কারাদণ্ড
সাতক্ষীরায় নকল কীটনাশক কারখানায় র্যাবের অভিযান, ডিলারের কারাদণ্ড-জরিমানা
সাতক্ষীরার তালায় অনুমোদনহীনভাবে নকল কীটনাশক ও কৃষিপণ্য তৈরির একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে ৯০০ লিটার কীটনাশক তৈরির তরল ও ৮৭০ কেজি নকল কৃষিপণ্য তৈরির উপকরণ উদ্ধার করেছে র্যাব। এ ঘটনায় বিসিআইসির খুচরা সার ডিলার মশিয়ার রহমানকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার লাউতাড়া গ্রামে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মশিয়ার রহমানকে এক মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাকে আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মশিয়ার রহমানের কারা ও অর্থদণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা র্যাব জানায়, মশিয়ার রহমান দীর্ঘদিন ধরে ওই পরিত্যক্ত বাড়িতে অনুমোদনহীনভাবে কীটনাশক তৈরি করে বিভিন্ন লেবেলে বাজারজাত করে আসছিলেন। অভিযানে কীটনাশক তৈরির ৯০০ লিটার তরল ছাড়াও ৮৭০ কেজি নকল কৃষিপণ্য তৈরির উপকরণ, বোতল ও লেবেল উদ্ধার করা হয়।
৩ দিন আগে
গুদামে মিলল ৫০০ বস্তা সার, ডিলারকে ১ মাসের কারাদণ্ড
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় অবৈধভাবে ৫০০ বস্তা সার মজুতের অভিযোগে সোলাইমান পাটোয়ারী নামের এক ডিলারকে এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে গোদাগাড়ী পৌরসভা এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি গুদাম থেকে ২০০ বস্তা এমওপি ও ৩০০ বস্তা টিএসপি সার উদ্ধার করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত সোলাইমান পাটোয়ারী বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সারের ডিলার।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মরিয়ম আহমেদ জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহানের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ডাইংপাড়া এলাকায় মেসার্স কৃষি ঘরের গুদামে বিপুল পরিমাণ সারের মজুত পাওয়া যায়।
পরে ‘সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬’-এর ১২ ধারায় গুদামের মালিক সোলাইমান পাটোয়ারীকে এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্তকে প্রথমে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। বুধবার তাকে কারাগারে পাঠানোর কথা রয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তা আরও জানান, সার মজুত ও বিক্রির বিষয়ে সোলাইমান পাটোয়ারীকে গত দুই মাসে তিনবার সতর্ক করা হয়েছিল। তার পরও নিয়ম না মেনে বিপুল পরিমাণ সার গুদামে মজুত রাখায় তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান বলেন, কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে ডিলারদের গুদাম ও বিক্রয়কেন্দ্রে অভিযান এবং তদারকি অব্যাহত থাকবে। কেউ অবৈধভাবে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা কৃষকদের হয়রানি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১০ দিন আগে
জামিনে মুক্ত বিদিশা সিদ্দিক
প্রতারণার মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ড পাওয়া সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রাক্তন স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিনি কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান বলে জানিয়েছেন কারগারটির সিনিয়র জেল সুপার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. নজরুল ইসলাম।
তিনি আরও জানান, এদিন সকালে বিদিশার জামিনের কাগজপত্র কারাগারে এসে পৌঁছালে যাচাই-বাছাই শেষে তাকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরে বিকেলে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে যান।
প্রতারণার এক মামলায় গত ২৫ আগস্ট রাতে রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত বিদিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন বিদিশাকে আদালতে হাজির করা হলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর গত ৬ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে জামিন পান তিনি।
এর আগে গত ২০ মে ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলায় বিদিশাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেন আদালত। রায়ের দিন আদালতে অনুপস্থিত থাকায় বিদিশার বিরুদ্ধে সাজার পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
ঢাকার পল্লবী এলাকার ব্যবসায়ী এ কে এম মোশাররফ হোসেন সিকদার ২০০৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি গুলশান থানায় মামলাটি করেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, মোশাররফ ২০০১ সালের ১০ জুলাই বারিধারায় একটি ফ্ল্যাটের জন্য বিদিশাকে ৭৫ লাখ টাকা দেন। ফ্ল্যাটটি ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে হস্তান্তরের কথা ছিল। তবে কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও ফ্ল্যাটটি হস্তান্তর করা হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
পরে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বিদিশা ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দিলেও পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকটি প্রত্যাখ্যাত (ডিসঅনার) হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
এছাড়া অভিযোগকারী জানান, টাকা ফেরত দেওয়া বা ফ্ল্যাট হস্তান্তর—কোনোটিই না করে বিদিশা বিভিন্ন অজুহাতে বিষয়টি বিলম্বিত করেন। পরে তিনি তাকে হত্যার হুমকিও দেন।
১১ দিন আগে
নন্দিনী হত্যা মামলা: বিধানের মৃত্যুদণ্ড, বাবা-ময়ের ৫ বছরের কারাদণ্ড
লালমনিরহাটের আলোচিত সাত বছরের শিশু নন্দিনী হত্যা মামলায় প্রধান আসামি বিধান চন্দ্রকে মৃত্যুদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ মামলায় বিধানের বাবা রনজিৎ কুমার ও মা মমতা রানীকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক হায়দার আলী আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডিতরা আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের বাসিন্দা। নিহত নন্দিনী রায় একই গ্রামের নলনী মোহনের ৭ বছরের মেয়ে ছিল।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৫ জুন বিকেলে নিখোঁজ হয় স্কুলপড়ুয়া শিশু নন্দিনী রায়। পরদিন তার বাড়ির পেছনে ভুট্টাখেতের নরম মাটি দেখে সন্দেহ হলে তা খুড়ে নন্দিনীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
প্রাথমিক সন্দেহ থেকে স্থানীয়রা প্রতিবেশী বিধান চন্দ্র ও তার বাবা রনজিৎ কুমারকে তার বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। এ সময় উত্তেজিত জনতা বিধান চন্দ্রের বাড়িতে আগুন দেয়।
এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকসহ জেলা উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ওপর স্থানীয়রা হামলা চালিয়ে আসামিদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে পুলিশ সুপারসহ প্রায় ৩৫ জন পুলিশ আহত হন। সেই সঙ্গে জেলা প্রশাসকের গাড়িসহ মোট ৫টি গাড়ি ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ জনতা।
এ ঘটনায় ১৬ জুন নিহত নন্দিনীর বাবা নলিনী মোহন বাদী হয়ে বিধান চন্দ্রকে প্রধান আসামি করে তার বাবা রণজিৎ কুমার ও মা মমতা রানীকে অভিযুক্ত করে আদিতমারী থানায় হত্যা মামলা করেন।
এ মামলায় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে বিধান চন্দ্র হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। বিধানের মা মমতা রানীকেও এ মামলায় পলাতক অবস্থা থেকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ।
মামলাটি তদন্ত শেষ করে তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আবু সাঈদ মো. আইয়ুব তুহিন গত ১৩ আগস্ট আলোচিত নন্দিনী হত্যা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন। এরপর ১৬ আগস্ট আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। ১৭ আগস্ট থেকে ১৯ আগস্ট ৩ দিনে এ মামলার ২৩ জনের সাক্ষ্য-শুনানি গ্রহণ করেন আদালত। পরবর্তী সময়ে মাত্র ৬ কার্যদিবসের মধ্যে আজ (রবিবার) আলোচিত নন্দিনী হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত।
রায়ে বলা হয়, আলোচিত নন্দিনী হত্যার দায়ে আসামি বিধান চন্দ্রকে মৃত্যুদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং তার বাবা রণজিৎ কুমার ও মা মমতা রানীকে ৫ বছর করে কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা আনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হলো। আসামিদের হাজতবাসের সময় সাজা থেকে বাদ যাবে বলেও রায়ে উল্লেখ করেন আদালত।
আদালতের এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে নিহত নন্দিনীর বাবা নলনী মোহন বলেন, ন্যায়বিচার পেয়েছি, রায়ে আমরা সন্তষ্ট। তবে এ রায় দ্রুত কার্যকর করে দৃষ্টান্ত স্থাপনের দাবি জানান তিনি।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হুমায়ুন রেজা স্বপন বলেন, মাত্র ৬ কার্য দিবসের মধ্যে লালমনিরহাটের একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট।
হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনায় বিধান আদালতকে জানান, কয়েক বছর আগে তার মা মমতা রানী অন্যের সংসারে যাওয়ায় তাকে তালাক দেন তার বাবা রণজিৎ কুমার। এরপর দ্বিতীয় বিয়ে করেন রণজিৎ। কিন্তু কিছুদিন পরে বিধান আলোচনা করে মাকে তাদের সংসারে ফিরিয়ে আনেন। এতে সমাজ থেকে তাদের একঘরে করা হয় যা নিয়ে নন্দিনীর বাবা নলিনী মোহনের সঙ্গে তাদের ঝগড়া-বিবাদ হয়। এতে ক্ষিপ্ত হন বিধান চন্দ্র। সেই ক্ষোভের প্রতিশোধ নিতে নলিনীর পরিবারের ক্ষতি করার পরিকল্পনা করতে থাকেন। দীর্ঘ এক বছর আগের ঝগড়ার ক্ষোভ মেটাতে কিছুদিন আগে নন্দিনীর বড় ভাই যোতিষ্ঠিকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু স্থানীয়দের কারণে সেটা করতে ব্যর্থ হন বিধান।
প্রতিশোধের দ্বিতীয় পরিকল্পনা মোতাবেক সেদিন বিকেলে নন্দিনী ও অপর এক শিশুকে নিয়ে বাড়ির উঠানে মোবাইল ফোনে টিকটক ভিডিও দেখছিলেন বিধান। তার মোবাইল ফোনে চার্জ শেষ হলে অপর শিশুটি চলে যায়। তখন ফোন চার্জে দিয়ে বিস্কুট মুখে দিয়ে আবার উঠানে আসেন বিধান। এ সময় নন্দিনী তার কাছে বিস্কুট চাইলে তাকে বিস্কুট দিতে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যান তিনি। এরপর শিশুটিকে বিস্কুট খাইয়ে গলা টিপে হত্যা করে মরদেহ বস্তায় ভরে রাখেন বিধান।
জবানবন্দিতে বিধান আরও জানান, প্রথমে নিজেদের বাড়ির পাশের পাটখেতে গর্ত করে মরদেহ পুঁতে রাখতে চেয়েছিলেন তিনি। সে সময় স্থানীয়রা কী করছেন, জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন, ছাগল মারা গেছে, তা পুঁতে রাখছেন। কিন্তু দুর্গন্ধ হবে বলে স্থানীয়রা তাকে বাধা দেন। পরে তিনি নন্দিনীদের বাড়ির পেছনের ভুট্টাখেতে গর্ত করেন এবং বিকেল ৫টার পরেই নন্দিনীর বাড়ির সামনে দিয়ে তারই বস্তাবন্দি মরদেহ নিয়ে ওই গর্তে পুঁতে রাখেন।
এতসব কাজ করার সময় বিধানের বাড়িতে কেউ ছিলেন না। তার বাবা-মা দুজনেই বাড়ির বাইরে থাকায় সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ প্রশমিত করেন তিনি।
২৭ দিন আগে
দুর্নীতির মামলায় গ্রামীণ ব্যাংকের চার কর্মকর্তার ৩০ বছরের কারাদণ্ড
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা দুটি পৃথক মামলার পৃথক দুটি ধারায় চারজনকে পৃথক দুটি ধারায় মোট ৩০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের ৭ লাখ ২০ হাজার ৩৯০ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও চার বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) খুলনার বিভাগীয় স্পেশাল জজ (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) আদালতের বিচারক মোহা. আদীব আলী এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন: সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার চন্দনপুর এলাকার গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক কেন্দ্র ব্যবস্থাপক রুনা লায়লা, একই ব্যাংকের ওই শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মো. ইনছার আলী, সাবেক দ্বিতীয় কর্মকর্তা রণেশ বিশ্বাস ও সাবেক কেন্দ্র ব্যবস্থাপক মমতাজ পারভীন।
দুদক খুলনা সমন্বিত কার্যালয়ের সরকারি কৌঁসুলি মো. মোফাককার হোসেন মনি জানান, একটি মামলায় ১২৬ জন গ্রাহকের পাঁচ লাখ ৬১ হাজার টাকা আত্মসাতের দায়ে তিনজনকে ১৫ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপর মামলায় ৬৭ জন গ্রাহকের তিন লাখ ৫৯ হাজার টাকা আত্মসাতের দায়ে আরও ১৫ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
৩১ দিন আগে
কুমিল্লায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে হামলার চেষ্টা, যুবকের ৭ দিনের কারাদণ্ড
কুমিল্লা নগরীতে অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চলাকালে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার চেষ্টা এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অপরাধে এক যুবককে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে নগরীর মোগলটুলি ও ইসলামপুর রোড এলাকায় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) ভ্রাম্যমাণ আদালত এই দণ্ডাদেশ দেন। আদালত পরিচালনা করেন কুসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন।
সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নগরীর অবৈধ দখল উচ্ছেদ, যানজট নিরসন এবং জনসাধারণের চলাচলের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে আজ মোগলটুলি এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছিল। অভিযান চলাকালে ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করার একপর্যায়ে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বাধা সৃষ্টি করেন। সে সময় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আচমকা কয়েকজন ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র, চাপাতি ও রামদা নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দিকে তেড়ে আসেন এবং হামলার চেষ্টা চালান।
এ ঘটনায় সেখানে চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং ঘটনাস্থল থেকে একজনকে হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হন।
পরবর্তীতে সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও হামলার চেষ্টার প্রাথমিক সত্যতা মেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন অনুযায়ী ওই যুবককে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
দণ্ডিত ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে কুমিল্লা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে কুসিক প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা জানান, নগরবাসীর সুবিধার্থে অবৈধ দখল ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কুসিকের এই নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলা বা আইনি কাজে বাধা সৃষ্টির মতো ঘটনা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
৩৫ দিন আগে
অর্থ আত্মসাত: ঢাকা ব্যাংকের সাবেক ৪ কর্মকর্তার ২০ বছরের জেল
জাল জালিয়াতি করে অর্থ আত্মসাতের মামলায় ঢাকা ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক চার কর্মকর্তাকে আলাদা তিনটি ধারায় ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১-এর বিচারক মুহা. হাসানুজ্জামান এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—ব্যাংকটির সাবেক কেন্দ্রীয় হিসাব বিভাগ ও ইনভেস্টমেন্ট (বিনিয়োগ) বিভাগের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট আবু মোহাম্মদ সাঈদ খান, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার প্রবীর কুমার ভৌমিক ও শওকত আলী।
এর মধ্যে বিশ্বাসভঙ্গের অপরাধে প্রত্যেককে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাস কারাভোগ করতে হবে। আর জাল-জালিয়াতের দায়ে প্রত্যেককে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে; অনাদায়ে আরও তিন মাসের সাজার রায় দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া অর্থ আত্মসাতের দায়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের সঙ্গে প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৩ মাস কারাভোগ করতে হবে।
আদালত তার রায়ে উল্লেখ করেন, তিন ধারার সাজা একত্রে চলবে। সেক্ষেত্রে আসামিদের সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
আসামিদের মধ্যে শওকত আলী পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। বাকি তিন আসামিকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০২ সালের ৪ নভেম্বর মোহাম্মদ ইউসূফ আলী ঢাকা ব্যাংকে হিসাব খুলে ১৭ লাখ টাকা ঋণ নেন। জামানত হিসেবে কনফিডেন্স সিমেন্টের ১ হাজার ও মেঘনা সিমেন্টের সাড়ে ৭ হাজার শেয়ার জমা দেন, পরে ঋণসীমা বাড়িয়ে ২৪ লাখ করা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে যাচাইয়ে শেয়ারগুলো ভুয়া প্রমাণিত হয়।
অভিযোগ করা হয়, ভুয়া শেয়ার জমা দিয়ে তিনি ঋণের টাকা আত্মসাৎ করেন এবং হিসাব খোলার সময় শনাক্তকারী শওকত আলী তাকে সহায়তা করেন।
এ ঘটনায় ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সিরাজুল হক ২০০৮ সালের ৩১ মে মতিঝিল থানায় মামলাটি করেন। ওই বছর ১৪ ডিসেম্বর শওকত আলীকে একমাত্র আসামি করে চার্জশিট দেয় দুদক। পরে অধিকতর তদন্তে ২০২৩ সালের ২২ অগাস্ট ৪ জনকে অভিযুক্ত করে নতুন চার্জশিট দেওয়া হয়।
৪৪ দিন আগে
খুলনায় পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাই, ৬ জনের ১০ বছরের কারাদণ্ড
পুলিশ পরিচয়ে এক ডিম ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার মামলায় ৬ আসামিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত ।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক মো. খুরশীদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. শাহআলম।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—মীর সেলিম, মাহাবুবুর রহমান, মো. লিটন দেওয়ান, নাসির গাজী ওরফে কাবিলা, কালাম ঢালী ও শামীম বিশ্বাস। মামলার অপর আসামি জিহাদুল বিশ্বাসকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে শামীম বিশ্বাসকে দণ্ডবিধির ৪১২ ধারায় অতিরিক্ত ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় মো. লিটন দেওয়ান ও নাসির গাজী ওরফে কাবিলা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অন্য সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা পলাতক রয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৪ এপ্রিল মামলার বাদী ডিম ব্যবসায়ী মো. রবিউল ইসলাম পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি বাজার থেকে দোকান বন্ধ করে রাত পৌনে ১২টার দিকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। এ সময় তার কর্মচারী সঙ্গে ছিলেন।
তারা দুজন উপজেলার নাসিরপুর গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলে একজন পুলিশের পোশাক পরিহিত ও বাকি তিনজন সিভিল পোশাকে এসে তাদের গতিরোধ করেন।
এরপর তারা রবিউল ইসলামকে জানান, তার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে এবং তাদের সঙ্গে থানায় যেতে হবে। পরে তাকে মোটরসাইকেলে উঠিয়ে থানার দিকে না যেয়ে ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরখালীর দিকে রওনা দেন তারা।
তখন রবিউল ইসলাম তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে আসামিরা তাকে হত্যার ভয় দেখান। পরে তার কাছ থেকে নগদ এক লাখ টাকা ও একটি দামি মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তাকে ফেলে চলে যান।
ঘটনার পরের দিন রবিউল পাইকগাছা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই বছরের ৩০ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (এসআই) মো. শাহজুল ইসলাম ৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
৪৬ দিন আগে
সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের তিন বছরের কারাদণ্ড
দুদকের মামলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর ওরফে এস কে সুর চৌধুরীকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ঢাকার দ্বিতীয় বিশেষ জজ আয়েশা নাসরিন এ দণ্ড দেন।
এস কে সুর সাজা শুনে বিস্মিত হয়ে বলেন, ‘তিন বছরের সাজা! এই মামলায় না এক বছরের সাজা হয়?’
দুদকের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) তরিকুল ইসলাম তরিক রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক এ ডেপুটি গভর্নরকে গ্রেপ্তার করে দুদক। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। দুদক ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ১৫ জুলাই মামলার রায়ের দিন ধার্য করা হয়।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, এস কে সুরের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ বা সম্পত্তির মালিক হওয়ার অভিযোগে তার ও তার উপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের স্বনামে বা বেনামে অর্জিত যাবতীয় স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদ বা সম্পত্তি, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও তা অর্জনের বিস্তারিত বিবরণী দাখিল করার জন্য সম্পদের হিসাব বিবরণীর নোটিশ জারি করা হয়।
তিনি গত বছরের ২৭ অক্টোবর নিজ স্বাক্ষরে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশসহ সম্পদ বিবরণী ফরম গ্রহণ করেন। কিন্তু আদেশ পাওয়ার ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি তিনি।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় এস কে সুর, তার স্ত্রী সুপর্ণা সুর চৌধুরী ও মেয়ে নন্দিতা সুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুদকের উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর মামলা করেন।
গত বছরের ২৫ অগাস্ট তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক মো. আহসান উদ্দিন।
গত ৬ নভেম্বর এস কে সুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন আদালত। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।
৫৩ দিন আগে
দুদকের মামলায় সাবেক বাখরাবাদ কর্মকর্তার ৮ বছরের কারাদণ্ড
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা একটি মামলায় কুমিল্লার বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেম লিমিটেডের সাবেক বিক্রয় সহকারী খালেদ সাইফউল্লাহ টিপুকে ৮ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অর্জিত ৩৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৮৬ টাকা ৯০ পয়সা মূল্যের সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে নোয়াখালীর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শওকত আলী এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ফেনী সদর থানার ২০১১ সালের একটি দুর্নীতি মামলায় আসামি খালেদ সাইফুল্লাহ টিপুর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় ৩ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং ২৭(১) ধারায় ৫ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন। উভয় দণ্ড মিলিয়ে তাকে মোট ৮ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালত একই সঙ্গে তাকে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অর্জিত ৩৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৮৬ টাকা ৯০ পয়সা মূল্যের সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের আদেশ দেন।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, খালেদ সাইফুল্লাহ টিপু ২০০০ সালের ২৩ নভেম্বর থেকে ২০০৪ সালের ১৪ জুলাই পর্যন্ত বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেম লিমিটেড কুমিল্লার গৌরীপুর কার্যালয়ে বিক্রয় সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ সময় তিনি ১৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭১৮ টাকায় ৫১৯ দশমিক ৩৭ শতক জমি ক্রয় করেন এবং একটি পাঁচতলা ভবন নির্মাণে ৩৪ লাখ ১৭ হাজার ৪৯১ টাকা ব্যয় দেখান। তবে প্রকৌশলীর প্রতিবেদনে ভবনটির প্রকৃত নির্মাণ ব্যয় ৬১ লাখ ৭ হাজার ৯৯ টাকা ৫২ পয়সা পাওয়া যায়। এছাড়া সোনাগাজীতে একটি মার্কেট নির্মাণের ব্যয় সম্পর্কেও অসঙ্গতি পাওয়া যায়।
দুদকের তদন্তে দেখা যায়, ভবন ও মার্কেট নির্মাণ ব্যয়ের হিসাবে গোপনীয়তার মাধ্যমে তিনি মোট ৩৮ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮৬ টাকা ৯৪ পয়সা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন, যা তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
মামলাটি তদন্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. মশিউর রহমান। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন দুদকের নোয়াখালীর সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জহির উদ্দিন। তাকে সার্বিক সহযোগিতা করেন দুদকের নোয়াখালী কোর্ট ইন্সপেক্টর মো.ইদ্রিছ।
৬৮ দিন আগে