কারাদণ্ড
জাল নথিতে যৌতুক মামলা, বাদীর কারাদণ্ড
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে জাল জন্মনিবন্ধন ও কাবিননামা তৈরি করে এক যুবকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করায় বাদীকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস এম গালিব হাসান এ দণ্ডাদেশ দেন।
গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি মো. সাজ্জাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কৌঁসুলি জানান, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পুনতাইড় আমবাড়ি গ্রামের হামিদুর হক সরকারের মেয়ে মোছা. নুরহাত জাহান লিজা (১৮) ভুয়া জন্মনিবন্ধন ও কাবিননামা তৈরি করে তৌফিক হাসানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা করেছিলেন। শুনানির সময় জন্মনিবন্ধন ও কাবিননামা ভুয়া প্রমাণিত হয়।
কাবিননামার ১৫ নম্বর কলামে তাৎক্ষণিক দেনমোহর পরিশোধের পরিমাণ অঙ্কে দুই হাজার টাকা এবং কথায় ২০ হাজার টাকা লেখা ছিল।
এছাড়া কাবিননামায় বিতর্কিত কথা উল্লেখ এবং কাজীর স্বাক্ষর না থাকায় দাখিল করা সব প্রমাণাদি ভুয়া প্রমাণিত হয়।
পরে মামলাটি বাতিল করে আসামি তৌফিক হাসান (২১), মো. আনোয়ার হোসেন (৫০) ও মোছা. টপি বেগমকে (৪৫) বেকসুর খালাস দেন আদালত। তাদের সবার বাড়ি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাখালবুরুজ মিয়াপাড়া গ্রামে।
অন্যদিকে জাল নথি তৈরি করে প্রতারণামূলকভাবে মিথ্যা মামলা দায়ের করায় বাদী লিজাকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এছাড়া বাদীপক্ষের আইনজীবী ক্ষমা প্রার্থনা করায় তাকে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
১৭ ঘণ্টা আগে
চাঁদপুরে ইলিশ ধরার দায়ে ২০ জেলের কারাদণ্ড
চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর অভয়াশ্রম এলাকায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ ধরার দায়ে ২০ জেলেকে ১০ ও ১৫ দিন করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে এক হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত জেলা টাস্ক ফোর্সের আওতায় এ অভিযান চালানো হয়। অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজমুল হুদার নেতৃত্বে কোস্ট গার্ড চাঁদপুরের কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ড দেওয়া হয়।
অভিযানে অংশ নেওয়া সদর উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, অভিযানে ২০ জেলেকে আটক করা হয়। এ সময় ৩০ কেজি ইলিশ, ৩৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ইঞ্জিনচালিত তিনটি কাঠের মাছ ধরার নৌকা জব্দ করা হয়। আটক জেলেদের মধ্যে ১৩ জনকে ১০ দিন করে এবং বাকি সাতজনকে ১৫ দিন করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রত্যেকের কাছ থেকে এক হাজার টাকা করে জরিমানা আদায় করা হয়।
জব্দ করা ইলিশ আজ (শুক্রবার) সকালে এতিমখানায় ও দুস্থদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এছাড়া নৌকাগুলো কোস্ট গার্ডের হেফাজতে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে জব্দ করা জাল পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
দণ্ডপ্রাপ্ত জেলেরা হলেন শুক্কুর শেখ (২৫), মফিজ গাজী (৬০), সাব্বির গাজী (১৮), ফরহাদ গাজী (১৯), হাবিব খান (২০), তোফাজ্জল হোসেন (৫৫), সিয়াম পাটওয়ারী (২২), আলমগীর হাওলাদার (২৫), শহীদ গাজী (২৬), মো. আব্বাস (৪০), রিপন মিয়াজী (২০), মো. মাসুদ (৪১), নুর মোহাম্মদ (৩৫), দেলু সরদার (৪৫), মো. শাকিল (১৯), কালু খান (৩০), মো. হাবিব (৩৫), মো. হাবিব খান (৪০), মো. বারেক (২৮) ও মো. রবিউল ইসলাম (১৯)। তারা সবাই চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।
১১ দিন আগে
আবেদ আলীর ছেলে সিয়ামের ৪ বছরের কারাদণ্ড
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় প্রশ্নফাঁসকাণ্ডে আলোচিত সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং তার অবৈধভাবে অর্জিত ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকার সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ বি এম তারিকুল কবীর এ রায় ঘোষণা করেন। দুদকের প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিন সিয়ামকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানাসহ তাকে আবারও কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে সিয়ামের পক্ষে তার আইনজীবী রেজাউল করিম যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।
গত বছরের ৫ জানুয়ারি আবেদ আলী ও তার স্ত্রী শাহরিন আক্তার শিল্পী এবং তাদের ছেলে সিয়ামের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর মধ্যে সিয়ামের বিরুদ্ধে করা মামলায় তিন কোটি ৩০ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।
তদন্তে সিয়ামের জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। পরে ৩০ ডিসেম্বর সিয়ামকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন। গত ১৭ জুন সিয়ামের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। মামলায় ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে রায় দিলেন আদালত।
১৯ দিন আগে
মেঘনায় ইলিশ শিকারের দায়ে ২৪ জেলের কারাদণ্ড
চাঁদপুরের হাইমচরে মেঘনা নদীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকারের দায়ে ২৪ জেলেকে ২০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় এক লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল, ১৫ কেজি মা ইলিশ ও মাছ ধরার ছয়টি নৌকা জব্দ করা হয়।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) হাইমচর উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রশীদ এসব তথ্য জানান।
দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেকের বাড়ি মেঘনা নদীর অভয়াশ্রম এলাকার আশপাশে। তাদের আজ (মঙ্গলবার) কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
হাইমচর উপজেলা প্রশাসন জানায়, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে একদল জেলের নদীতে মাছ ধরার খবর পেয়ে টাস্কফোর্স অভিযান চালিয়ে ২৮ জন জেলেকে হাতেনাতে আটক করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২৪ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক চারজনকে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এছাড়া জব্দ করা এক লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয় এবং ছয়টি নৌকা কোস্ট গার্ডের হেফাজতে রাখা আছে। সেই সঙ্গে জব্দ করা ১৫ কেজি মা ইলিশ স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।
হাইমচর উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা মৎস্য দপ্তর, নীলকমল নৌ পুলিশ ফাঁড়ি ও স্থানীয় কোস্ট গার্ড যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে। হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নজরুল ইসলাম এতে নেতৃত্ব দেন এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
ইউএনও নজরুল ইসলাম বলেন, ইলিশ মাছকে নিরাপদে মেঘনায় ডিম ছাড়ার সুযোগ করে দিতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত অভয়াশ্রম এলাকায় উপজেলা টাস্কফোর্স কঠোর অবস্থানে থাকবে বলেও জানান তিনি।
২১ দিন আগে
প্লট দুর্নীতি: সাবেক রাজউক চেয়ারম্যানসহ ৮ জনের কারাদণ্ড
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির মামলায় সংস্থাটির সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল উদ্দিন চৌধুরীসহ আটজনকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক মো. আব্দুস সালামের আদালত এ রায় দেন। বেঞ্চ সহকারী সাইফুল ইসলাম মিঠু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন রাজউকের সাবেক সদস্য এস ডি ফয়েজ, এ কে এম ওয়াহেদুল ইসলাম, এস এম জাফর উল্লাহ, এইচ এম জহুরুল হক, মো. রেজাউল করিম তরফদার এবং আম্বার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজ।
মামলার রায়ে আটজনের বিরুদ্ধেই দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা ও দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রত্যেক ধারায় তাদের সাত বছর করে মোট ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা করে ২০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া দণ্ডবিধির ৪২০ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আসামিদের ওই ধারা থেকে খালাস দেওয়া হয়।
আসামিদের হাজতবাস মূল দণ্ডাদেশ থেকে বাদ যাবে এবং উভয় ধারার সাজা একসঙ্গে চলবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
আসামি শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজের নামে বরাদ্দকৃত দুটি প্লটের বরাদ্দ বাতিল করে রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশও দিয়েছেন আদালত।
প্রভাব খাটিয়ে পূর্বাচলে ২০ কাঠা প্লট বরাদ্দ দেওয়া ও নেওয়ার অভিযোগে ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুদকের তৎকালীন উপ-সহকারী পরিচালক সিলভিয়া ফেরদৌস বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজের নামে পূর্বাচলে ১০ কাঠা করে ২০ কাঠার দুটি প্লট বরাদ্দ দেন, যাতে রাষ্ট্রের ক্ষতি হয়েছে।
তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় দুদক। পরে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ আদেশ দেন আদালত।
মামলার বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষে মোট ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।
২১ দিন আগে
সাতক্ষীরায় নকল কীটনাশক কারখানায় র্যাবের অভিযান, ডিলারের কারাদণ্ড-জরিমানা
সাতক্ষীরার তালায় অনুমোদনহীনভাবে নকল কীটনাশক ও কৃষিপণ্য তৈরির একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে ৯০০ লিটার কীটনাশক তৈরির তরল ও ৮৭০ কেজি নকল কৃষিপণ্য তৈরির উপকরণ উদ্ধার করেছে র্যাব। এ ঘটনায় বিসিআইসির খুচরা সার ডিলার মশিয়ার রহমানকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার লাউতাড়া গ্রামে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মশিয়ার রহমানকে এক মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাকে আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মশিয়ার রহমানের কারা ও অর্থদণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা র্যাব জানায়, মশিয়ার রহমান দীর্ঘদিন ধরে ওই পরিত্যক্ত বাড়িতে অনুমোদনহীনভাবে কীটনাশক তৈরি করে বিভিন্ন লেবেলে বাজারজাত করে আসছিলেন। অভিযানে কীটনাশক তৈরির ৯০০ লিটার তরল ছাড়াও ৮৭০ কেজি নকল কৃষিপণ্য তৈরির উপকরণ, বোতল ও লেবেল উদ্ধার করা হয়।
৪৮ দিন আগে
গুদামে মিলল ৫০০ বস্তা সার, ডিলারকে ১ মাসের কারাদণ্ড
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় অবৈধভাবে ৫০০ বস্তা সার মজুতের অভিযোগে সোলাইমান পাটোয়ারী নামের এক ডিলারকে এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে গোদাগাড়ী পৌরসভা এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি গুদাম থেকে ২০০ বস্তা এমওপি ও ৩০০ বস্তা টিএসপি সার উদ্ধার করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত সোলাইমান পাটোয়ারী বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সারের ডিলার।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মরিয়ম আহমেদ জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহানের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ডাইংপাড়া এলাকায় মেসার্স কৃষি ঘরের গুদামে বিপুল পরিমাণ সারের মজুত পাওয়া যায়।
পরে ‘সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬’-এর ১২ ধারায় গুদামের মালিক সোলাইমান পাটোয়ারীকে এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্তকে প্রথমে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। বুধবার তাকে কারাগারে পাঠানোর কথা রয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তা আরও জানান, সার মজুত ও বিক্রির বিষয়ে সোলাইমান পাটোয়ারীকে গত দুই মাসে তিনবার সতর্ক করা হয়েছিল। তার পরও নিয়ম না মেনে বিপুল পরিমাণ সার গুদামে মজুত রাখায় তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান বলেন, কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে ডিলারদের গুদাম ও বিক্রয়কেন্দ্রে অভিযান এবং তদারকি অব্যাহত থাকবে। কেউ অবৈধভাবে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা কৃষকদের হয়রানি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৫৫ দিন আগে
জামিনে মুক্ত বিদিশা সিদ্দিক
প্রতারণার মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ড পাওয়া সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রাক্তন স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিনি কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান বলে জানিয়েছেন কারগারটির সিনিয়র জেল সুপার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. নজরুল ইসলাম।
তিনি আরও জানান, এদিন সকালে বিদিশার জামিনের কাগজপত্র কারাগারে এসে পৌঁছালে যাচাই-বাছাই শেষে তাকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরে বিকেলে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে যান।
প্রতারণার এক মামলায় গত ২৫ আগস্ট রাতে রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত বিদিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন বিদিশাকে আদালতে হাজির করা হলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর গত ৬ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে জামিন পান তিনি।
এর আগে গত ২০ মে ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলায় বিদিশাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেন আদালত। রায়ের দিন আদালতে অনুপস্থিত থাকায় বিদিশার বিরুদ্ধে সাজার পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
ঢাকার পল্লবী এলাকার ব্যবসায়ী এ কে এম মোশাররফ হোসেন সিকদার ২০০৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি গুলশান থানায় মামলাটি করেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, মোশাররফ ২০০১ সালের ১০ জুলাই বারিধারায় একটি ফ্ল্যাটের জন্য বিদিশাকে ৭৫ লাখ টাকা দেন। ফ্ল্যাটটি ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে হস্তান্তরের কথা ছিল। তবে কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও ফ্ল্যাটটি হস্তান্তর করা হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
পরে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বিদিশা ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দিলেও পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকটি প্রত্যাখ্যাত (ডিসঅনার) হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
এছাড়া অভিযোগকারী জানান, টাকা ফেরত দেওয়া বা ফ্ল্যাট হস্তান্তর—কোনোটিই না করে বিদিশা বিভিন্ন অজুহাতে বিষয়টি বিলম্বিত করেন। পরে তিনি তাকে হত্যার হুমকিও দেন।
৫৬ দিন আগে
নন্দিনী হত্যা মামলা: বিধানের মৃত্যুদণ্ড, বাবা-ময়ের ৫ বছরের কারাদণ্ড
লালমনিরহাটের আলোচিত সাত বছরের শিশু নন্দিনী হত্যা মামলায় প্রধান আসামি বিধান চন্দ্রকে মৃত্যুদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ মামলায় বিধানের বাবা রনজিৎ কুমার ও মা মমতা রানীকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক হায়দার আলী আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডিতরা আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের বাসিন্দা। নিহত নন্দিনী রায় একই গ্রামের নলনী মোহনের ৭ বছরের মেয়ে ছিল।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৫ জুন বিকেলে নিখোঁজ হয় স্কুলপড়ুয়া শিশু নন্দিনী রায়। পরদিন তার বাড়ির পেছনে ভুট্টাখেতের নরম মাটি দেখে সন্দেহ হলে তা খুড়ে নন্দিনীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
প্রাথমিক সন্দেহ থেকে স্থানীয়রা প্রতিবেশী বিধান চন্দ্র ও তার বাবা রনজিৎ কুমারকে তার বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। এ সময় উত্তেজিত জনতা বিধান চন্দ্রের বাড়িতে আগুন দেয়।
এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকসহ জেলা উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ওপর স্থানীয়রা হামলা চালিয়ে আসামিদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে পুলিশ সুপারসহ প্রায় ৩৫ জন পুলিশ আহত হন। সেই সঙ্গে জেলা প্রশাসকের গাড়িসহ মোট ৫টি গাড়ি ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ জনতা।
এ ঘটনায় ১৬ জুন নিহত নন্দিনীর বাবা নলিনী মোহন বাদী হয়ে বিধান চন্দ্রকে প্রধান আসামি করে তার বাবা রণজিৎ কুমার ও মা মমতা রানীকে অভিযুক্ত করে আদিতমারী থানায় হত্যা মামলা করেন।
এ মামলায় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে বিধান চন্দ্র হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। বিধানের মা মমতা রানীকেও এ মামলায় পলাতক অবস্থা থেকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ।
মামলাটি তদন্ত শেষ করে তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আবু সাঈদ মো. আইয়ুব তুহিন গত ১৩ আগস্ট আলোচিত নন্দিনী হত্যা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন। এরপর ১৬ আগস্ট আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। ১৭ আগস্ট থেকে ১৯ আগস্ট ৩ দিনে এ মামলার ২৩ জনের সাক্ষ্য-শুনানি গ্রহণ করেন আদালত। পরবর্তী সময়ে মাত্র ৬ কার্যদিবসের মধ্যে আজ (রবিবার) আলোচিত নন্দিনী হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত।
রায়ে বলা হয়, আলোচিত নন্দিনী হত্যার দায়ে আসামি বিধান চন্দ্রকে মৃত্যুদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং তার বাবা রণজিৎ কুমার ও মা মমতা রানীকে ৫ বছর করে কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা আনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হলো। আসামিদের হাজতবাসের সময় সাজা থেকে বাদ যাবে বলেও রায়ে উল্লেখ করেন আদালত।
আদালতের এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে নিহত নন্দিনীর বাবা নলনী মোহন বলেন, ন্যায়বিচার পেয়েছি, রায়ে আমরা সন্তষ্ট। তবে এ রায় দ্রুত কার্যকর করে দৃষ্টান্ত স্থাপনের দাবি জানান তিনি।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হুমায়ুন রেজা স্বপন বলেন, মাত্র ৬ কার্য দিবসের মধ্যে লালমনিরহাটের একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট।
হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনায় বিধান আদালতকে জানান, কয়েক বছর আগে তার মা মমতা রানী অন্যের সংসারে যাওয়ায় তাকে তালাক দেন তার বাবা রণজিৎ কুমার। এরপর দ্বিতীয় বিয়ে করেন রণজিৎ। কিন্তু কিছুদিন পরে বিধান আলোচনা করে মাকে তাদের সংসারে ফিরিয়ে আনেন। এতে সমাজ থেকে তাদের একঘরে করা হয় যা নিয়ে নন্দিনীর বাবা নলিনী মোহনের সঙ্গে তাদের ঝগড়া-বিবাদ হয়। এতে ক্ষিপ্ত হন বিধান চন্দ্র। সেই ক্ষোভের প্রতিশোধ নিতে নলিনীর পরিবারের ক্ষতি করার পরিকল্পনা করতে থাকেন। দীর্ঘ এক বছর আগের ঝগড়ার ক্ষোভ মেটাতে কিছুদিন আগে নন্দিনীর বড় ভাই যোতিষ্ঠিকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু স্থানীয়দের কারণে সেটা করতে ব্যর্থ হন বিধান।
প্রতিশোধের দ্বিতীয় পরিকল্পনা মোতাবেক সেদিন বিকেলে নন্দিনী ও অপর এক শিশুকে নিয়ে বাড়ির উঠানে মোবাইল ফোনে টিকটক ভিডিও দেখছিলেন বিধান। তার মোবাইল ফোনে চার্জ শেষ হলে অপর শিশুটি চলে যায়। তখন ফোন চার্জে দিয়ে বিস্কুট মুখে দিয়ে আবার উঠানে আসেন বিধান। এ সময় নন্দিনী তার কাছে বিস্কুট চাইলে তাকে বিস্কুট দিতে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যান তিনি। এরপর শিশুটিকে বিস্কুট খাইয়ে গলা টিপে হত্যা করে মরদেহ বস্তায় ভরে রাখেন বিধান।
জবানবন্দিতে বিধান আরও জানান, প্রথমে নিজেদের বাড়ির পাশের পাটখেতে গর্ত করে মরদেহ পুঁতে রাখতে চেয়েছিলেন তিনি। সে সময় স্থানীয়রা কী করছেন, জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন, ছাগল মারা গেছে, তা পুঁতে রাখছেন। কিন্তু দুর্গন্ধ হবে বলে স্থানীয়রা তাকে বাধা দেন। পরে তিনি নন্দিনীদের বাড়ির পেছনের ভুট্টাখেতে গর্ত করেন এবং বিকেল ৫টার পরেই নন্দিনীর বাড়ির সামনে দিয়ে তারই বস্তাবন্দি মরদেহ নিয়ে ওই গর্তে পুঁতে রাখেন।
এতসব কাজ করার সময় বিধানের বাড়িতে কেউ ছিলেন না। তার বাবা-মা দুজনেই বাড়ির বাইরে থাকায় সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ প্রশমিত করেন তিনি।
৭২ দিন আগে
দুর্নীতির মামলায় গ্রামীণ ব্যাংকের চার কর্মকর্তার ৩০ বছরের কারাদণ্ড
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা দুটি পৃথক মামলার পৃথক দুটি ধারায় চারজনকে পৃথক দুটি ধারায় মোট ৩০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের ৭ লাখ ২০ হাজার ৩৯০ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও চার বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) খুলনার বিভাগীয় স্পেশাল জজ (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) আদালতের বিচারক মোহা. আদীব আলী এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন: সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার চন্দনপুর এলাকার গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক কেন্দ্র ব্যবস্থাপক রুনা লায়লা, একই ব্যাংকের ওই শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মো. ইনছার আলী, সাবেক দ্বিতীয় কর্মকর্তা রণেশ বিশ্বাস ও সাবেক কেন্দ্র ব্যবস্থাপক মমতাজ পারভীন।
দুদক খুলনা সমন্বিত কার্যালয়ের সরকারি কৌঁসুলি মো. মোফাককার হোসেন মনি জানান, একটি মামলায় ১২৬ জন গ্রাহকের পাঁচ লাখ ৬১ হাজার টাকা আত্মসাতের দায়ে তিনজনকে ১৫ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপর মামলায় ৬৭ জন গ্রাহকের তিন লাখ ৫৯ হাজার টাকা আত্মসাতের দায়ে আরও ১৫ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
৭৬ দিন আগে