ইরাক
ইরাকে যুবকের মৃত্যু, ভেঙে গেল পরিবারের দশ লাখ টাকার স্বপ্ন
ফেনী সদর উপজেলার মেহেদি হাসান নাহিদ (২১) নামের এক যুবকের ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলের আরবিল শহরে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দু্জন মৃত্যুবরণ করেছেন। পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় নাহিদ ৫ মাস আগে পাড়ি জমান ইরাক। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে তার পরিবার। ১০ লাখ টাকা ঋণ করে তার বাবার মাধ্যমে নাহিদকে প্রবাসে পাঠানো হয়েছিল।
বাগদাদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এক শোকবার্তায় জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে।
নিহত নাহিদ উপজেলার শর্শদি ইউনিয়নের দেবীপুর বিসিক শিল্পনগরী-সংলগ্ন মৃধা বাড়ির মোহাম্মদ মাহবুবুল হকের ছেলে। বাবা-মায়ের দুই সন্তানের মধ্যে নাহিদ ছোট ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মাহবুবুল হক ৮ বছর ধরে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে কর্মরত। গত বছরের অক্টোবর মাসে বাবার হাত ধরে কাজের সন্ধানে সেখানে যান নাহিদ। গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ইফতারের পরে নাহিদ ও তার সঙ্গে থাকা আরও দুই বাংলাদেশি একসঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিক তাদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেদিন রাতে নাহিদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোহাম্মদ তারেক (৪৫) ও তার ছেলে মো. সাব্বিরসহ (২২) তিনজন হাসপাতাল থেকে বাসায় গিয়ে সেহরি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন তাদের কোনো সাড়া না পেয়ে বাসায় গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নাহিদের চাচা মনিরুজ্জামান বলেন, পরিবারের ভাগ্য ফেরাতে ১০ লাখ টাকা ঋণ করে তার বাবার মাধ্যমে নাহিদকে প্রবাসে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে সকলে শোকে স্তব্ধ। ছেলে হিসেবেও নাহিদ অনেক নম্র-ভদ্র ছিল। তার পরিবার আর্থিকভাবে খুবই খারাপ অবস্থায় রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে যদি তাদের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে অনেক বেশি উপকৃত হবে বলে জানান তিনি।
নাহিদের মা হোসনে আরা বলেন, শেষবারের মতো আমার সন্তানের মুখ দেখতে চাই। তাকে দেশে আনার বিষয়ে সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি। অর্থনৈতিকভাবে আমার পরিবার একদম শেষ হয়ে গেছে। আমি সকলের সহযোগিতা চাই।
এ ব্যাপারে ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুলতানা নাসরিন কান্তা বলেন, মৃত্যুর বিষয়টি এখনও অবগত নই। পরিবারের পক্ষ থেকেও আমাদের জানানো হয়নি। অবগত হলে বিষয়টি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে বিধি অনুযায়ী সহায়তা করা হবে।
১৪ দিন আগে
ইরাকের শপিং মলে আগুন, নিহত ৬১
ইরাকের একটি শপিং মলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ৬১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে। দুর্ঘটনাকবলিত শপিং মলটি মাত্র এক সপ্তাহ আগে চালু করা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) ইরাকের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ খবর জানিয়েছে। দেশটির ওয়াসিত প্রদেশের কুত শহরে রয়েছে ওই শপিং মলটি। বুধবার (১৬ জুলাই) গভীর রাতে সেখানে আগুন লাগে।
স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, পাঁচ তলাবিশিষ্ট কর্নিশ হাইপারমার্কেটটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে ইরাকের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় জানায়, এ অগিকাণ্ডে নারী ও শিশুসহ ৬১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৪ জনের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। এ ছাড়া, ভবনে আটকে পড়া ৪৫ জনেরও বেশি মানুষকে জীবিত উদ্ধার করেছে সিভিল ডিফেন্স টিম। তবে এখনো কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল মলের দ্বিতীয় তলায়। সেখানে সুগন্ধী ও প্রসাধনী বিক্রি হতো। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। অধিকাংশ মানুষ দম বন্ধ হয়ে মারা গেছেন।
এ ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ৬০ বছর বয়সী আবদুল রেদা তাহাব।
আরও পড়ুন: ইঞ্জিনে আগুন লাগায় ঢাকায় জরুরি অবতরণ তুর্কিশ বিমানের
ওয়াসিত প্রদেশের গভর্নর মোহাম্মদ আল-মিয়াহি এ দুর্ঘটনায় তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছেন।
তিনি জানান, এ ঘটনায় ওই ভবনের মালিক ও শপিং মলের মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তবে মামলায় তাদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে তা স্পষ্ট করেননি তিনি।
যথাযথ অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই ভবনটিকে একটি শপিং সেন্টার বানানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তিনি এই ঘটনার তদন্ত করতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্যোগ ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
ইরাকে আগেও দুর্বল ভবন নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে ২০২১ সালে একটি হাসপাতাল এবং ২০২৩ সালে একটি বিয়ের হলের অগ্নিকাণ্ড উল্লেখযোগ্য। দুটি ঘটনাতেই বহু মানুষের মৃত্যু হয়। বেঁচে ফেরা মানুষ ও নিহতদের স্বজনরা এবারও জবাবদিহির দাবি জানিয়েছেন।
২৪৭ দিন আগে
ইরাকের আদমশুমারির ফল ঘোষণা, জনসংখ্যা ৪ কোটি ৬১ লাখ
ইরাকে প্রায় চার দশক পরে অনুষ্ঠিত আদমশুমারিতে দেশটির জনসংখ্যা বেড়ে ৪ কোটি ৬১ লাখে পৌঁছেছে। গত বছর শুমারির শুরুতে করা প্রাথমিক অনুমানের চেয়েও যা ১০ লাখ বেশি। শিক্ষা ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বি জনসংখ্যার দিক থেকে এগিয়ে কুর্দিরা। সোমবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে শুমারির ফলাফল ঘোষণা করেন ইরাকের পরিকল্পনা মন্ত্রী মোহাম্মদ তামিম।
এর আগে ২০০৯ সালের বেসরকারি এক হিসাবে দেশটির জনসংখ্যা ছিল ৩ কোটি ১৬ লাখ। ইরাকের কর্মকর্তারা বলেন, ‘ভবিষ্যতে ইরাকের সম্পদ বণ্টন ও ব্যবস্থাপনা ক্ষেত্রে এই শুমারির তথ্য সহযোগিতা করবে বলে তদের বিশ্বাস। দীর্ঘদিন পরে শুমারি অনুষ্ঠিত হওয়ায় একে সরকারের সাফল্য হিসেবে দেখছেন তারা।’
এ বিষয়ে দেশটির পরিকল্পনা মন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘দেশের সার্বিক পরিস্থিতি উন্নয়নে বর্তমান সরকারের কতখানি দৃঢ়সংকল্প, তারই প্রমাণ বহন করে এই উদ্যোগ।’
দশকের পর দশক ধরে চলা যুদ্ধে নানা দিক থেকেই ক্ষত-বিক্ষত ইরাক। দেশটির অর্থনীতিতে চলছে অস্থিরতা। দেশে চলমান বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে মনোনিবেশ করেছে দেশটির সরকার।
আরও পড়ুন: আইসিজে’র প্রেসিডেন্ট নওয়াফ সালাম লেবাননের নতুন প্রধানমন্ত্রী
এরই ধারাবাহিকতায় ইরাকের আদমশুমারির আয়োজন করা হয়েছে। শুমারিতে দেশটির অর্থনৈতিক, শিক্ষা ও বাসস্থান সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়াও ইরাক এবং দেশটির উত্তরাঞ্চলের আধা-স্বায়ত্বশাসিত কুর্দি অঞ্চলের তথ্য শুমারিতে আলাদাভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
শুমারির তথ্যমতে, ফেডারেল ইরাকের মোট জনসংখ্যার ৭০ দশমিক ২ শতাংশ শহরে বাস করেন। অন্যদিকে কুর্দি জনগোষ্ঠীর ৮৪ দশমিক ৬ শতাংশ লোক শহরগুলোতে বাস করেন।
ফেডারেল ইরাকের থেকে অর্থনৈতিক দিক থেকেও তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছেন কুর্দিরা। ফেডারেল ইরাকের তুলনায় কর্মক্ষম জনসংখ্যা বেশি কুর্দি অঞ্চলে। কুর্দিতে ৪৬ শতাংশ জনগণ অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল, সেখানে ইরাকে ৪১ দশমিক ৬ শতাংশ।
এমনকি শিক্ষাক্ষেত্রে যেখানে ৯৩ শতাংশ কুর্দি শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়, সেখানে ফেডারেল ইরাকের ৮৮ শতাংশ শিশু স্কুলে যায়। তবে শুমারির তথ্যমতে, ফেডারেল ইরাকের জনগণ বাড়ির মালিকানা, বিশুদ্ধ পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে ভালো অবস্থানে রয়েছে।
শুমারির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে ইরাকের পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, ‘চার দশকের মধ্যে প্রথমবার আয়োজিত এই আদমশুমারি সফলতার সঙ্গে শেষ করেছে ফেডারেল সরকার।’
গত নভেম্বরে আদমশুমারি পরিচালনা করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দেশটির ১৮টি প্রদেশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এ কাজে ১ লাখ ২০ হাজার গবেষক নিয়োগ করে সরকার।
এর আগে ১৯৮৭ সালে যখন সাদ্দাম হোসেন ক্ষমতায় থাকাকালীন আদমশুমারি করা হয়েছিল ইরাকে।
৩৮৯ দিন আগে
গোয়েন্দাদের ভুল তথ্যের ভিত্তিতে ইরাকে যুদ্ধ হয়: অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী
গণবিধ্বংসী অস্ত্র (ডব্লিউএমডি) সম্পর্কে গোয়েন্দাদের ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ইরাক যুদ্ধ পরিচালিত হয় বলে স্বীকার করেছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জন হাওয়ার্ড।
বুধবার(১ জানুয়ারি) হাওয়ার্ড বলেছেন, এটি হতাশাজনক যে, ইরাকে গণবিধ্বংসী অস্ত্র (ডব্লিউএমডি) শনাক্ত করতে গোয়েন্দাদের অনুসন্ধানগুলোতে ভুল হয়েছিল। তবে তিনি এখনও বিশ্বাস করেন, অস্ট্রেলিয়াকে যুদ্ধে জড়িত করার সিদ্ধান্তটি জাতীয় স্বার্থে ছিল।
ন্যাশনাল আর্কাইভ অব অস্ট্রেলিয়ার (এনএএ) ২০০৪ সালের পূর্বের মন্ত্রিসভার নথি প্রকাশের সঙ্গে তার মন্তব্যগুলো মিলে যায়।
প্রতি বছর ১ জানুয়ারি এনএএ ২০ বছর আগের মন্ত্রিসভার নথি জনসম্মুখে প্রকাশ করে।
আরও পড়ুন: ক্যানবেরায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী উদযাপন
২০০৩ সালের নথিগুলোর কিছু নিখোঁজ হওয়ার কারণে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে বিলম্বে প্রকাশিত হয়েছিল। তাতে দেখা গেছে, হাওয়ার্ডের সরকার ২০০৩ সালের জানুয়ারিতে ইরাকে সেনা মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছিল। ওই বছরের কয়েক মাস আগে মার্চে অস্ট্রেলিয়াকে প্রকাশ্যে ইরাক যুদ্ধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করা হয়।
২০০৪ সালের একটি তদন্তে দেখা গেছে, অস্ট্রেলিয়ান গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইরাকের গণবিধ্বংসী অস্ত্রের পরিমাণ এবং প্রকৃতি সঠিকভাবে বিচার করতে ব্যর্থ হয়েছিল।
অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে দ্বিতীয় সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী হাওয়ার্ড বুধবার বলেছেন, যুদ্ধে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে।
বল প্রয়োগের অনুমোদনের জন্য জাতিসংঘের কোনো অনুমোদন ছাড়াই সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ ২০০৩ সালের মার্চ মাসে ইরাক আক্রমণ শুরু করেছিলেন।
তিনি অভিযোগ করেছিলেন, মিশনটি ছিল ‘ইরাককে গণবিধ্বংসী অস্ত্র থেকে নিরস্ত্র করা, সন্ত্রাসবাদে সাদ্দাম হোসেনের সমর্থন শেষ করা এবং ইরাকি জনগণকে মুক্ত করা।‘ যা আসলে মিথ্যা বা ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়েছিল।
আরও পড়ুন: ক্যানবেরায় টিফার আওতায় বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক মে মাসে
৪৪৫ দিন আগে
ইরাকে মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে রকেট হামলা
ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলীয় আনবার প্রদেশের আইন আল-আসাদ বিমানঘাঁটিতে চারটি রকেট হামলা চালানো হয়েছে।
শুক্রবার(২৬ জুলাই) ইরাকি সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তা এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আনবার অপারেশন কমান্ডের সাদ আল-ওবাইদি বলেন, বৃহস্পতিবার(২৫ জুলাই) গভীর রাতে অজ্ঞাত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিক্ষেপ করা দুটি রকেট বিমানঘাঁটির ভেতরে আঘাত হানে।
এই বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছেন বলেও জানান তিনি।
আল-ওবাইদি বলেন, হামলাকারীদের খোঁজে বিমানঘাঁটির আশপাশের এলাকায় তল্লাশি শুরু করেছে ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী।
আরও পড়ুন: ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে মার্কিন বিমান হামলায় নিহত ১৬, আহত ২৫: মুখপাত্র
তবে এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করেনি।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে 'ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক' নামে পরিচিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন বাহিনীর ঘাঁটিতে শত শত রকেট ও ড্রোন হামলা চালায়।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলে হুতি ও ইরাকের শিয়া মিলিশিয়ার যৌথ ড্রোন হামলা
৬০৩ দিন আগে
ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে মার্কিন বিমান হামলায় নিহত ১৬, আহত ২৫: মুখপাত্র
ইরাক সরকার শনিবার বলেছে, ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে আধাসামরিক হাশদ শাবি বাহিনীর উপর মার্কিন বিমান হামলায় বেসামরিক নাগরিকসহ ১৬ জন নিহত এবং ২৫ জন আহত হয়েছেন।
সরকারের মুখপাত্র বাসিম আল-আওয়াদি এই হামলাকে 'নির্লজ্জ আগ্রাসন' অভিহিত করে ইরাকি নিউজ এজেন্সিকে (আইএনএ) বলেন, ‘মার্কিন প্রশাসন ইরাকের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে। কারণ, তাদের বিমানগুলো আকাশাত ও আল-কাইম এলাকায় আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর অবস্থানের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী বেসামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে।’
আইএনএ-র মতে, ‘আল-আওয়াদি বিমান হামলা সম্পর্কে সরকার ও মার্কিন প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় রয়েছে বলে দাবি করা প্রতিবেদনগুলোও অস্বীকার করে বলেন যে এই প্রতিবেদনগুলো ‘আন্তর্জাতিক জনমতকে বিভ্রান্ত করা এবং এই অপরাধের আইনী দায় এড়ানোর লক্ষ্যে একটি মিথ্যা দাবি’।’
আরও পড়ুন: গাজায় ২৪ ঘণ্টায় ১৫০ জন নিহত: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়
তিনি আরও বলেন, সরকার বিশ্বাস করে যে ইরাকের মাটিতে আন্তর্জাতিক জোট বাহিনীর উপস্থিতি ইরাকের সুরক্ষা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংঘাতে ইরাককে জড়িত করার ন্যায্যতা হয়ে উঠেছে।
আল-আওয়াদি সতর্ক করে বলেন, সাম্প্রতিক বিমান হামলা ইরাক ও ওই অঞ্চলের নিরাপত্তাকে অতল গহ্বরের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরাক ও সিরিয়ায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) ও তাদের সহযোগী মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ৮৫টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
আরও পড়ুন: আফ্রিকার বিরোধপূর্ণ তেলসমৃদ্ধ অঞ্চল আবেইতে সংঘর্ষে নিহত ৫২
চীনে ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩১, এখনও নিখোঁজ অনেক
৭৭৭ দিন আগে
ইরাকের উত্তরাঞ্চলে বিয়ের অনুষ্ঠানে আগুন লেগে নিহত শতাধিক
ইরাকের উত্তরাঞ্চলে এক খ্রিস্টান বিয়ের আয়োজক হলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১০০ জন নিহত ও ১৫০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানিয়েছে বলেছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
কর্তৃপক্ষ বলেছে, ইরাকের নিনেভেহ প্রদেশের হামদানিয়া এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এটি রাজধানী বাগদাদ থেকে প্রায় ৩৩৫ কিলোমিটার (২০৫ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে মসুল শহরের ঠিক বাইরে এটি খ্রিস্টান অধ্যুষিত এলাকা।
টেলিভিশন ফুটেজে দেখা গেছে, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে বিয়ের হলের ওপর দিয়ে আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়ছে।
বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে তাদের অক্সিজেন ও ব্যান্ডেজ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ইরাকের কুর্দি অঞ্চলে সামরিক বিমানবন্দরে হামলায় নিহত ৩
নিনেভেহ প্রদেশের স্বাস্থ্য বিভাগ মৃতের সংখ্যা ১১৪ জনে উন্নীত করেছে। ইরাকের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাইফ আল-বদর এর আগে ইরাকের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কে আহতের সংখ্যা ১৫০ বলে জানিয়েছিলেন।
আল-বদর বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থদের ত্রাণ দেওয়ার জন্য সমস্ত প্রচেষ্টা করা হচ্ছে।’
অনলাইনে এক বিবৃতিতে তার কার্যালয় বলেছে, প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি অগ্নিকাণ্ডের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং দেশটির স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ত্রাণ সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছেন।
নিনেভেহ প্রদেশের গভর্নর নাজিম আল-জুবরি বলেন, আহতদের কয়েকজনকে আঞ্চলিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আগুনে হতাহতের কোনো চূড়ান্ত সংখ্যা এখনও পাওয়া যায়নি। যা মৃতের সংখ্যা এখনও বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দেয়।
আরও পড়ুন: ইরাকে তীর্থযাত্রী বহনকারী বাস উল্টে নিহত ১৮
ইরাকে কুর্দি যোদ্ধাদের হামলায় ৬ তুর্কি সেনা নিহত : আঙ্কারা
৯০৭ দিন আগে
ইরাকের কুর্দি অঞ্চলে সামরিক বিমানবন্দরে হামলায় নিহত ৩
উত্তর ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলে একটি সামরিক বিমানবন্দরে বিমান হামলায় তিনজন নিহত হয়েছে।
সোমবার এই হামলা ও হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।
এক বিবৃতিতে এই অঞ্চলের কাউন্টার টেরোরিজম সার্ভিস বলেছে, সুলেইমানিয়াহ শহরের ২৮ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বের আরবাত বিমানবন্দরে হামলায় তিনজন কর্মী নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও তিন কুর্দি পেশমারগা বাহিনীর তিন সদস্য।
সম্প্রতি বিমানবন্দরটিতে প্রশিক্ষণের সুবিধার্থে প্যাট্রিয়টিক ইউনিয়ন অফ কুর্দিস্তানের সঙ্গে যুক্ত সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিটগুলোর পুনর্বাসন করা হয়েছিল। যা এই অঞ্চলের দুটি প্রায়শই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রধান দলগুলোর একটি। যারা সুলেইমানিয়াহ’র নিয়ন্ত্রণে করছে।
কাউন্টার টেরোরিজম সার্ভিস কোনো পক্ষকে হামলার জন্য দায়ী করেনি। তবে সুলায়মানিয়াহ গভর্নরেট একটি বিবৃতিতে ‘এই অঞ্চলের দেশগুলোকে কুর্দিস্তান অঞ্চল এবং ইরাকের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করার জন্য’ আহ্বান জানিয়েছে এবং এতে বোঝানো হয়েছে যে এই হামলাটি তুরস্ক চালিয়েছে।
আরও পড়ুন: ইরাকে কুর্দি যোদ্ধাদের হামলায় ৬ তুর্কি সেনা নিহত : আঙ্কারা
এছাড়াও সোমবার, কুর্দিস্তান ন্যাশনাল কংগ্রেস, কুর্দি গোষ্ঠী এবং দলগুলোর একটি সহায়তাপুষ্ট সংগঠন একটি বিবৃতিতে বিশদ বিবরণ না দিয়ে বলেছে , তাদের একজন সদস্যকে ইরবিলে গ্রুপের অফিসের ভিতরে ‘হত্যা’ করা হয়েছে।
তুরস্ক প্রায়শই সিরিয়া এবং ইরাকের কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি, বা পিকেকে’র লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা চালায়। তারা বিশ্বাস করে যে একটি কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদী দল যেটি ১৯৮০ সাল থেকে তুরস্কের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে চালিয়ে আসছে, তাদের সঙ্গে এরা যুক্ত।
কুর্দি জঙ্গি কার্যকলাপের কথিত বৃদ্ধির কারণে ফ্লাইটের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ায় এপ্রিল মাসে সুলেইমানিয়াহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এবং সেখান থেকে ফ্লাইটের জন্য আকাশসীমা বন্ধ করে দেয় তুরস্ক।
আরও পড়ুন: ইরাকে তীর্থযাত্রী বহনকারী বাস উল্টে নিহত ১৮
৯১৫ দিন আগে
ইরাকে তীর্থযাত্রী বহনকারী বাস উল্টে নিহত ১৮
ইরাকের রাজধানী বাগদাদের উত্তরে তীর্থযাত্রীদের কারবালা শহরে বহনকারী একটি বাস উল্টে ১৮ জন নিহত হয়েছেন। বিষয়টি দেশটির মেডিকেল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বিশ্বের বৃহত্তম বার্ষিক জনসমাগম হিসেবে বিবেচিত আরবাইনের শিয়া তীর্থযাত্রার জন্য প্রতি বছর লাখ লাখ বিশ্বাসী এই শহরে জড়ো হন। ইরাকের বিভিন্ন অংশ থেকে, পাশাপাশি ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলো থেকেঅ তীর্থযাত্রীরা আসেন, অনেকে পায়ে হেঁটে কারবালার পথে যাত্রা করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ২ ইরাকি চিকিৎসা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাগদাদ থেকে প্রায় ৫৫ মাইল (৯০ কিলোমিটার) উত্তরে বালাদ শহরের কাছে বাসটি উল্টে যায়।
কর্মকর্তারা বলেন, নিহতদের মধ্যে ১৫ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী। এদের মধ্যে ১০ জন ইরানি, ২ জন ইরাকি (বাসচালক ও তার ছেলে) এবং ৬ জন অজ্ঞাত পরিচয়ের নাগরিক।
আরও পড়ুন: ইরাকে বিস্ফোরণে ৯ পুলিশ নিহত: কর্তৃপক্ষ
ইরাকে কুর্দি যোদ্ধাদের হামলায় ৬ তুর্কি সেনা নিহত : আঙ্কারা
৯৩১ দিন আগে
বাংলাদেশ-ইরাক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আশাবাদী বিজিএমইএ সভাপতি
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল গত ২১ আগস্ট ইরাক সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী আথির দাউদ সালমান আল-গারিরির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
বৈঠকে ইরাকে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ফজলুল বারীও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে তারা বাংলাদেশ ও ইরাকের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।
উভয় দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সম্ভাব্য খাত চিহ্নিত করতে এবং পারস্পরিক সুবিধার জন্য বিনিয়োগ করতে সক্ষম করার জন্য কীভাবে ব্যবসায়িক মিথস্ক্রিয়া বাড়ানো যায় তাও তারা আলোচনা করেছেন।
বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বাণিজ্যমন্ত্রীকে অবকাঠামোগত উন্নয়নে, বিশেষ করে সড়ক ও রেল যোগাযোগ উন্নত করার জন্য বিমানবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাণিজ্য ও শিল্প খাতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে মেগা প্রকল্প সম্পর্কে অবহিত করেন।
তিনি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, বিনিয়োগবান্ধব নীতি, ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করার মতো বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশের পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন।
বিজিএমইএ সভাপতি ইরাকি ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানান।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ জুলাইয়ে আরএমজি রপ্তানি করে ৩.৯৫ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে: বিজিএমইএ
তিনি বাংলাদেশ থেকে ইরাকে সরাসরি চালানের সম্ভাবনার বিষয়ে ইঙ্গিত করে বলেন, এটি দুই দেশের মধ্যে রপ্তানি-আমদানি কার্গো পরিবহনে সময় এবং মালবাহী খরচ কমাবে।
তিনি বাণিজ্যের সুবিধার্থে ঢাকা-বাগদাদ সরাসরি ফ্লাইট চালু করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এবং ইরাকের বাণিজ্যমন্ত্রীকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়ে উভয় দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা বলেছেন।
ফারুক হাসান ইরাককে সেই দেশগুলোর মধ্যে একটি হওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান, যারা স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশকে একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
ইরাকের বাণিজ্যমন্ত্রী বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলকে ইরাকে ব্যবসা করতে ইচ্ছুক বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে অস্ট্রেলিয়ান ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান বিজিএমইএ সভাপতির
আরএমজি শিল্পের উচ্চ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারের নীতিগত সহায়তা চান বিজিএমইএ সভাপতি
৯৪৩ দিন আগে