জামালপুর
জামালপুরে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন
জামালপুরে এক কিশোরীকে অপহরণ করে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের মামলায় ৩ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আব্দুর রহিম আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। আসামিদের উপস্থিতিতেই বিচার কার্য সম্পন্ন হয়।
মামলার সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট ফজলুল হক জানান, ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর সকাল ৭টার দিকে জামালপুর সদর উপজেলার ভারুয়াখালী হরিপুর গ্রামের কবির হোসেনের কিশোরী কন্যা প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। এ সময় বাড়ির পাশের রাস্তায় প্রাইভেটকার নিয়ে ওঁৎ পেতে থাকা শামীমের নেতৃত্বে ৩ থেকে ৪ জনের একটি দল তাকে অপহরণ করে নিয়ে যান। তারা ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে ধর্ষণ করেন। সে সময় ভুক্তভোগী ভারুয়াখালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা কবির হোসেন ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারি জামালপুর সদর থানায় অপহরণ ও ধর্ষণের মামলা করেন। সেই মামলায় আটজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
মামলায় আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. জাবেদ আলী।
১৫ দিন আগে
জামালপুরে অটোরিকশা-ভটভটি সংঘর্ষে নিহত ২
জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ সড়কের মেলান্দহ উপজেলায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ভটভটির সংঘর্ষে দুই নারী নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও তিনজন।
রবিবার (১৯ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার বেতমারি গ্রামের কাছে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত দুইজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
আহতরা হলেন— দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার কাঠারবিল এলাকা বাসিন্দা মজিবর (৫৫), জীবন মিয়া (৩৫) ও তুষার (৩৮) ।
পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার সময় দেওয়ানগঞ্জ থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জামালপুর যাচ্ছিল। অটোরিকশাটি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ভটভটির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশায় থাকা ৫ জন গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে হাসপাতালে নিয়ে যান।
জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. উজ্জ্বল কুমার সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুর্ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে হাসপাতালে আনা হয়। এর মধ্যে দুই নারী হাসপাতালে আনার আগেই মৃত্যুবরণ করেন। বাকি তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতদের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানান ডা. উজ্জ্বল কুমার সরকার।
মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম মাহমুদুল হক বলেন, দুর্ঘটনায় দুই নারী নিহত হয়েছেন। খবর পাওয়ার পরপরই জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
১৬ দিন আগে
জামালপুরে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে ৭ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন: বকশীগঞ্জ উপজেলার রাশেদুর রহমান, বিজু মিয়া, বাদশা মিয়া, জসিম মিয়া, আজমত আলী, মনিরুজ্জামান ও আশরাফুল ইসলাম। তাদের বাড়ি বকশীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করা হয়।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণী ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৫ মে রাতে অটোরিকশায় চড়ে ঝগড়ারচর বাজার থেকে জানকীপুর মাজালিয়ায় বাড়ি ফিরছিলেন ওই গৃহবধূ। পথে নিলক্ষিয়া বাজারের কাছে অটোরিকশাচালকের সহায়তায় কয়েকজন তাকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে একটি নির্জন বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তারা ভুক্তভোগীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেন।
পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর রাত সাড়ে ৪টার দিকে তার স্বামী নিলক্ষিয়া বাজার এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় বকশীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করা হয়।
তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিজ্ঞ বিচারক ৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যেককে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। একই মামলায় ইদ্রিস আলী নামে এক আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ফজলুল হক। আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মোকাম্মেল হক।
২৯ দিন আগে
জামালপুরে ২৪ ঘণ্টায় পৃথক ঘটনায় স্কুলছাত্রীসহ চারজনের মৃত্যু
জামালপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় পৃথক ঘটনায় এক স্কুলছাত্রীসহ চারজনের অপমৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে, একজনকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায়, একজনকে গাছে ঝুলন্ত এবং অপর একজনকে ট্রেনে কাটা অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার পাগলাপাড়া গ্রামে পানির ট্যাংকে বিদ্যুতের সংযোগ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আবু বক্কর (৬০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, নিজ বাড়িতে পানির ট্যাংকের বৈদ্যুতিক লাইনের কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন আবু বক্কর। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, আজ সকালে বকশীগঞ্জ উপজেলার আইরমারী গ্রামে নিজ বাড়ির পাশের একটি কামরাঙা গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় মোতালেব সরকার (৫৫) নামে এক কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি মৃত আবদুল হাই সরকারের ছেলে।
ওসি মকবুল হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
অন্যদিকে, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জামালপুর সদর উপজেলার চাঁনপুর গ্রামে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে ঐশামনি (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রী। সে এনায়েত করিম ওরফে ইব্রাহিম মাস্টারের মেয়ে।
নারায়ণপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মকবুল হোসেন জানান, ঘটনার আগে ঐশামনি তার মাকে বলেছিল, তার লেখাপড়া ভালো লাগে না। মা তাকে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে উৎসাহ দেন। কিছুক্ষণ পর রান্নাঘর থেকে ফিরে এসে তিনি মেয়েকে ঘরের মধ্যে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্থানীয়রা তাকে নামিয়ে মৃত অবস্থায় পান।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এর আগে, বুধবার রাতে জামালপুর রেলস্টেশনের অদূরে ট্রেনে কাটা পড়ে সুফিয়া বেগম (৬০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়। তিনি শহরের ডাকাপাড়া এলাকার আব্দুল আজিজের স্ত্রী।
স্বজনরা জানান, বুধবার মাগরিবের নামাজের পর থেকে সুফিয়া বেগম নিখোঁজ ছিলেন। পরে রেলওয়ে পুলিশের মাধ্যমে তার মরদেহ শনাক্ত করা হয়।
জামালপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, স্থানীয় রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ভুয়াপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ওই নারীর মৃত্যু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় পরে পিবিআইয়ের সহায়তায় আঙুলের ছাপের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
তিনি জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।
৩৩ দিন আগে
জামালপুরে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন। জরিমানা আদায় করে ভুক্তভোগীকে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেছেন তিনি।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার শীলদহ গ্রামের মো. শিপন (২১), মো. ইব্রাহিম (২৭) ও মো. ইউসুফ আলী (২২) ।
রাষ্টপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-১-এর সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট ফজলুল হক এবং আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. মাহফুজুর রহমান মন্টু ও হাফিজুর রহমান হিরু মিয়া।
অ্যাডভোকেট ফজলুল হক জানান, ইসলামপুর উপজেলার শিলদহ গ্রামের প্রতিবেশী যুবকের সঙ্গে ভুক্তভোগীর প্রেমের সম্পর্ক হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ১৯ এপ্রিল রাত ৯টার দিকে তারা বাড়ির কাছাকাছি এক জঙ্গলে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন করেন। ঘটনাস্থলের পাশেই ওঁৎ পেতে থাকা শিপন, ইব্রাহিম ও ইউসুফ হঠাৎ সেখানে উপস্থিত হলে সাদিক ভুক্তভোগীকে একা ফেলে দৌড়ে পালিয়ে যান। সুযোগ পেয়ে এবং তাদের বিষয়টি সবাইকে বলে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে শিপন, ইব্রাহিম ও ইউসুফ ভুক্তভোগীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন।
পরে ভুক্তভোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ধর্ষকরা তাকে রাত ১০টার দিকে বাড়ির সামনে রেখে পালিয়ে যান। এরপর ভুক্তভোগী বাড়িতে গিয়ে ঘটনার বিস্তারিত তার পরিবারকে জানায়।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীর বাবা ৪ জনকে আসামী করে ইসলামপুর থানায় একটি মামলা করেন। মামলার পর আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হলে তারা বিচারকের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
মামলার দুই বছর পর ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আজ (বৃহস্পতিবার) এ রায় ঘোষণা করেন। প্রেমিক যুবকটির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে খালাস দিয়েছেন।
৮৯ দিন আগে
জামালপুর যাচ্ছে লিমনের মরদেহ, বাদ মাগরিব জানাজা
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ আজ সোমবার সকাল ৯টার দিকে হযরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আনুষ্ঠানিকতা শেষে জামালপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণ করেন তার বাবা মো. জহুরুল হক ও ছোট ভাই যোবায়ের আহমেদ।
নিহত লিমনের কাকা মো. আসাদুল্লাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি আরও জানান, দুপুরের মধ্যে লিমনের মরদেহ মাদারগঞ্জ উপজেলার লালডোবা গ্রামের বাড়িতে এসে পৌঁছাবে। তার জানাজার নামাজ বাদ মাগরিব স্থানীয় লালডোবা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হবে। ইতোমধ্যেই কবর খননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এলাকায় মাইকিং করে জানাজা নামাজের কথা প্রচার করা হচ্ছে। মরদেহের সঙ্গে লিমনের বাবা-মা, একমাত্র ভাই ও স্বজনরা রয়েছেন।
ফ্লোরিডায় আনুষ্ঠানিকতা শেষে পরিবারের পক্ষে লিমনের মরদেহ গ্রহণ করেন তার খালা তাসলিমা বেগম। তিনি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। মরদেহের সঙ্গে তিনি বাংলাদেশে আসছেন। তার ফ্লাইট আজ (সোমবার) দুপুর ১টার দিকে হযরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে বলে জানান মো. আসাদুল্লাহ।
জামিল আহমেদ লিমনের বাবা মো. জহুরুল হক, মা লুৎফুন্নেছা ও ছোট ভাই যোবায়ের আহমেদ দীর্ঘদিন থেকে ঢাকার হাসনাবাদ এলাকায় বসবাস করছেন। জহুরুল হক পেশায় টেক্সটাইল মিলের কর্মকর্তা ছিলেন, মা গৃহিনী এবং একমাত্র ছোট ভাই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) স্নাতকে অধ্যয়নরত।
লিমনের মৃত্যুতে তার পরিবারের পাশাপাশি এলাকায় চলছে শোকের মাতম।
৯৩ দিন আগে
জামালপুরে কালবৈশাখী ঝড়ে গাছচাপায় মা ও দুই মেয়ে নিহত
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে বসতবাড়ির ওপর গাছ ভেঙে পড়ে মা ও দুই মেয়ে নিহত হয়েছেন।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে মেলান্দহ উপজেলার নয়ানগর ইউনিয়নের পূর্ব দাগী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আজ (সোমবার) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিন্নাতুল আরা।
নিহতরা হলেন— দাগী এলাকার মৃত গনি মণ্ডলের স্ত্রী খুকি বেগম (৬৫) এবং তার দুই মেয়ে ফরিদা আক্তার (৪০) ও ফতে আক্তার (৩৭)।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাতে নিজ বসতঘরের একই বিছানায় ঘুমিয়ে ছিলেন মা ও দুই মেয়ে। রাত গভীর হলে হঠাৎ দমকা হাওয়ার সঙ্গে নেমে আসে প্রচণ্ড ঝড়। ওই মুহূর্তে ঘরের পাশের একটি বড় মেহগনি গাছ উপড়ে গিয়ে টিনের ঘরের ওপর সজোরে ভেঙে পড়ে। এই ঘটনায় ঘরের ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা তিনজনই গাছের নিচে চাপা পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তারা নিহত হন।
রাতের অন্ধকার ও ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারকাজ সম্ভব হয়নি। পরে সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাছের নিচ থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন।
ইউএনও জিন্নাতুল আরা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দলকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। গাছের নিচ থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।
১০০ দিন আগে
জামালপুরে গৃহবধূকে অপহরণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
জামালপুরে গৃহবধূ অপহরণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় ৩ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ আদেশ দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— জামালপুর পৌর এলাকার খুপিবাড়ী গ্রামের বুলবুল আহমেদ (৪৭), পাথালিয়া নাওভাঙ্গা চর গ্রামের কালাম ওরফে মাক্কু (৫২) এবং একই গ্রামের রুকু (৫৭)।
জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট ফজলুল হক জানান, শহরের পাথালিয়া নাওভাঙ্গা চর গ্রামের মো. ফরহাদ তার স্ত্রীকে নিয়ে বাসার পাশে শাহ জামাল (রহ.) মাজারের সামনে একটি চায়ের দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। সে সময় বুলবুল আহমেদ, কালাম ওরফে মাক্কু ও রুকু প্রায়ই তাদের দোকানের সামনে এসে ওই গৃহবধূর দিকে খারাপ নজর ও কুপ্রস্তাব দিতেন। এতে বাধা দিলে তারা ওই নারীকে অপহরণ করে ধর্ষণ করার হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
এর জের ধরে ২০২৩ সালের ১৪ মে রাত ১০টার দিকে শাহ জামাল (রহ.) মাজারের সামনে থেকে ভুক্তভোগীকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে অপহরণ করেন আসামিরা। তারা প্রথমে তাকে খুপিবাড়ী গ্রামের বুলবুলের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে রুকুর সঙ্গে তাকে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তারা। ভুক্তভোগী বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাকে বৈদ্যুতিক তার দিয়ে মারধর করেন। এরপর তিন আসামি মিলে তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেন।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে তারা অটোরিকশায় করে নাওভাঙ্গা চর গ্রামের রুকুর বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাকে আবারও ধর্ষণ করা হয়। পরদিন ১৫ মে ওই গৃহবধূ পালিয়ে এসে তার স্বামীকে ঘটনার বিস্তারিত জানান।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীর স্বামী ফরহাদ বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় অপহরণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলা করেন। পরে মামলাটি জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ স্থানান্তর করা হয়।
মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক আজ এ রায় ঘোষণা করলেন।
এ ঘটনায় রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট ফজলুল হক এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোকাম্মেল হক ও এস এম কামরুল হাসান উল্লাস।
১০৩ দিন আগে
জামালপুরে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
জামালপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা মামলায় স্বামী মো. আমিনুলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ আদেশ দেন।
ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. ফজলুল হক জানান, বিগত ২০২২ সালের ২৪ এপ্রিল রাত ১০টায় জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বেলুয়ার চর গ্রামের আমজল আলীর পুত্র মো. আমিনুল ২০ হাজার টাকা যৌতুকের দাবিতে তার স্ত্রী সুজানা আক্তারকে (২৩) নির্মমভাবে প্রহার করে হত্যা করেন। পরে নিহত গৃহবধূর পিতা সুরুজ মিয়া বাদী হয়ে আমিনুলসহ ৩ জনের নামে দেওয়ানগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন।
এ সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন বলে জানান তিনি।
১২৭ দিন আগে
জামালপুরে ভাসমান সেতু উল্টে ৫ শিশু নিহত
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মিত ভাসমান সেতু ধসে নিখোঁজ আরও দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এতে করে ওই দুর্ঘটনায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচজনে দাঁড়িয়েছে।
শনিবার (২১ মার্চ) বিকেলে দেওয়ানগঞ্জ থানা মোড় এলাকায় আনন্দভ্রমণে আসা অতিরিক্ত মানুষের চাপে সেতুটি উল্টে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো— দেওয়ানগঞ্জের ডাকাতিয়াপাড়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের মেয়ে মায়ামনি (১০) ও ছেলে হাফেজ মিহাদ (১৬); ঝালুরচর এলাকার শের আলীর ছেলে আব্দুল মোতালেব (৮) ও মেয়ে খাদিজা (১৪) এবং বেলতলি এলাকার হাবিবুল্লাহর ছেলে আবির হোসেন (১৫)।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ড্রাম ও বাঁশ দিয়ে নির্মিত ভাসমান সেতুটিতে নারী ও শিশুসহ অসংখ্য মানুষ উঠে পড়ে। অতিরিক্ত মানুষের চাপে সেতুর পশ্চিমাংশের বড় একটি অংশ হঠাৎ উল্টে যায়। এতে শতাধিক মানুষ পানিতে পড়ে যান। তাদের অধিকাংশই সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও বেশ কয়েকটি শিশু নিখোঁজ হয়।
খবর পেয়ে দেওয়ানগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা দর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে জামালপুর থেকে ডুবুরি দল এসে অভিযানে অংশ নেয়। রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ছয় শিশুকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পাঁচজনকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্য এক শিশুকে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
দেওয়ানগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের লিডার মুবিন খান জানান, আর কোনো নিখোঁজ না থাকায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।
দুর্ঘটনার পর রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জামালপুরের নবাগত পুলিশ সুপার ফারহানা ইয়াসমিন। তিনি জানান, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত মানুষ সেতুতে ওঠায় এবং কয়েকজন রেলিং ধরে ঝুলে থাকায় ভারসাম্য হারিয়ে সেতুটি উল্টে যায়। তিনি জনসাধারণকে চলাচলে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে, দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোকে সান্ত্বনা দিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি প্রত্যেক নিহতের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দেন।
একসঙ্গে পাঁচ শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
১৩৬ দিন আগে