ইউরোপ
জার্মানি থেকে সেনা প্রত্যাহারে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে বিস্মিত ইউরোপ
জার্মানি থেকে হাজার হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ইউরোপীয় নেতারা। তবে সোমবার তাঁরা বলেছেন, এই পদক্ষেপ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ইউরোপকে এখন নিজের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হবে। ।
গত সপ্তাহে পেন্টাগন ঘোষণা দেয়, তারা জার্মানি থেকে প্রায় ৫ হাজার সেনা সরিয়ে নেবে। তবে ট্রাম্প শনিবার (২ মে) সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা সেনাসংখ্যা অনেক কমিয়ে আনছি। এই সংখ্যা ৫ হাজারের চেয়েও অনেক বেশি হবে।’
তবে কেন এই সিদ্ধান্ত, সে বিষয়ে ট্রাম্প কোনো নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করেননি। আকস্মিক এই ঘোষণায় উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট—ন্যাটো অনেকটা অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়েছে।
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেয়ার্সের সঙ্গে ট্রাম্পের ক্রমবর্ধমান বিরোধের মধ্যেই এই ঘোষণা এল। মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধে ইউরোপীয় মিত্রদের সম্পৃক্ত হতে অনাগ্রহের কারণে ট্রাম্প বেশ ক্ষুব্ধ বলে জানা গেছে।
সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্তোরে বলেন, ‘আমি এটাকে অতিরঞ্জিত করব না। তবে, আমরা আশা করছি, ইউরোপ নিজের নিরাপত্তার জন্য আরও বড় ভূমিকা নেবে।’
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কায়া কাল্লাস বলেন, ‘ইউরোপ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের আলোচনা অনেক দিন ধরেই চলছে। তবে হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত সত্যিই বিস্ময়কর।’
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় এখন থেকে ন্যাটোর ইউরোপীয় অংশকে আমাদের আরও শক্তিশালী করতে হবে।’
মেয়ার্সকে শাস্তি দিতে ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নে কাল্লাস বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মনের ভেতরে কী চলছে, তা আমি জানি না। তাই বিষয়টি তাকেই ব্যাখ্যা করতে হবে।’
গত সপ্তাহের শেষে ন্যাটোর মুখপাত্র অ্যালিসন হার্ট বলেন, ৩২টি দেশের এই সামরিক জোটের কর্মকর্তারা জার্মানি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের বিস্তারিত বুঝতে কাজ করছেন।’
গত বছর পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ইউরোপীয় মিত্ররা এবং কানাডা জানত যে ট্রাম্প ইউরোপ থেকে সেনা প্রত্যাহার করবেন। অক্টোবরেই কিছু মার্কিন সেনা রোমানিয়া ছেড়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, নিরাপত্তা শূন্যতা এড়াতে তারা ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করেই যেকোনো পদক্ষেপ নেবেন।
ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে এই পদক্ষেপকে ছোট করে দেখিয়ে বলেন, ‘এই মুহূর্তে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ইউরোপের সমর্থনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হতাশা রয়েছে।’
বিশেষ করে ফ্রান্স, স্পেন ও যুক্তরাজ্য তাদের ভূখণ্ডে অবস্থিত ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। স্পেন তাদের আকাশসীমা ও ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতিও দেয়নি।
তবে ট্রাম্প নেতৃত্বের সমর্থক হিসেবে পরিচিত রুটে বলেন, ‘আমি বলব ইউরোপীয়রা বার্তাটি শুনেছে। তারা এখন নিশ্চিত করছে যে সব দ্বিপাক্ষিক ঘাঁটি-সংক্রান্ত চুক্তি এখন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো পরবর্তী ধাপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদ আগে থেকেই নির্দিষ্ট স্থানে মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
ইউরোপীয় নেতারা ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া হিসেবে জানান, যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা রক্ষায় অংশ নেবে না।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ পুনরায় খুলতে প্রস্তুত থাকে, তাহলে সেটা ভালো। শুরু থেকেই আমরা সেটাই চাইছিলাম।’
তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইউরোপ এমন কোনো অভিযানে অংশ নিতে প্রস্তুত নয় যা ‘আমাদের কাছে পরিষ্কার মনে নয়’।
মেয়ার্সের সঙ্গে উত্তেজনার আরেকটি কারণ হিসেবে ট্রাম্প ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি না মানার অভিযোগ তুলেছেন এবং আগামী সপ্তাহে ইইউয়ে উৎপাদিত গাড়ি ও ট্রাকের ওপর শুল্ক ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। ট্রাম্পের এই আদেশ বড় গাড়ি উৎপাদনকারী দেশ জার্মানির জন্য বিশেষভাবে ক্ষতিকারক।
ট্রাম্প বা যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ না করে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডের লিয়েন বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তি করেছে এবং এখন মেক্সিকোর সঙ্গে কাজ করছে।
তিনি বলেন, ‘একই মানসিকতার বন্ধুদের সঙ্গে আপনার সরবরাহশৃঙ্খল স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য থাকে এবং সবচেয়ে বড় মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির নেটওয়ার্ক ইউরোপেরই রয়েছে।’
৭ দিন আগে
ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় ইউরোপে মুদ্রাস্ফীতি পৌঁছেছে ৩ শতাংশে
ইরান যুদ্ধে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে গোটা ইউরোপ। এই সময়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে কম থাকায় ভোক্তা ও ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারকদের জন্য উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাট জানায়, জ্বালানি তেলের দাম শতকরা ১০.৯ শতাংশ বৃদ্ধিই এর প্রধান কারণ।
সংস্থাটির জরিপ মতে, ইউরো ব্যবহারকারী ২১টি দেশের বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতি মার্চে ২ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে চলতি মাসে ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অপরিশোধিত তেলের দাম বর্তমানে ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে, ৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগে যা ছিল ৭৩ ডলারে কাছাকাছি। এছাড়া চলতি বছরের প্রথম থেকেই ইউরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল হতাশাজনক।
গোটা বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল পরিবহনকারী হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। এই জলপথ দিয়ে আগে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সারা বিশ্বে তেল সরবরাহ করা হতো। তেলের দামের এই ঊর্ধ্বগতি দ্রুতই পেট্রোল পাম্প এবং বিমান জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
মুদ্রাস্ফীতির এই সমস্যা ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ সৃষ্টি করতে পারে বলে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ হলো এমন একটি বিরল ও জটিল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, যেখানে একইসঙ্গে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি (দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি) ও ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দেখা দেয়।
ইউরোপে মুদ্রাস্ফীতির এই বৃদ্ধি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ এটি এমন সময়ে ঘটছে যখন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ধীর। সাধারণত মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়ায়, কিন্তু এতে ঋণের খরচ বেড়ে গিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও কমে যেতে পারে। যদি মুদ্রাস্ফীতি সাময়িক বলে মনে হয়, তবে সাধারণত এটিকে উপেক্ষা করা হয়, কারণ সুদের হার পরিবর্তনের প্রভাব অর্থনীতিতে পড়তে কয়েক মাস সময় লাগে।
অন্যদিকে, যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেরি করে এবং মুদ্রাস্ফীতি খাদ্য, শিল্পপণ্য ও মজুরি বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিতে স্থায়ীভাবে ঢুকে যায়, তাহলে পরে কঠোর সুদবৃদ্ধির মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণ করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
এই সপ্তাহে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ উভয়ই তাদের বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রেখেছে এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ডও আজ (বৃহস্পতিবার) একই সিদ্ধান্ত নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফলে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ অন্যান্য দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো এখন একপ্রকার স্থবির অবস্থায় রয়েছে। তারা মুদ্রাস্ফীতির এই ঢেউ অর্থনীতিতে কীভাবে প্রভাব ফেলছে, তা সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।
১১ দিন আগে
চেরনোবিল দুর্ঘটনার ৪০ বর্ষপূর্তিতে রাশিয়া নিয়ে ইউক্রেনের নতুন উদ্বেগ
ইউক্রেন, রুশ-অধিকৃত অঞ্চল এবং রাশিয়াজুড়ে গত এক দিনে চালানো পাল্টা হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে চেরনোবিল পারমাণবিক দুর্ঘটনার ৪০তম বার্ষিকী উপলক্ষে নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে ইউক্রেন। চার বছরেরও বেশি সময় ধরে রাশিয়ার চালানো আগ্রাসনগুলোর মধ্যে চেরনোবিল পারমাণবিক স্থাপনার আশপাশে হামলা সব থেকে বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৬ এপ্রিল) এসব কথা জানায় দেশটির কর্তৃপক্ষ।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই বার্ষিকী উপলক্ষে সতর্ক করে বলেছেন, চেরনোবিলের আশপাশে রাশিয়ার হামলা ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে।
তিনি একটি ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘রাশিয়া আবারও বিশ্বকে একটি মানবসৃষ্ট বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। রুশ-ইরানি শাহেদ ড্রোনগুলো নিয়মিত ওই পারমাণবিক স্থাপনার ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে। উদ্বেগের বিষয় এই যে, এগুলোর মধ্যে একটি গত বছর স্থাপনার সুরক্ষা অবকাঠামোতে আঘাত হেনেছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বকে অবশ্যই এই পারমাণবিক সন্ত্রাসবাদ বন্ধে এগিয়ে আসতে হবে। এ বিষয়ে সবার আগে রাশিয়াকে তাদের বেপরোয়া হামলা থামাতে বাধ্য করতে হবে।’
দেশটির আঞ্চলিক প্রধান ওলেক্সান্দর হাঞ্ঝা গতকাল (রবিবার) জানান, রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের দিনিপ্রো শহরে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছে।
এদিকে, রাশিয়ার মস্কো-সমর্থিত এক কর্তৃপক্ষ জানায়, রাশিয়ার দখলকৃত ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপল বন্দরনগরীতে ইউক্রেনের একটি ড্রোন হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। এই উপদ্বীপটি ২০১৪ সালে রাশিয়া ইউক্রেনের কাছ থেকে দখলে নিয়েছিল।
রাশিয়ার এই দখলদারত্ব বিশ্বব্যাপী অধিকাংশ দেশই অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করে। দখলের পর থেকে এটি যুদ্ধের সময় রাশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ও সরবরাহকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের লুহানস্ক অঞ্চলে রাশিয়া-নিযুক্ত গভর্নর লিওনিদ পাসেচনিক জানান, রাশিয়ার একটি গ্রামে রাতভর ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় ৩ জন নিহত হয়েছেন। এর আগে, শনিবার (২৫ এপ্রিল) ভোরে তিনি আরও ২ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
এ মাসের শুরুতে রাশিয়া দাবি করে, তারা পুরো লুহানস্ক অঞ্চল দখল করেছে। তবে এ বিষয় পুরোপুরি অস্বীকার করেছে ইউক্রেন। আবার রাশিয়ায় ইউক্রেনের হামলাগুলো সম্পর্কেও কোনো মন্তব্য করেনি কিয়েভ। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসও (এপি) স্বাধীনভাবে ঘটনাগুলো যাচাই করতে পারেনি।
এসব ঘটনার আগেও রাশিয়ার সীমান্তবর্তী বেলগরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় একজন নারী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
ইউক্রেনের সেনাবাহিনী রবিবার জানায়, তারা রাশিয়ার ভেতরে ইয়ারোস্লাভল এলাকায় একটি তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। এতে সেখানে আগুন ধরে যায়। এই স্থাপনাটি বছরে প্রায় দেড় কোটি টন তেল প্রক্রিয়াজাত করে এবং রাশিয়ার সেনাবাহিনীর জন্য পেট্রোল, ডিজেল ও বিমানের জ্বালানি উৎপাদন করে। তবে রাশিয়া এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
১৪ দিন আগে
রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে নিহত ৫, আহত ৪০ জনের বেশি
ইউক্রেনের দিনিপ্রো শহরে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪০ জন।
স্থানীয় সময় শনিবার (২৫ এপিল) এ ঘটনা ঘটে বলে জানায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের প্রধান ওলেক্সান্দর হাঞ্ঝা জানান, রাতভর চালানো ওই হামলার পর একটি বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ‘রাশিয়ার হামলার পর দিনিপ্রোতে ১১ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।’
হাঞ্ঝা টেলিগ্রামে লিখেছেন, ‘রাশিয়ানরা প্রায় সারা রাত দিনিপ্রোসহ বিভিন্ন শহর ও বসতিতে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় শহরের বিভিন্ন স্থানে আগুন লাগে এবং একাধিক অ্যাপার্টমেন্ট ভবন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও একটি ব্যক্তিগত বাড়ি আংশিকভাবে ধ্বংস হয়। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ওডেসা অঞ্চলেও রাতভর ড্রোন হামলায় দুইজন আহত হন।’
ওডেসা অঞ্চলের প্রধান ওলেহ কিপার জানান, ওই অঞ্চলের দক্ষিণে আবাসিক ভবন, বন্দর অবকাঠামো এবং গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শনিবার বিকেলে দিনিপ্রোতে রাশিয়ার পৃথক হামলায় আরও একজন নিহত হয়েছেন বলে হাঞ্ঝা জানিয়েছেন। আগের রাতের হামলার শিকার হওয়া একই আবাসিক এলাকায় এই হামলা চালানো হয়। তিনি জানান, এ ঘটনায় মোট ৪৬ জন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাশিয়ার সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলে ড্রোন হামলায় এক নারী নিহত এবং এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন।
এদিকে, রোমানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শনিবার জানায়, ইউক্রেন সীমান্তের কাছে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর গালাতিতে একটি আবাসিক এলাকায় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এর আগেও একাধিকবার রোমানিয়ার ভূখণ্ডে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পাওয়ার কথা নিশ্চিত করা হয়েছে।
রাতভর এই হামলার আগে শুক্রবার (২৪ এপিল) রাশিয়া ও ইউক্রেন ১৯৩ জন করে যুদ্ধবন্দি বিনিময় করে।
মাসের পর মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলা আলোচনায় তেমন অগ্রগতি না হলেও কয়েকটি ইতিবাচক দিকের মধ্যে একটি ছিল বন্দি বিনিময়। তবে পাঁচ বছর ধরে চলা রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসন বন্ধে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সমাধান এখনও আসেনি।
১৬ দিন আগে
ধুমপান নিষিদ্ধে যুক্তরাজ্যে বিল পাস
ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সিগারেট বা ধুমপানের আসক্তি থেকে দূরে রাখতে সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে একটি বিল পাস হয়েছে। এ ঘটনায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে দেশটির সচেতন নাগরিকরা।
মঙ্গলবার (২১ এপিল) হাউস অব লর্ডসে আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।
দীর্ঘদিন ধরে এই আইনের পক্ষে প্রচারণা চালানো সংস্থা অ্যাকশন অন স্মোকিং অ্যান্ড হেলথের প্রধান নির্বাহী হ্যাজেল চিজম্যান বলেন, ধূমপান নিশ্চিতভাবে মানুষের ভয়াবহ ক্ষতি করে। আইনটি হলে টোব্যাকো অ্যান্ড ভ্যাপস বিলের আওতায় ২০০৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পর জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্য সারা জীবনের জন্য সিগারেট কেনা নিষিদ্ধ করা হবে।
আইনটি কার্যকর হওয়ার আগে রাজা তৃতীয় চার্লসের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে, যা একটি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। এই আইনটি সরকারকে তামাক, ভ্যাপিং ও নিকোটিনজাত পণ্য নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা দেবে, যার মধ্যে ফ্লেভার ও প্যাকেজিংও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
যুক্তরাজ্যে বর্তমানে ১৮ বছরের কম বয়সীদের কাছে সিগারেট, তামাকজাত পণ্য বা ভ্যাপ বিক্রি করা অবৈধ। তবে নতুন নিয়মে প্রতি বছর সিগারেট কেনার ন্যূনতম বয়স বাড়তে থাকবে, ফলে আজকের অধিকাংশ তরুণ-তরুণী সারা জীবনই এই নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হবে।
বিল পাসের মধ্যে দিয়ে যুক্তরাজ্য বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর ধূমপানবিরোধী ব্যবস্থাগুলোর একটি গ্রহণ করল। এই আইনটি অনেকটা ২০২২ সালে নিউজিল্যান্ডের আইনপ্রণেতাদের পাস করা আইনের মতো, যদিও পরে নতুন সরকার সেটি বাতিল করে দিয়েছিল।
১৯৭০-এর দশক থেকে এখন পর্যন্ত ব্রিটেনে ধূমপায়ীর সংখ্যা দুই-তৃতীয়াংশ কমেছে। তবে সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সেখানে এখনও প্রায় ৬৪ লাখ মানুষ ধুমপান করে। এটি যুক্তরাজ্যের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৩ শতাংশ।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধূমপানের কারণে দেশটিতে প্রতি বছর প্রায় ৮০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় । এটি মৃত্যু, অক্ষমতা ও স্বাস্থ্যহানির এক নম্বর কারণ যেটা প্রতিরোধযোগ্য।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বলেছেন, ‘যুক্তরাজ্যের শিশুরা হবে প্রথম ধূমপানমুক্ত প্রজন্মের অংশ, যারা আজীবনের এই আসক্তি ও ক্ষতি থেকে সুরক্ষিত থাকবে।’
১৮ দিন আগে
ইউক্রেনে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৬, পুলিশের পাল্টা গুলিতে আততায়ীর মৃত্যু
ইউক্রেনে এক বন্দুকধারী নিজস্ব অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে ৬ জনকে হত্যা করেছে। পরে পুলিশের ভয়ে জিম্মিদের নিয়ে একটি সুপারমার্কেটের ভেতর আত্মগোপন করেন তিনি। এরপর পুলিশ খোঁজ পেয়ে ওই স্থানে পৌঁছে তাকে গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় কমপক্ষে ১৪ জন আহত হয়েছেন এবং তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৮ এপ্রিল) দেশটির রাজধানী কিয়েভের হলোসিভস্কি জেলায় একটি শপিং সেন্টারের সামনে এই হামলা ঘটে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীর বয়স ৫৮ বছর। তবে তার নাম ও পরিচয় প্রাথমিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
২০২২ সালে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে কিয়েভে এমন গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেনি। এ হামলায় রাস্তায় মানুষের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পথচারীরা আতঙ্ক হয়ে পড়েন। প্রাণ বাঁচাতে তারা পালাতে থাকেন।
এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ‘হামলাকারীকে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। তিনি কিছু মানুষকে জিম্মি করে রেখেছিলেন। দুঃখের বিষয় এই যে, তাদের মধ্যে একজনকে তিনি হত্যা করেন। এ ছাড়াও রাস্তায় আরও ৪ জনকে তিনি হত্যা করেছেন। জিম্মিদের মধ্যে এক নারীকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনিও মারা যান।’
তিনি আরও বলেন, একটা বিষয় নিশ্চিত যে, হামলাকারী রাস্তায় বের হওয়ার আগে একটি অ্যাপার্টমেন্টে আগুন লাগিয়েছিল। তার নামে আরও বেশ কিছু অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের বাসিন্দা ছিলেন এবং জন্মসূত্রে একজন রাশিয়ান।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইহোর ক্লিমেঙ্কো জানান, ইউক্রেনের বিশেষ কৌশলগত পুলিশ ইউনিটগুলো আলোচনার মাধ্যমে তাকে আত্মসমর্পণে রাজি করানোর চেষ্টা করে। কিন্তু সেই চেষ্টা ব্যর্থ হলে পুলিশ দোকানটিতে অভিযান চালায়। দু্ষ্কৃতিকারী যাদের জিম্মি করেছিল, তারা ছিল ওই সুপারমার্কেটের ক্রেতা ও কর্মচারী।
তিনি বলেন, ‘আমরা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কারণ আমরা ভেবেছিলাম, দোকানের ভেতরে কেউ আহত অবস্থায় রয়েছে। এমনকি রক্তপাত বন্ধ করার জন্য টুর্নিকেট দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিলাম, তবুও তিনি কোনো সাড়া দেননি। ফলে বাধ্য হয়ে তাকে নিষ্ক্রিয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়। হামলাকারীর বৈধ অস্ত্রের লাইসেন্স ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউ এই হত্যাকাণ্ডকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আখ্যা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তারা হামলাকারীকে চিনতেন।
৭৫ বছর বয়সী হান্না কুলিক বলেন, ‘আমি তাকে চিনতাম। তিনি অত্যন্ত শিক্ষিত ও ভদ্র মানুষ বলে মনে হতো। আমি কখনও ভাবিনি যে তিনি কোনো অপরাধী হতে পারেন। লোকটি খুব বেশি মানুষের সঙ্গে মিশতেনও না। কারো সঙ্গে দেখা হলে শুধু শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি চলে যেতেন। একাই থাকতেন তিনি।
২২ দিন আগে
টাইটানিক থেকে বেঁচে ফেরা যাত্রীর লাইফ জ্যাকেট নিলামে বিক্রি
আবারও সামনে এসেছে ইতিহাসের পাতায় অমলিন হয়ে থাকা আরএমএস টাইটানিক জাহাজ। জাহাজটি যখন আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে যাচ্ছিল, তখন একটি লাইফবোটের সাহায্যে প্রাণ বাঁচিয়ে ফেরা এক যাত্রীর ব্যবহৃত লাইফ জ্যাকেট নিলামে উঠেছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) ইংল্যান্ডের ডেভাইজেসে লাইফ জ্যাকেটটি নিলামে ৬ লাখ ৭০ হাজার পাউন্ডে (প্রায় ৯ লাখ ৬ হাজার ডলার) বিক্র হয়েছে।
এই লাইফ জ্যাকেটটি পরেছিলেন বিলাসবহুল ওই জাহাজের প্রথম শ্রেণির যাত্রী লরা মেবেল ফ্রাঙ্কাতেলি। জ্যাকেটিতে লরা এবং একই লাইফবোটে থাকা অন্য বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের স্বাক্ষরও রয়েছে।
পশ্চিম ইংল্যান্ডের ডিভাইজেসে নিলামকারী প্রতিষ্ঠান ‘হেনরি অলড্রিজ অ্যান্ড সন’-এর টাইটানিকের স্মারক বিক্রির আয়োজনে এই জ্যাকেটটিই ছিল আকর্ষণের মূল কেন্দ্রবিন্দু। নিলামের আগে এটির দাম আনুমানিক আড়াই লাখ থেকে সাড়ে ৩ লাখ পাউন্ডের মধ্যে ধরা হলেও শেষ পর্যন্ত অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি টেলিফোনে ধারণার চেয়েও অনেক বেশি দামে এটি কিনে নেন।
একই নিলামে টাইটানিকের একটি লাইফবোটের সিট কুশন বা বসার গদি ৩ লাখ ৯০ হাজার পাউন্ডে (৫ লাখ ২৭ হাজার ডলার) বিক্রি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির পিজন ফোর্জ এবং মিসৌরির ব্র্যানসনে অবস্থিত দুটি টাইটানিক জাদুঘরের মালিক এটি কিনে নেন। উল্লেখ্য, বিক্রিত এই দামের মধ্যে নিলামকারী প্রতিষ্ঠানের ফি বা ‘বায়ার্স প্রিমিয়াম’ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নিলামকারী অ্যান্ড্রু অলড্রিজ বলেন, ‘রেকর্ড সৃষ্টিকারী এই দামগুলো প্রমাণ করে যে টাইটানিকের গল্পের প্রতি মানুষের আগ্রহ আজও কতটা প্রবল। একইসঙ্গে সেইসব যাত্রী ও ক্রুদের প্রতি এটি এক গভীর সম্মান প্রদর্শন যাদের জীবনকাহিনী এই স্মারকগুলোর মাধ্যমে অমর হয়ে আছে।’
বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল এবং কার্যত ‘ডোবার অযোগ্য’ হিসেবে প্রচারিত টাইটানিক জাহাজটি ১৯১২ সালের ১৫ এপ্রিল ইংল্যান্ড থেকে নিউইয়র্ক যাওয়ার প্রথম যাত্রায় নিউফাউন্ডল্যান্ড উপকূলে একটি বিরাট বরফখণ্ডের সঙ্গে ধাক্কা খায়। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এটি সমুদ্রের তলদেশে হারিয়ে যায়। জাহাজের ২ হাজার ২০০ যাত্রী ও ক্রুর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন ওই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান।
টাইটানিক নিয়ে বিশ্বজুড়ে এখনও মানুষের মাঝে এক ধরনের মোহ কাজ করে। আংশিকভাবে এর কারণ ছিল জাহাজে থাকা দরিদ্র থেকে শুরু করে প্রচণ্ড প্রভাবশালী—সব স্তরের মানুষের সরব উপস্থিতি।
লরা ফ্রাঙ্কাতেলি সেই জাহাজে তার নিয়োগকর্তা তথা ফ্যাশন ডিজাইনার লুসি ডাফ গর্ডন এবং লুসির স্বামী কসমো ডাফ গর্ডনের সঙ্গে ভ্রমণ করছিলেন। তারা তিনজনই টাইটানিকের ১ নম্বর লাইফবোটে চড়ে বেঁচে ফিরতে সক্ষম হন। ৪০ জন যাত্রী ধারণক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ওই লাইফবোটটি মাত্র ১২ জন নিয়ে পানিতে নামানো হয়েছিল। তখন সমুদ্রের বরফশীতল পানি থেকে অন্য ডুবন্ত মানুষকে উদ্ধার না করায় পরবর্তীতে এ ঘটনাটি ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।
টাইটানিকের স্মারক হিসেবে নিলামে সর্বোচ্চ দামে বিক্রির বিশ্বরেকর্ডটি বর্তমানে ১৫ লাখ ৬০ হাজার পাউন্ডের (তৎকালীন হিসেবে প্রায় ২০ লাখ ডলার)। ২০২৪ সালে আরএমএস কার্পেথিয়া জাহাজের ক্যাপ্টেনের একটি সোনার পকেট ঘড়ি এই দামে বিক্রি হয়েছিল। কার্পেথিয়া ছিল সেই উদ্ধারকারী জাহাজ, যেটি টাইটানিকের ৭০০ জন জীবিত যাত্রীকে উদ্ধার করেছিল।
২২ দিন আগে
সুইজারল্যান্ডে বাসে আগুন লেগে নিহত ৬
পশ্চিম সুইজারল্যান্ডে একটি বাসে আগুন লেগে কমপক্ষে ৬ জন নিহত হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে দেশটির রাজধানী বার্ন থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে ফ্রিবুর্গ কান্টনের কেরজেরসের কেন্দ্রস্থলে (যা ফরাসি ভাষায় শিয়েট্রেস নামে পরিচিত) এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় ৩ জনকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজন উদ্ধারকর্মীও রয়েছেন।
তবে ঘটনাটি উদ্দেশ্যমূলক কি না, তা জানতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এক ব্যক্তি নিজের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করায় এ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় গণমাধ্যমে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, বাসটিতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। সেই সঙ্গে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখছেন বলে জানাচ্ছেন একজন স্থানীয় বাসিন্দা।
জানা গেছে, দুর্ঘটনার শিকার বাসটি মূলত কেরজেরস থেকে ১৭ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত ডুডিঙ্গেন পৌরসভা থেকে আসছিল।
একটি এক্স পোস্টে সুইস প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিন বলেছেন, ‘এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আমি সত্যিই হতবাক এবং ব্যাথিত।’
এর আগেও বছরের শুরুর দিকে সুইজারল্যান্ডের একটি স্কি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ৪১ জন নিহত হয়েছিল।
৬১ দিন আগে
২০২৬ সালজুড়ে ইউক্রেন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারে রাশিয়া: সামরিক থিংকট্যাঙ্ক
অর্থনৈতিক চাপ ও জনবল সংকটের লক্ষণ দেখা দিলেও ২০২৬ সালজুড়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাশিয়ার এখনও রয়েছে বলে জানিয়েছে শীর্ষ আন্তর্জাতিক সামরিক থিংকট্যাঙ্ক আইআইএসএস। একইসঙ্গে ইউরোপের জন্য রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হুমকি বাড়ছে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (আইআইএসএস) বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, মস্কোর যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা কমে গেছে—এমন কোনো স্পষ্ট লক্ষণ নেই। বরং রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হুমকি ক্রমশ বাড়ছে। এমনকি ইউক্রেনকে অর্থনৈতিক ও জনবলর চাপের মধ্যেও ফেলতে পারে রাশিয়া।
আইআইএসএসের মহাপরিচালক বাস্তিয়ান গিগেরিশ বলেছেন ‘যুদ্ধের পঞ্চম বছরে রাশিয়ার ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা কমে গেছে—এমন ইঙ্গিত খুব কম পাওয়া যাচ্ছে।’
থিংকট্যাঙ্কটির তথ্যে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে প্রতিরক্ষায় রাশিয়ার ক্রেমলিন অন্তত ১৮৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে যা এর সাধরণ ব্যয়ের চেয়ে ৩ শতাংশ বেশি। এটি দেশটির জিডিপির ৭ দশমিক ৩ শতাংশ যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের দ্বিগণেরও বেশি এবং যুক্তরাজ্যের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি।
থিঙ্কট্যাঙ্কটির প্রতিরক্ষা অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ ফেনেলা ম্যাকগার্টি তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, রাশিয়ার অর্থনীতির গতি কমছে, ফলে ২০২৬ সালে প্রকৃত অর্থে সামরিক ব্যয় কিছুটা কমতে পারে। তবে গত কয়েক বছরের বড় ধরনের প্রবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বিষয়টি দেখতে হবে।’
ওই প্রতিবেদনে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ‘২০২১ সালের পর থেকে রাশিয়ার সামরিক ব্যয় বাস্তবিক অর্থে দ্বিগুণ হয়েছে। এর ফলে রাশিয়া সামরিক সরঞ্জাম ও জনবল নিয়োগে বেশি ব্যয় করতে পারছে এবং অদূর ভবিষ্যতেও রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর স্থল ও আকাশপথে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যেতে সক্ষম হবে।’
চার বছর আগে ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে পূর্ণ মাত্রায় আগ্রাসন শুরু করেন। এই আগ্রাসনে রাশিয়ার প্রতিবেশী ছোট এই দেশটি ভেঙে না পড়লেও এতে ১২ লাখের বেশি লোক হতাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তা সত্ত্বেও লড়াই চালিয়ে যেতে পারে রাশিয়া।
গিগেরিশ বলেন ‘একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পর্কে পশ্চিমাদের আলোচনা চললেও রাশিয়া ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং একমুখী আক্রমণকারী ড্রোনের মাধ্যমে ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও জনবসতিতে হামলা আরও জোরদার করেছে।’
আইআইএসএসের রাশিয়া বিশেষজ্ঞ এবং বেলারুশে যুক্তরাজ্যের সাবেক রাষ্ট্রদূত নাইজেল গুল্ড ডেভিস বলেন এমন অনেক লক্ষণ স্পষ্ট হচ্ছে যেখানে দেখা যাচ্ছে রাশিয়ার মাসিক সৈন্য নিয়োগের হার যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের প্রাণহানির তুলনায় কমে আসছে।’ তবে তিনি এও উল্লেখ করেন যে, ইউক্রেনজুড়ে সম্মুখ সমরে আক্রমণের তীব্রতা কমিয়ে মস্কো তাদের এই ক্ষয়ক্ষতির হার কমিয়ে আনার সক্ষমতা রাখে।
তিনি আরও বলেন, ‘রাশিয়া তাদের সামরিক খাতে প্রতি মাসে ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার জনবল নিয়োগ দিচ্ছে। তবে নিয়োগপ্রাপ্তদের মান কমছে, কারণ এখন মদ্যপ, মাদকাসক্ত ও অসুস্থ লোকদেরও নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।’
এদিকে, রাশিয়ার আক্রমণে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন হিসাব রয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর মাসে ৩৫ হাজার ৩০ জন এবং এ বছরের জানুয়ারিতে ৩১ হাজার ৭১৩ জন হতাহত হয়েছে।
থিংকট্যাঙ্কটি জানিয়েছে, যুদ্ধের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মস্কো নতুন রণকৌশল, ক্ষেপণাস্ত্র ও হামলায় সক্ষম ড্রোন তৈরি করছে। এর মধ্যে আধুনিক শাহেদ-১৩৬ ড্রোনও রয়েছে যা ইউরোপজুড়ে ২ হাজার কিলোমিটার দূর পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম।
গিগেরিশ বলেন ‘রাশিয়ার এ ধরনের উদ্যোগ ন্যাটোর জন্য ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ও ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে।’ তিনি উল্লেখ করেন, গত সেপ্টেম্বরে পোল্যান্ডের আকাশসীমায় ২১টি রুশ ড্রোন ঢুকে পড়ে। যার ফলে বেশ কয়েকটি বিমানবন্দর বন্ধ হয়ে যায় এবং তিনটি অঞ্চলের মানুষ ঘরের ভেতরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।
রাশিয়ার হুমকির জবাবে ইউরোপের ন্যাটো সদস্য ও কানাডা ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় ৩ দশমিক ৫ শতাংশে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে আইআইএসএস তাদের বার্ষিক প্রতিবেদন ‘দ্য মিলিটারি ব্যালান্স’-এ বলেছে এ লক্ষ্য অর্জন করতে হলে দেশগুলোর দীর্ঘমেয়াদি ও বড় ধরনের বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে যা অনেক দেশের জন্য কঠিন হবে।
গিগেরিশ বলেন, ‘সামরিক গোয়েন্দা তথ্য, ক্লাউড কম্পিউটিং ও মহাকাশ সম্পদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে ইউরোপের দেশগুলোর ২০৩০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত লেগে যেতে পারে।’ এর পাশাপাশি বিমান প্রতিরক্ষা উন্নত করাও ইউরোপীয় দেশগুলোর অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
৭৫ দিন আগে
তবে কি নতুন প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে ব্রিটেন?
২০২২ সালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন পদত্যাগ করার সময় বলেছিলেন, যেসব রাজনীতিক একসময় তাকে নিঃশর্ত সমর্থন দিয়েছিলেন, তারাই পরে তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। সে সময় তিনি তার ভাগ্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘পালের (রাজনৈতিক গোষ্ঠী) প্রবৃত্তি অত্যন্ত শক্তিশালী, আর এই পাল যখন একবার চলতে শুরু করে, তখন তা চলতেই থাকে।’
২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টির বিপুল জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী হওয়া কিয়ার স্টারমারকে নিয়েও এখন একই প্রশ্ন উঠছে। গত সপ্তাহ শেষে তার ঘনিষ্ঠতম সহকারীর পদত্যাগ ছিল গত ১৮ মাসে সরকারের ওপর নেমে আসা ধারাবাহিক বিপর্যয়ের সর্বশেষ ঘটনা।
এর ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে অসন্তোষ ও হতাশা স্পষ্ট হলেও এখনও সম্মিলিতভাবে স্টারমারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়নি সবাই।
রাজনীতি বিশ্লেষকদের অভিমত, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্টারমারের সময় প্রায় শেষের দিকে।
স্টারমারের প্রধানমন্ত্রীত্ব নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে
গত ১০ বছরে স্টারমার যুক্তরাজ্যের ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী। এর আগে, ২০১৬ সালের জুলাই মাসে ডেভিড ক্যামেরন প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করার পর একে একে টেরিজা মে, বরিস জনসন, লিজ ট্রাস এবং ঋষি সুনাকও পদত্যাগ করেন ।
স্টারমারের নিজের দলের অনেক সংসদ সদস্যই মনে করছেন, তার সময় শেষ হয়ে এসেছে, কিন্তু খুব কম সংখ্যকই তা প্রকাশ্যে বলার সাহস দেখিয়েছেন।
তবে স্থানীয় সময় সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। তখন স্কটল্যান্ডের লেবার পার্টির নেতা আনাস সারোয়ার প্রকাশ্যে স্টারমারকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই বিশৃঙ্খলা শেষ হওয়া দরকার এবং ডাউনিং স্ট্রিটের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসা উচিত।
তবে সারোয়ারের পর অন্য কেউ তাৎক্ষণিকভাবে এই পথে হাঁটেননি, বরং এক ঘণ্টার মধ্যেই স্টারমারের মন্ত্রিসভার প্রায় সব জ্যেষ্ঠ সদস্য তার পাশে থাকার ঘোষণা দেন।
তা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান বর্তমানে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। গত রবিবার পদত্যাগ করেছেন তার চিফ অব স্টাফ মর্গান ম্যাকসুইনি। তিনি বিশ্বজুড়ে, এমনকি খোদ ব্রিটেনেও খুব পরিচিত না হলেও তার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। তিনি ছিলেন সেই রাজনৈতিক কৌশলবিদ, যার পরিকল্পনা স্টারমারকে ক্ষমতায় বসিয়েছিল।
নেপথ্যে এপস্টাইন ফাইল
ব্রিটনের প্রধানমন্ত্রী এখন আগের চেয়ে বেশি একা হয়ে পড়েছেন। ম্যাকসুইনির পদত্যাগ এবং স্টারমারের ওপর তীব্র চাপের মূল কারণ ‘এপস্টাইন ফাইল’। লাখ লাখ নথিপত্রের মধ্যে সাংবাদিকরা এমন কিছু ইমেল ও তথ্য পেয়েছেন যা প্রমাণ করে, প্রভাবশালী ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ পিটার ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে এপস্টাইনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।
ম্যান্ডেলসন গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। গত গ্রীষ্মে তার সঙ্গে এপস্টাইনের সম্পর্কের কথা জানাজানি হলে তিনি পদত্যাগ করেন। কিন্তু তখন থেকে ম্যান্ডেলসন বলেছেন যে তার ক্ষমা চাওয়ার কিছু নেই এবং তিনি এপস্টাইনের ঘনিষ্ঠ কেউ নন।
কিন্তু তার এ দাবি ধোপে টেকেনি। সপ্তাহ দুয়েক আগে প্রকাশিত নথি থেকে জানা যায়, তিনি এপস্টাইনের খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ২০০৮ সালে ম্যান্ডেলসন যখন লেবার সরকারের সদস্য ছিলেন, তখন তিনি এপস্টাইনের সঙ্গে বাজার-সংশ্লিষ্ট সংবেদনশীল তথ্য জানিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ইতিহাসবিদ অ্যান্থনি সেলডন এই ঘটনাকে যুক্তরাজ্যের ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট রাজনৈতিক কেলেঙ্কারি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আর ম্যান্ডেলসনকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার কারণে অভিযোগের তীর উঠছে স্টারমারের দিকেই। যদিও ব্রিটেন প্রধানমন্ত্রীর চিপ অব স্টাফ ম্যাকসুইনি ম্যান্ডেলনের নিয়োগের ব্যাপারে ভুল পরামর্শ ছিল বলে দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করেছেন।
রবিবার এক বিবৃতিতে ম্যাকসুইনি বলেন, পিটার ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। তিনি আমাদের দল, দেশ এবং রাজনীতির ওপর মানুষের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। আমাকে জিজ্ঞেস করা হলে আমি প্রধানমন্ত্রীকে এই নিয়োগের পরামর্শ দিয়েছিলাম এবং সেই পরামর্শের সম্পূর্ণ দায় আমি নিচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রীর সমর্থকরা আশা করছেন, এই পদত্যাগ স্টারমারকে সরকার নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার কিছুটা সময় দেবে। তবে সমালোচকদের মতে, স্টারমারের শেষ প্রতিরক্ষাবলয়টি সরে গেছে। তার সরে যাওয়াও এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।
ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ানের রাজনৈতিক সম্পাদক পিপা ক্রেরার বলেন, স্টারমারের পুরো কর্মজীবনে আইনজীবী হিসেবে এবং রাজনীতিবিদ হিসেবে একটি ধারাবাহিক বিষয় ছিল সহিংস পুরুষদের বিরুদ্ধে এবং নারীদের পক্ষে তার অবস্থান।
তিন আশা প্রকাশ করেন, এপস্টাইন কেলেঙ্কারি তাকে গভীরভাবে আঘাত করবে। বর্তমান ক্ষোভ একসময় অনুশোচনায় রূপ নিতে পারে, যা তাকে নিজের অবস্থান নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে। তবে তিনি যদি দায়িত্বে থাকতে চান, কিছু শক্তি হয়তো তাকে আরও কিছুদিন ধরে রাখতে পারে।
নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় যারা
লেবার পার্টিতে এখন স্টারমারের কোনো স্পষ্ট উত্তরসূরি নেই। একসময়ের উপ-প্রধানমন্ত্রী বামপন্থী অ্যাঞ্জেলা রেইনারকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে কর-সংক্রান্ত বিষয়ে তাকে স্টারমারের মন্ত্রিসভা ছাড়তে হয়েছে, যা এখনও নিষ্পত্তি হয়নি।
সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বে থাকা ডানপন্থী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের নামও আলোচনায় আছে। তিনি দক্ষ বক্তা হলেও ব্রিটিশ রাজনীতিতে বিভাজন সৃষ্টিকারী ব্যক্তিত্ব।
স্টারমার পদত্যাগ করলে তাদের কেউ কি লেবার পার্টিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারবেন? বিগত রক্ষণশীল সরকারের অবিরাম নাটক, পদত্যাগ এবং কেলেঙ্কারিতে বিরক্ত এমন একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কি তারা আরও ভালো হতে পারবেন?
স্টারমার যদি মে মাস পর্যন্ত টিকে যান, তাহলে তার ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের বিকেন্দ্রীভূত পার্লামেন্ট এবং ব্রিটেনজুড়ে স্থানীয় পরিষদ নির্বাচনের ফলাফলের ওপর। এসব নির্বাচনে লেবার পার্টির ফল খুব খারাপ হলে স্টারমারের ওপর চাপ অসহনীয় হয়ে উঠতে পারে। তখন তার নেতৃত্বাধীন প্রতিদ্বন্দ্বীরা হয়তো প্রকাশ্যে সামনে আসবেন।
৮৯ দিন আগে