ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে স্বামী রাশেদ মোল্লাকে (৩০) আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের পৃথক ধারায় ওই ব্যক্তিকে আরও তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে, আসামি উভয় ধারার সাজা এক সঙ্গে ভোগ করতে পারবেন বলে আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন মামলার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। পরে দণ্ডপ্রাপ্ত রাশেদ মোল্লাকে কঠোর পুলিশ পাহারায় ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত রাশেদ মোল্লা ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর ইউনিয়নের ঘোড়াদহ বাজার এলাকার বাসিন্দা। নিহত জোসনা বেগম (২১) একই উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের সৈয়দ মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামের মেয়ে।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে পারিবারিকভাবে রাশেদ ও জোসনার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই রাশেদ যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। একপর্যায়ে তার দাবির মুখে তাকে নগদ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে জোসনার স্বর্ণের হার ও কানের দুল বিক্রি করে আরও টাকা দেওয়া হয় যা রাশেদ মাদক সেবনে ব্যয় করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে তারপরও থেমে থাকেনি নির্যাতন। ২০২০ সালের ১৬ জুলাই পুনরায় ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন রাশেদ। ওই টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি ঘরের ভেতর জোসনা বেগমের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে ১৭ জুলাই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার দিনই নিহতের বড় ভাই জলিল শেখ বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় যৌতুকের দাবিতে হত্যা মামলা করেন। মামলায় রাশেদ মোল্লার পাশাপাশি তার বড় ভাই হাসিব মোল্লাকেও আসামি করা হয়। পরে মামলাটি তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ১৪ মার্চ উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম রব্বানী রতন জানান, মামলার শুনানিতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত প্রধান আসামি রাশেদ মোল্লাকে দোষী সাব্যস্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়েছেন। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তার ভাই হাসিব মোল্লাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট এবং এটি সমাজে যৌতুকের বিরুদ্ধে একটি শক্ত বার্তা দেবে।