির্বাচন আয়োজনে কাজ করেছে।’
তিনি বলেন, ভোট গুনতে একটু সময় লাগছে। আমরা অত্যন্ত স্বচ্ছ থাকতে চাই। লুকোচুরিতে বিশ্বাস করি না।
সিইসি বলেন, আমাদের কষ্ট, চেষ্টা সার্থক হয়েছে। নির্বাচনের ইতিহাসে যেকোনো মানদণ্ডে ভালো নির্বাচন। নিরপেক্ষ, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে পেরেছি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের ফলাফলেও স্বচ্ছতা রাখতে চাই। এটা সম্পূর্ণ হিসাবের ব্যাপার। রিটার্নিং কর্মকর্তা স্বাক্ষর করে যে ফলাফল দিবে সেটাই আমরা দেব। কোনো আনঅফিশিয়াল ফলাফল দেব না।
২০৪ দিন আগে
গণতন্ত্রের ট্রেন যাত্রা শুরু করেছে, স্টেশনে পৌঁছাবেই: সিইসি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ গণতন্ত্রের ট্রেন যাত্রা শুরু করেছে। এই ট্রেন স্টেশনে পৌঁছাবেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
সিইসি বলেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে বাংলাদেশ গণতন্ত্রায়নের ট্রেনে উঠে গেছে। নির্বাচনের দিনগুলোতে মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে গ্রামে-গঞ্জে ছুটেছে। অনেক দিন পর ভোটের যে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, তা মানুষকে উদ্বেলিত করছে।’
তিনি বলেন, চলমান নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরে এসেছে। আস্থা না ফিরলে এত মানুষ ভোটকেন্দ্রে আসতেন না।
নির্বাচনের ব্যাপকতার কথা তুলে ধরে নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমার প্রায় ১৭ লক্ষ লোক কাজ করছে। এই ইলেকশনটা কন্ডাক্ট করার জন্য সাড়ে ৯ লক্ষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রায় আট লক্ষ হচ্ছে যে পোল কালেক্টর যারা বুথ কালেকশন করবেন; এই সাড়ে ১৭ লক্ষ লোককে এক সুতোই গাঁথা এটা যে একটা কত কঠিন কাজ আপনারা একবার একটু কল্পনা করে দেখুন।’
তিনি জানান, দায়িত্ব পালনের আগে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্বাচন-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ সমন্বিত আয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সিইসি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এসেছি। আমরা জানি না সামনে আরও কী চ্যালেঞ্জ আসবে। ইনশাল্লাহ আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে আমরা সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করব। এবং বাংলাদেশ যে গণতন্ত্রের পথে রওনা দিয়েছে। গণতন্ত্রের ট্রেন ইনশাল্লাহ স্টেশনে পৌঁছাবে। আপনাদের সবার সহযোগিতা চাই।’
তিনি জানান, কমিশন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ দেশে আর কোনো পাতানো নির্বাচন হবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমরা একটা সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পক্ষে। আমরা কারও পক্ষে না, আবার কারও বিপক্ষেও না।’
প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, ‘আমি একটা কথা বলেছিলাম যে, এদেশে কোনো পাতানো নির্বাচন আর হবে না। এই পাতানো নির্বাচনের ইতিহাস আমাদেরকে ভুলে যেতে হবে। এখানে এই কেন্দ্র দখলের ইতিহাস আমাদের ভুলে যেতে হবে। ভোটের বাক্স দখলের ইতিহাস আমাদের ভুলে যেতে হবে।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন গুজব বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে নাসির উদ্দিন বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং এআইয়ের তৈরি কনটেন্ট আমাদের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ। এসব আপাতত মোকাবিলায় আমরা অনেক প্রস্তুতি নিয়েছি, তারপরও এসব গুজব মোকাবিলা করে শেষ করা যাচ্ছে না। এসব গুজবের বড় উৎস দেশের সীমানার বাইরে, যেখানে আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। তাই আমরা সত্য তথ্য দিয়ে অপতথ্য মোকাবিলার কৌশল নিয়েছি।’
ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি সামাজিক মাধ্যমে কোনো তথ্য শেয়ার করার আগে যাচাই করার অনুরোধ জানান।
২০৪ দিন আগে
সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ কমিশন: সিইসি
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, নির্বাচনি প্রক্রিয়া হবে ‘অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য’। স্বচ্ছতা নিশ্চিতে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমের জন্য পুরো প্রক্রিয়া উন্মুক্ত রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে দেশি-বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।
সিইসি বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে সমন্বিত ও বহুমাত্রিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইন সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ এবং সুপরিকল্পিত কার্যক্রমের মাধ্যমে আস্থা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী নির্বাচনসংক্রান্ত আইন ও বিধিমালায় সংশোধন এনে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা জোরদার করা হয়েছে।
ভোটার তালিকা হালনাগাদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশব্যাপী কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় ৪৫ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ২৭ লাখ নারী। এতে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৭০ লাখের বেশি। তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং এ কাজে জাতিসংঘসহ উন্নয়ন অংশীদাররা সহযোগিতা করেছে।
প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ডাকযোগে ভোটের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সীমিত সময় সত্ত্বেও প্রায় ৮ লাখ প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন করেছেন, যা উৎসাহব্যঞ্জক। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে নির্ধারিত শ্রেণির ভোটারদের জন্যও ডাক ভোটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যালট ফেরত এসেছে।
নাসির উদ্দিন জানান, নির্বাচন দিবস উপলক্ষে সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত। একাধিক ধাপের যাচাই-বাছাই শেষে ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যালট পেপারসহ সব নির্বাচনি সামগ্রী সংশ্লিষ্ট এলাকায় পাঠানো হয়েছে এবং কেন্দ্রভিত্তিক বিতরণ চলছে। পোলিং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। ভোটার অংশগ্রহণ বাড়াতে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে।
ভোটারদের সুবিধার্থে আজ ও আগামীকাল সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং কর্মকর্তারা প্রার্থীদের এজেন্ট, পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ভোটগ্রহণ ও গণনা পরিচালনা করবেন। ভোট শেষে কেন্দ্রেই গণনা ও ফল ঘোষণা করা হবে, পরে রিটার্নিং কর্মকর্তারা তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করবেন।
লিঙ্গ, বয়স বা পটভূমি নির্বিশেষে সব ভোটারকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সিইসি বলেন, যথাযথ পরিচয় যাচাইয়ের মাধ্যমে গোপন ব্যালটে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। যেকোনো বিরোধ আইন ও সংবিধান অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হবে।
স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ব্যাপক দেশি-বিদেশি অংশগ্রহণের কথাও তুলে ধরেন তিনি। ৪৫টি দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধি, প্রায় ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক, যার মধ্যে প্রায় ২২০ জন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে এবং ১৬০ জনের বেশি আন্তর্জাতিক সাংবাদিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন। দেশে ৮১টি নিবন্ধিত সংস্থার ৪৫ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক ও ৬০ হাজারের বেশি সাংবাদিককে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সব স্বীকৃতি যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে।
গণমাধ্যমের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে সিইসি বলেন, ‘শুরু থেকেই আমরা স্বচ্ছতাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। কোনো বিচ্যুতি থাকলে তা চিহ্নিত করতে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।’
নির্বাচন সামনে রেখে তিনি কমিশনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।’ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সিইসি গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষকদের পেশাদারত্বের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাদের প্রতিবেদন গণতান্ত্রিক আস্থা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
২০৫ দিন আগে
অস্বাভাবিক ভোটার স্থানান্তরের অভিযোগ বিএনপির, সিইসির কাছে আসনভিত্তিক তথ্য দাবি
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কিছু নির্বাচনি এলাকায় অস্বাভাবিক সংখ্যক ভোটার স্থানান্তরিতের অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। দলটি নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে এলাকাভিত্তিক ভোটার স্থানান্তরের বিস্তারিত তথ্য দাবি করেছে।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘গত এক-দেড় বছরের মধ্যে বিশেষ কিছু এলাকায় বিপুল সংখ্যক নতুন ভোটার হয়েছে, যা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। ইসি জানিয়েছে কোনও আসনেই ২ থেকে ৩ হাজারের বেশি মাইগ্রেশন হয়নি। কিন্তু আমরা এই তথ্যে সন্তুষ্ট হতে পারিনি। আমাদের কাছে অভিযোগ আছে, অনেক জায়গায় একটি হোল্ডিং নাম্বারে যেখানে ৫ জন থাকার কথা, সেখানে ২০-৩০ জন ভোটার করা হয়েছে।” তিনি এই মাইগ্রেশনের সঠিক ও আসনভিত্তিক তথ্য প্রকাশের দাবি জানান।
নির্বাচনি প্রচারণায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ধরে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘কোনও কোনও এলাকায় ধর্মীয় বিশ্বাস ও আবেগকে আহত করা হচ্ছে। প্রচার করা হচ্ছে যে কবরে ফেরেশতারা তিনটি প্রশ্নের বদলে চারটি প্রশ্ন করবেন; চতুর্থ প্রশ্ন হবে—অমুক প্রতীকে ভোট দিয়েছো কিনা? এটি হাস্যকর এবং চরম দুর্ভাগ্যজনক। মানুষের বিশ্বাস নিয়ে খেলা করা কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ, বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ও নির্বাচন কমিশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া।
২১৫ দিন আগে
সিইসির সঙ্গে বিএনপির বৈঠক শুরু
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠকে বসেছে বিএনপি।
বৈঠকটি আজ (রবিবার) দুপুর ১২টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে শুরু হয়।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ নেন।
দলের অন্য সদস্যরা হলেন— বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ, বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ও নির্বাচন কমিশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া।
২১৫ দিন আগে