ইউরোপ
ইউক্রেনে হামলায় উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে মস্কো, অভিযোগ জেলেনস্কির
ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও গ্লাইড বোমা দিয়ে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ৯ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে মঙ্গলবার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
একই সময়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মস্কোর বিরুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেছেন, চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কো উত্তর কোরিয়া থেকে নতুন করে সামরিক সহায়তা পাচ্ছে।
জেলেনস্কি বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া শহরে রাতভর হামলায় রুশ বাহিনী উত্তর কোরিয়ার সরবরাহ করা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই হামলায় ছয়জন নিহত ও ১৯ জন আহত হয়েছেন।
এছাড়া মধ্যাঞ্চলীয় দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে রাশিয়ার ড্রোন ও গোলাবর্ষণে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরসহ আরও তিনজন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া পিয়ংইয়ংয়ের কাছ থেকে আরও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পেয়েছে এবং আরও উত্তর কোরীয় সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
দুই বছরের বেশি সময় আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন একটি কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তিতে সই করেন। চুক্তিতে দুই দেশের যেকোনো একটি দেশ আগ্রাসনের শিকার হলে পারস্পরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
ইউক্রেনে পুতিনের আগ্রাসনকে সমর্থন করতে কিম হাজার হাজার সেনা এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সরবরাহ করেছেন। বিশেষজ্ঞের কারও কারও মতে, মস্কোর সঙ্গে এই সহযোগিতার ফলে উত্তর কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতা বাড়ছে। জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা উত্তর কোরিয়াকে এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের জন্য আরও বড় হুমকি হয়ে উঠতে সহায়তা করবে।
ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়াচ্ছে। কিয়েভের কাছে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে সক্ষম প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতিকে কাজে লাগাতেই মস্কো এ উদ্যোগ নিয়েছে বলে দাবি ইউক্রেনের। দেশটি আরও বলছে, পূর্ব ও দক্ষিণ ইউক্রেনজুড়ে ১ হাজার ২৫০ কিলোমিটার (৭৭৫ মাইল) দীর্ঘ সম্মুখসারিতে নতুন করে অভিযান চালাতে রাশিয়া সেনা নিয়োগ বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলেনস্কি বলেন, ‘ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানো, উত্তর কোরিয়ার সরঞ্জাম আনা, সেনা সমাবেশের প্রস্তুতির মতো রাশিয়ার প্রতিটি পদক্ষেপই দেখাচ্ছে যে মস্কো শান্তির জন্য নয়, বরং উত্তেজনা বাড়ানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।’
যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। সমঝোতার দিকে অগ্রগতির অভাবে ওয়াশিংটন হতাশ হয়ে পড়েছে এবং ইরান যুদ্ধের দিকে তাদের মনোযোগ সরে গেছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার সোমবার রাতে এক বিশ্লেষণে বলেছে, ‘পুতিন যতক্ষণ মনে করবেন যে তার পূর্ণাঙ্গ লক্ষ্য অর্জনের জন্য একটি কার্যকর সামরিক পথ রয়েছে, ততক্ষণ ক্রেমলিন গুরুতর আলোচনায় প্রবেশ করবে না বা তার দাবিতে বড় কোনো ছাড় দেবে না।’
সংস্থাটি আরও বলেছে, ইউক্রেনের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি রাশিয়াকে ইউক্রেনের ব্যাপক ক্ষতি করার সুযোগ করে দিচ্ছে। এর ফলে অর্থবহ আলোচনা পিছিয়ে যেতে এবং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হতে পারে।
কিয়েভের শিশু হাসপাতালে হামলা
রাতভর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের বিভিন্ন এলাকাতেও হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। একটি হামলায় একটি শিশু হাসপাতালের চত্বরে দুটি গর্ত তৈরি হয় এবং জানালার কাচ ভেঙে যায় বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা বিভাগ। তবে শিশু ও চিকিৎসাকর্মীরা বোমা আশ্রয়কেন্দ্রে থাকায় কেউ আহত হয়নি।
রাজধানীর অন্য একটি এলাকায় রুশ হামলায় একটি গুদামে আগুন ধরে যায়। জরুরি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুন প্রায় ১ হাজার ২০০ বর্গমিটার (প্রায় ১৩ হাজার বর্গফুট) এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের বাহিনী রাতভর কিয়েভ ও জাপোরিঝঝিয়ার ‘সামরিক শিল্প স্থাপনা এবং পরিবহন ও সরবরাহ কেন্দ্রগুলোতে’ স্থলভিত্তিক নির্ভুল অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে।
আজ (মঙ্গলবার) এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয়টি জানায়, কিয়েভে ড্রোন সংরক্ষণ করা হচ্ছিল এমন বেসামরিক গুদাম এবং জাপোরিঝঝিয়া শহরের একটি ধাতু কারখানায় হামলা চালানো হয়েছে।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া জাপোরিঝঝিয়া ও কিয়েভে জিরকন অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র ও ইস্কান্দার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন ধরনের ১২০টি দূরপাল্লার হামলা চালানোর ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।
রাশিয়ার বৃহত্তম ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে আবারও হামলা
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতভর তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাশিয়ার ১৪টি অঞ্চল ও অধিকৃত ক্রিমিয়ার আকাশে প্রায় ৪০০টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
রাশিয়ার বৃহত্তম অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজ জানিয়েছে, ইউক্রেন সীমান্তবর্তী ভোরোনেজ অঞ্চলে তাদের সরবরাহকেন্দ্রগুলো হামলার শিকার হয়ে আগুন ধরে যায়। তবে পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, সেখানে সংরক্ষিত পণ্য ‘বেশিরভাগই অক্ষত’ রয়েছে।
ইউক্রেন এর আগে একাধিকবার ওয়াইল্ডবেরিজের গুদামে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার তেল স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালিয়ে আসছে দেশটি। কিয়েভের দাবি, পুতিনকে যুদ্ধ অবসানে আলোচনায় বসতে বাধ্য করার কৌশলের অংশ হিসেবে এসব হামলা চালানো হচ্ছে।
ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, রাতভর তাদের বাহিনী রাশিয়ার ওরেনবুর্গ অঞ্চলের ওরস্কনেফতেওরগসিনতেজ তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত শোধনাগারটিতে হামলার পর আগুন ধরে যায়।
শোধনাগারটির বছরে প্রায় ৪ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে। সেখানে গ্যাসোলিন, ডিজেল ও উড়োজাহাজের জ্বালানিসহ বিভিন্ন ধরনের পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য উৎপাদন করা হয়। হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী।
১ দিন আগে
অনাকাঙ্ক্ষিত টেলিমার্কেটিং কল নিষিদ্ধ করল ফ্রান্স
ভোক্তাদের বিরক্তিকর বিক্রয় প্রচারণা থেকে সুরক্ষা এবং প্রতারণামূলক বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের সুরক্ষায় অনাকাঙ্ক্ষিত টেলিমার্কেটিং বা বাণিজ্যিক কল নিষিদ্ধ করেছে ফ্রান্স। নতুন আইনে ভোক্তার পূর্বানুমতি ছাড়া এ ধরনের ফোনকল করে বিরক্ত করতে পারবে না ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) থেকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁর সরকারের সমর্থিত নতুন এই আইন কার্যকর হয়েছে।
বিভিন্ন দেশ অনাকাঙ্ক্ষিত বিপণন কল বন্ধে ‘অপ্ট-আউট’ ব্যবস্থা চালু করলেও ফ্রান্স আশা করছে, বাধ্যতামূলক ‘অপ্ট-ইন’ ব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে।
বছরের পর বছর অভিযোগ
সরকার বলছে, বছরের পর বছর ধরে ভোক্তাদের করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই আইনটি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, ফ্রান্সের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মানুষ প্রতি সপ্তাহে অন্তত একটি অনাকাঙ্ক্ষিত বিক্রয় কল পান। অনেকেই এর চেয়েও বেশি কল পান।
ফ্রান্সে আগে যারা বিপণনমূলক ফোনকল এড়াতে চাইতেন, তাদের সরকারি একটি সেবায় নিজেদের ফোন নম্বর নিবন্ধন করতে হতো। কিন্তু ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করে আসছিল, কিছু কল সেন্টার ওই তালিকা মানত না।
২০২৪ সালে ১১টি ভোক্তা অধিকার সংগঠন যৌথভাবে এ ধরনের কল নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানায়। তারা ল্যান্ডলাইন ও মোবাইল ফোনে অসংখ্য অনাকাঙ্ক্ষিত টেলিমার্কেটিং কলের মাধ্যমে ভোক্তাদের ‘নিরলস হয়রানির’ নিন্দা জানিয়ে বলেছিল, এ ধরনের হস্তক্ষেপ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের নিয়মিত অংশ হয়ে উঠেছে।
এরপর গত বছর ফ্রান্সের পার্লামেন্ট আইনটি অনুমোদন করে। এবার নতুন আইনটি বাস্তবায়িত হওয়ায় সেসব জটিলতা দূর হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশটির প্রতিযোগিতা, ভোক্তা বিষয়ক ও প্রতারণা প্রতিরোধ অধিদপ্তরের (ডিজিসিসিআরএফ) চিফ অব স্টাফ অ্যালিস ভিলকট বলেন, ‘ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভোক্তার পূর্বানুমতি ছাড়া তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আবার অনুমতি দিলেও ভোক্তা যেকোনো সময় ওই সম্মতি প্রত্যাহার করতে পারবেন।’
একটি অবৈধ কলেই গুণতে হবে বড় অঙ্কের জরিমানা
অবৈধ টেলিমার্কেটিং কল করা ব্যক্তিকে প্রতি কলের জন্য সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার ইউরো (৮৭ হাজার ডলার) জরিমানা করা হতে পারে। আর কোনো কোম্পানির পক্ষ থেকে অবৈধ কল গেলে প্রতি কলের জন্য সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৭৫ হাজার ইউরো (৪ লাখ ৩৫ হাজার ডলার) জরিমানা গুনতে হতে পারে।
তবে আইনে কিছু ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। যেমন: কোনো ভোক্তা ফরমে সম্মতির ঘরে টিক চিহ্ন দিয়ে বিপণনমূলক কল পাওয়ার অনুমতি দিতে পারেন। আবার কোনো কোম্পানির সঙ্গে গ্রাহকের আগে থেকেই চুক্তিভিত্তিক সম্পর্ক থাকলে প্রতিষ্ঠানটি তাকে নতুন বাণিজ্যিক প্রস্তাব জানাতে পারবে।
অনাকাঙ্ক্ষিত কলের বিষয়ে মানুষ একটি সরকারি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারবেন।
ভিলকট জানান, আয়ারল্যান্ডভিত্তিক একটি কোম্পানিকে গত বছর ৬০ লাখ ইউরো (৬৯ লাখ ডলার) জরিমানা করা হয়েছিল। ফ্রান্সের আগের টেলিমার্কেটিং বিধি লঙ্ঘন করে ‘নো-কল’ তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের ফোন করার কারণে ওই জরিমানা করা হয়।
ফ্রান্সের নতুন আইনে মরক্কোয় উদ্বেগ
ফ্রান্সের নতুন আইনটি মরক্কোতেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। দেশটির কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইউনেস সেক্কুরি আইনপ্রণেতাদের বলেছেন, এতে মরক্কোর কল সেন্টার খাতে ৫০ হাজার পর্যন্ত চাকরি ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
সেক্কুরি বলেন, এ খাতে প্রায় ১০ কোটি ডলার বিনিয়োগ এসেছে এবং এই খাত বছরে ১০০ কোটি ডলারের বেশি আয় করে।
কম শ্রম ব্যয়, ফরাসিভাষী বিপুল কর্মী এবং তুলনামূলক দুর্বল শ্রমিক ইউনিয়নের কারণে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর কাছে মরক্কো আকর্ষণীয় আউটসোর্সিং গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ব্যয় কমাতে চাওয়া ফরাসি কোম্পানিগুলো দেশটির কল সেন্টার খাতের বড় গ্রাহক।
মরক্কোর আউটসোর্সিং সার্ভিসেস ফেডারেশনের সভাপতি ইউসুফ চ্রাইবি স্থানীয় দৈনিক ‘লে মাতাঁ’কে বলেন, ঐতিহাসিকভাবে ফ্রান্সের বাজার দেশটির এ খাতের আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি জোগান দিয়ে থাকে।
তিনি বলেন, ‘শুধু টেলিমার্কেটিং এখন মোট কর্মকাণ্ডের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ।’ একই সঙ্গে খাতটি প্রচলিত কল সেন্টার সেবার বাইরে ক্রমেই বৈচিত্র্য আনছে বলেও জানান তিনি।
অন্য দেশগুলোর পদক্ষেপ
নাগরিকের সুরক্ষায় ফ্রান্স সরকারের এই পদক্ষেপ বিশ্বে নতুন নয়। প্রতিবেশী দেশ জার্মানিতে ২০০৯ সাল থেকেই এ ধরনের কলের ওপর একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
নেদারল্যান্ডস গত মাসে টেলিমার্কেটিং কলের নিয়ম আরও কঠোর করেছে। দেশটিতে আগে থেকেই অনাকাঙ্ক্ষিত বিক্রয় কল নিষিদ্ধ ছিল। এখন কোনো কোম্পানি পূর্বানুমতি ছাড়া তাদের বিদ্যমান গ্রাহকদেরও প্রচারণামূলক প্রস্তাব দিতে ফোন করতে পারবে না।
অন্য অনেক দেশ অবশ্য ‘অপ্ট-আউট’ ব্যবস্থা অনুসরণ করে।
যুক্তরাষ্ট্রে মানুষ জাতীয় ‘ডু নট কল’ রেজিস্ট্রিতে নিজেদের নাম নিবন্ধন করতে পারেন। এতে অনাকাঙ্ক্ষিত বিক্রয় কল কমে আসে। কানাডা ও যুক্তরাজ্যেও একই ধরনের ‘ডু নট কল’ তালিকা রয়েছে।
যুক্তরাজ্যে যারা অনাকাঙ্ক্ষিত কল বন্ধের তালিকায় নিজেদের নাম নিবন্ধন করেছেন, তাদের ফোন করা কোম্পানিকে প্রতি কলের জন্য সর্বোচ্চ ৫ লাখ পাউন্ড (৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার) জরিমানা করার বিধান রয়েছে।
১ দিন আগে
রাশিয়ায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় নিহত ১২, আহত ৩৯
রাশিয়ায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ১২ জন নিহত ও ৩৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে দেশটির তাতারস্তান অঞ্চলের নিঝনেকামস্ক শহরে এই হামলা চালানো হয়।
তাতারস্তানের প্রেস সার্ভিসের প্রধান রুস্তাম মিনিখানভ জানিয়েছেন, নিঝনেকামস্ক শহরে শিল্প ও বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইউক্রেন ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে এ হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ইউক্রেনের কর্মকর্তারাও এ হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।
গত কয়েক মাস ধরে ইউক্রেন প্রায় প্রতিদিনই দূরপাল্লার ড্রোন দিয়ে রাশিয়ার তেল স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়ে আসছে। এতে দেশটিতে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে এবং তেল পরিশোধনের সক্ষমতা কমেছে। ইউক্রেনের সাম্প্রতিক এসব হামলা নিয়ে রাশিয়ার সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আলোচনার টেবিলে আনতে এবং চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়ার হামলা বন্ধ করতে এসব হামলা চালানো হচ্ছে।
রাশিয়ার নিঝনেকামস্ক শহরটি ইউক্রেনের সীমান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। শহরটির জনসংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার। এটি রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি তেল পরিশোধন কেন্দ্র। সেখানে দুটি তেল শোধনাগার ও একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা রয়েছে।
ইউক্রেনের তৈরি দূরপাল্লার ড্রোনগুলো রাশিয়ার অভ্যন্তরে ক্রমেই আরও গভীরে প্রবেশ করে হামলা চালাচ্ছে। এরই মধ্যে এসব ড্রোনের কয়েকটি সাইবেরিয়াতেও পৌঁছেছে। উল্লেখ্য, ইউক্রেন ও রাশিয়া সীমান্ত থেকে সাইবেরিয়া প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
স্থানীয় সময় রবিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমরা রাশিয়াকে ন্যায্য জবাব দিতে প্রস্তুত এবং তাদের প্রতিটি হামলার জবাব দেওয়া হবে। রাশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব এখন থেকে তাদের দেশের জনগণও বেশি করে অনুভব করবে।’
তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধ এখনও চলার একমাত্র কারণ হলো রাশিয়ার যুদ্ধ বন্ধ করার ইচ্ছা নেই।’
অন্যদিকে, রাশিয়াও নিয়মিতভাবে ক্ষেপণাস্ত্র, শক্তিশালী গ্লাইড বোমা ও ড্রোন ব্যবহার করে ইউক্রেনে আকাশপথে হামলা চালিয়ে আসছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিনিয়ত এসব হামলায় বেসামরিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছেন।
এদিকে, সোমবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ইউরোপীয় কার্যালয় জানিয়েছে, ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চলীয় দিনিপ্রো অঞ্চলে অবস্থিত একটি গুদামে ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দুইবার হামলা করেছে রাশিয়া।
এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, এ হামলায় প্রায় ৫ লাখ ডলার মূল্যের জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী ধ্বংস হয়েছে। এসব সামগ্রী যুদ্ধের সম্মুখসারির স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে পাঠানোর জন্য রাখা হয়েছিল।
২ দিন আগে
রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ১৭ জন নিহত
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের অঞ্চলে রাশিয়ার রাতভর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। হামলায় আরও অন্তত ৪৪ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা সংস্থা।
স্থানীয় সময় বুধবার (৫ আগস্ট) ভোর পর্যন্ত এ হামলা চালানো হয়।
এ বছর গ্রীষ্মে রাশিয়ার বড় আকারের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রায় নিয়মিত হয়ে উঠেছে। গতরাতের (বুধবার) হামলাটি ছিল সেই ধারাবাহিক হামলার সর্বশেষ একটি ঘটনা।
যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ‘প্যাট্রিয়ট’ নামের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা ‘ইন্টারসেপ্টর’ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ইউক্রেনের হাতে সীমিত। একমাত্র ইন্টারসেপ্টরের মাধ্যমেই রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা সম্ভব। বর্তমানে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইউক্রেনের হাতে নেই। তাই রাশিয়া একসঙ্গে অনেক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লে সেগুলো প্রতিহত করা ইউক্রেনের পক্ষে কঠিন হয়ে যায়।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা সংস্থা জানিয়েছে, এ হামলায় রাজধানী কিয়েভের আশপাশের বিস্তৃত অঞ্চলে ১৪ জন নিহত ও ২৭ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া দেশটির ব্রোভারি, বুচা ও ফাস্টিভ জেলায় একাধিক স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ফলে হাব্রোভারি শহর ও ভেলিকা ডাইমেরকা, কভিটনেভে ও পেরেমোহা গ্রামের বড় বড় গুদামঘরে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। ফাস্টিভ জেলায় একটি প্রতিষ্ঠানের যানবাহনে লাগা আগুন পরে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। অন্যদিকে, বুচা জেলার সোফিইভস্কা বরশচাহিভকার একটি লজিস্টিকস কেন্দ্রে আগুন নেভানো হয়। পরে চাইকি গ্রামের আরেকটি গুদামঘরে আগুন নেভান দমকলকর্মীরা।
হামলায় রাজধানী কিয়েভে একজন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে, কিয়েভ সিটি মিলিটারি প্রশাসন জানিয়েছে, ওবোলনস্কি, সভিয়াতোশিনস্কি, হলোসিয়িভস্কি ও দেসনিয়ানস্কি এসব জেলায় হামলার ফলে সৃষ্ট আগুন জরুরি সেবা কর্মীরা নিয়ন্ত্রণে এনেছেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়নবিষয়ক উপদেষ্টা সেরহি বেসক্রেস্টনভ বলেন, ‘এই যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি এখন নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। শত্রুপক্ষ নির্বিচারে সবকিছুতে হামলা চালাচ্ছে। খুচরা পণ্যের গুদাম, খাদ্য সংরক্ষণাগার, লজিস্টিকস হাব, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও নির্মাণসামগ্রীর গুদামঘর কোনো কিছুই তারা বাদ রাখেনি।’
রাশিয়ার বড় ধরনের হামলার শিকার হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি হলো ‘এপিসেন্টর’। এটি ইউক্রেনের অন্যতম বৃহৎ খুচরা বিক্রয় ও নির্মাণসামগ্রী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান।
ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ‘প্রতিষ্ঠানটি কয়েক দশক ধরে যা গড়ে তুলেছিল, মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র তা ধ্বংস করে দিয়েছে। হামলায় প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মী নিহত ও আরও ৩ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া রাশিয়ার হামলায় প্রতিষ্ঠানটির দুটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিকস হাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ ছাড়াও সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে প্রতিষ্ঠানটির সিরামিক টাইলস কারখানার উৎপাদন বিভাগ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে কোম্পানিটি সেখানে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে তা বিদেশে স্থানান্তর করতে বাধ্য হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে তাদের প্রায় ২ বছর সময় লাগতে পারে।
এপিসেন্টর আরও জানায়, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য ইউক্রেনীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিও তারা সংহতি প্রকাশ করছে। কারণ, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের পেছনে কত বছরের পরিশ্রম, চেষ্টা, বিশ্বাস ও দায়বদ্ধতা রয়েছে, তা তারা ভালোভাবেই জানে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনও রাশিয়ার খুচরা পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি দেশটি রাশিয়ার অ্যামাজন নামে পরিচিত ওয়াইল্ডবেরিজের একাধিক গুদামে হামলা চালিয়েছে। বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে মস্কোর অর্থনীতিতে ক্ষতি করা ও রাশিয়ার জনগণকে যুদ্ধের মূল্য উপলব্ধি করাতে ইউক্রেন এসব হামলা চালাচ্ছে।
৭ দিন আগে
স্পেন-মরক্কো সীমান্তে নিহত অভিবাসীর সংখ্যা বেড়ে ৬৭
স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত শহর সেউতায় মরক্কো সীমান্তে সৃষ্ট অভিবাসন সংকটে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭ জনে পৌঁছেছে। নিহতদের মধ্যে কেউ সাগরে ডুবে এবং কেউ সীমান্তের ব্রেকওয়াটার (সীমান্তসংলগ্ন সমুদ্রের ঢেউ প্রতিরোধী বাঁধ) পার হওয়ার সময় পদদলিত হয়ে মারা গেছেন বলে জানিয়েছে স্পেন সরকার।
সংকট মোকাবিলায় শনিবার (১ আগস্ট) সমুদ্রের দিকে থাকা সীমান্তের ব্রেকওয়াটার এলাকায় ৫০০ মিটার দীর্ঘ একটি প্রতিরোধক (কনটেইনমেন্ট) নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে স্পেন।
বৃহস্পতি ও শুক্রবারের মধ্যে প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী সেউতার সীমান্ত অতিক্রম করে স্পেনের এ ছোট ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন।
শনিবার সকালে সাঁতরে সেউতার তারাহাল সৈকতে পৌঁছানো কয়েকজন ক্লান্ত অভিবাসীকে স্প্যানিশ সেনারা আটক করে আবার সীমান্ত পেরিয়ে মরক্কোয় ফিরিয়ে দেন।
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের এই ভূখণ্ডে প্রবেশ করা অধিকাংশ অভিবাসী ইতোমধ্যে মরক্কোয় ফিরে গেছেন।
১১ দিন আগে
চাপের মুখে বিশ্বকাপের স্বত্ত্ব বিক্রির পরিকল্পনা বাদ দিলেন ফিফা সভাপতি
ফুটবল বিশ্বে তীব্র সমালোচনা, ইউরোপীয় ফুটবলের বয়কট হুমকি এবং নিজ প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের মুখে বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের স্বত্ব বা শেয়ার বেসরকারি খাতে বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা বাতিল করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
শনিবার (১ আগস্ট) এক বিবৃতিতে তিনি এ ঘোষণা দেন।
বিবৃতিতে ইনফান্তিনো বলেন, ‘সব পক্ষের মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনার পর স্পষ্ট হয়েছে, এই প্রকল্পটি এমন বিভাজনের সৃষ্টি করেছে, যা সমর্থনের মাত্রা যাই হোক না কেন, এর মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য সবসময়ই মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং ফুটবলের উন্নয়ন ঘটানো। তাই এই প্রস্তাব আর এগিয়ে নেওয়া হবে না।’
বিশ্বকাপ পরিচালনায় দুই হাজার কোটি ডলারের একটি নতুন কোম্পানি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন ইনফান্তিনো। এতে কুশনার পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের অংশীদার করার পরিকল্পনা ছিল। তবে গত মঙ্গলবার পরিকল্পনাটি প্রকাশের পর থেকেই এর বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
এরপর গত বৃহস্পতিবার উয়েফার ৫৫টি সদস্য দেশ ইনফান্তিনোর পরিকল্পনার প্রতিবাদে বিশ্বকাপসহ ফিফার সব প্রতিযোগিতা বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনও (এএফসি) এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করে।
উয়েফা এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘কিছু বিষয় বিক্রির জন্য নয়। ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের সম্পদ। এটি সবসময়ই ফুটবলেরই থাকবে। ইউরোপের কণ্ঠস্বর যতদিন থাকবে, ততদিন এটি বিক্রির জন্য উন্মুক্ত হবে না।’
এদিকে, এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শুক্রবার ফিফার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লস কর্দেইরো পদত্যাগ করেন। এর আগে হোয়াইট হাউসের বিশ্বকাপ টাস্কফোর্সে ফিফার প্রতিনিধি ছিলেন তিনি।
পদত্যাগের পর কর্দেইরো বলেন, ‘বিশ্বকাপের অংশীদারত্ব বিক্রির বিষয়টি বিবেচনা করছে—এমন অবস্থায় আমি নীরব থাকতে পারি না।’
এর কয়েক ঘণ্টা আগে অবশ্য ফিফা দাবি করেছিল, ‘কেউ ফুটবল বিক্রি করছে না।’
পরে ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) কেভিন লামুর বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ইনফান্তিনো গত কয়েক মাস ধরে পরিকল্পনাটি নিয়ে যথেষ্ট স্বচ্ছতা দেখাননি এবং এতে ফিফার কর্মকর্তারা বিভ্রান্ত হয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘এটি কেবল একজন ব্যক্তির প্রকল্প। শুধু এই প্রকল্পই বন্ধ হওয়া উচিত নয়, ফুটবলের রাজনৈতিক নেতৃত্বেরও এখন নিজেদের প্রয়োজনীয় প্রশ্ন করা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে।’
ইনফান্তিনোর পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপ এবং ক্লাব বিশ্বকাপসহ ফিফার বাণিজ্যিক কার্যক্রম একটি ২০ বিলিয়ন বা ২ হাজার কোটি ডলারের সহযোগী প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হতো। এর ২০ শতাংশ মালিকানা থাকত বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে।
ফিফার তথ্যমতে, এই প্রকল্পের প্রধান বিনিয়োগকারী হওয়ার কথা ছিল নিউইয়র্কভিত্তিক একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান, যা প্রতিষ্ঠা করেছেন জশুয়া কুশনার। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ছোট ভাই।
আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পোল্যান্ডে শুরু হতে যাওয়া অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপ ফিফার পরবর্তী টুর্নামেন্ট। উয়েফার সদস্যদেশগুলো এই আসরও বয়কটের ঘোষণা দিয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যর্থ উদ্যোগ ইনফান্তিনোর জন্য রাজনৈতিকভাবে ব্যয়বহুল হতে পারে। বিশেষ করে ফিফার শীর্ষ দুই কর্মকর্তা কার্লোস কর্দেইরো ও কেভিন লামুরের প্রকাশ্য বিরোধিতা তার অবস্থানকে দুর্বল করে দিতে পারে।
২০১৯ ও ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনর্নির্বাচিত ইনফান্তিনো ফিফার গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আরও একবার চার বছরের জন্য সভাপতি পদে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। আগামী নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমার শেষ সময় ১৮ নভেম্বর এবং ভোট হবে মরক্কোর রাজধানী রাবাতে।
দীর্ঘদিন ধরেই তার নেতৃত্বের ধরন এবং অজনপ্রিয় বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও এবার বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব বিক্রির ব্যর্থ পরিকল্পনা তার ভবিষ্যৎ অবস্থানকে আরও অনিশ্চিত করে তুলতে পারে।
১১ দিন আগে
ফ্রান্স-স্পেনে দাবানল, জরুরি বৈঠক ডেকেছেন মাক্রোঁ
ফ্রান্সে কয়েক দিন ধরে চলা ভয়াবহ দাবানল পরিস্থিতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ আজ সোমবার একটি জরুরি সংকট বৈঠক ডেকেছেন। দেশটিতে আগুনে বিশাল এলাকা পুড়ে যাওয়ায় আড়াই লাখেরও বেশি মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
একই সময়ে স্পেনেও একাধিক দাবানল নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে ফ্রান্সে সবচেয়ে বড় দাবানলটির বিস্তার এখন কিছুটা ধীর হওয়ায় কিছুটা স্বস্তির আভাস মিলেছে।
ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিরন্দ অঞ্চলে দাবানলে ইতোমধ্যে প্যারিস শহরের আয়তনের চার গুণেরও বেশি এলাকা পুড়ে গেছে। গত কয়েক দিন ধরে ভয়াবহ এই আগুন ধীরে ধীরে বিশ্বের বিখ্যাত ওয়াইন উৎপাদন অঞ্চল বোর্দোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল।
তবে এরই মধ্যে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, গতরাতে দাবানল পরিস্থিতি আগের তুলনায় স্থিতিশীল ছিল। আগুনের বিস্তার কিছুটা কমে আসায় পরিস্থিতি নিয়ে আশার আলো দেখা যাচ্ছে।
দেশুটিতে নতুন করে কোনো এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে আগস্ট মাসে ফ্রান্সে পর্যটনের সবচেয়ে ব্যস্ত মৌসুম শুরু হয়। সেটি মাথায় রেখে জিরন্দ কর্তৃপক্ষ পর্যটকদের ওই এলাকা থেকে দূরে রাখতে আরও কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে শিশু ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পরিচালিত সকল ছুটির ক্যাম্প বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে, ফ্রান্সে আগুন নিয়ন্ত্রণে স্থল ও আকাশ—দুই দিক থেকেই ব্যাপক অগ্নিনির্বাপণ অভিযান চলছে। এমনকি, পানি ও অগ্নিনির্বাপক রাসায়নিক বহনকারী বিমান আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে, এমন পূর্বাভাস রয়েছে। তাই আগে থেকেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলকর্মীরা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন।
১৬ দিন আগে
নরওয়েতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক বাড়ি ভস্মীভূত
নরওয়েতে স্মরণকালের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এ দুর্ঘটনায় শতাধিক বাড়ি পুড়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতি কমাতে শত শত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
দক্ষিণ নরওয়ের ড্রামেন শহরের একটি টাউনহাউসে স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ড্রামেন শহরটি নরওয়ের রাজধানী অসলো থেকে প্রায় ৩৪ কিলোমিটার (২১ মাইল) দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।
কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন আশপাশের এলাকায় এবং কাছের বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে যা নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হচ্ছে দমকলকর্মীদের। শনিবার সকালেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দমকলকর্মীরা।
নরওয়ের বেসামরিক সুরক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, আধুনিক সময়ে এ ধরনের সবচেয়ে বড় অগ্নিকাণ্ড এটি।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনআরকে জানায়, অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে শত শত মানুষকে একটি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো বাসিন্দা নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে আগুন লাগার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
২৫ দিন আগে
ট্রাম্পের সমালোচনার জবাবে বড় অস্ত্রচুক্তি উন্মোচন করবে ন্যাটো
প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনার জবাবে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ন্যাটো। এ লক্ষ্যে জোটটি শত শত কোটি ডলারের নতুন অস্ত্রচুক্তি ও সামরিক প্রকল্প ঘোষণা করবে। এর মাধ্যমে ন্যাটো ট্রাম্পকে দেখাতে চায়, সংগঠনটির সদস্য দেশগুলো শুধু প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে না, বাস্তবেও নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি ও ন্যাটোর নজরদারি সক্ষমতা শক্তিশালী করা এবারের সম্মেলনে গুরুত্ব পাবে।
সম্মেলনে ‘বিগ রিভিল’ নামের অনুষ্ঠানে ন্যাটোর কয়েকজন নেতার প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে নতুন একাধিক চুক্তি ঘোষণা করার কথা রয়েছে। তবে এসব চুক্তির বেশিরভাগই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে হবে।
ট্রাম্প এর আগে ন্যাটোকে ‘কাগুজে বাঘ’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। তার দাবি ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও নেতৃত্ব ছাড়া ন্যাটো কার্যকরভাবে চলতে পারবে না।
এদিকে, সম্মেলনের আগের দিন ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে সাংবাদিকদের জানান, ‘আমরা কয়েক দশক বিলিয়ন ডলারের নতুন চুক্তি ঘোষণা করব, যা ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোতে প্রতিরোধ ও আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করবে।’
এর কয়েক সপ্তাহ আগে ন্যাটোতে প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ কমানোর চেষ্টা করেছিলেন রুটে। সে সময় তিনি ‘দ্য ট্রাম্প ট্রিলিয়ন’ শিরোনামের একটি চার্ট উপস্থাপন করেন। সেখানে দেখানো হয়, ২০১৭ সাল থেকে ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো ও কানাডা প্রতিরক্ষা খাতে মোট ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে।
তবে তাতেও সন্তুষ্ট হননি ট্রাম্প। সে সময় ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ন্যাটোর কয়েকটি সদস্য দেশ অংশ না নেওয়ায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেছিলেন। ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘তাদের অর্থ আমাদের দরকার নেই। আমাদের কিছুই দরকার নেই। আমি শুধু বিশ্বস্ততা চাই।’
নতুন নজরদারি বিমানবহর কেনার পরিকল্পনা
ন্যাটোর চুড়ান্ত চুক্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, তাদের পুরোনো নজরদারি বিমান বদলে নতুন বিমান কেনার পরিকল্পনা। এসব চুক্তির বেশিরভাগই সম্মেলনের আগেই প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া কিছু চুক্তিতে ইতোমধ্যে সইও হয়েছে।
ন্যাটো একটি জোট হিসেবে নিজস্ব কোনো অস্ত্রের মালিক নয়। অস্ত্রগুলো ৩২টি সদস্য রাষ্ট্রের মালিকানাধীন। তবে সংগঠনটির প্রায় ৫০ বছর পুরোনো এডব্লিউএসি নজরদারি বিমান ও কিছু আধুনিক নজরদারি ড্রোন রয়েছে।
এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিরক্ষা ঋণ কর্মসূচির মাধ্যমে কয়েকটি প্রকল্পের অর্থায়ন হবে। এই কর্মসূচির আওতায় পুঁজিবাজার থেকে সর্বোচ্চ ১৭০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করে স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়া হবে।
রুটে জানান, ‘আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, অর্থনৈতিক শক্তিকে আমরা সামরিক সক্ষমতায় রূপ দিতে পারছি। প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা—সব ক্ষেত্রেই এই অর্থ কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে।’
সম্মেলনটি তুরস্কের আঙ্কারায় প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের বিশাল প্রাসাদ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এদিকে, ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি সেখানে তুর্কি প্রেসিডেন্টের জন্য কিছু ‘উপহার’ নিয়ে যেতে পারেন।
তুরস্কের কাছে যুদ্ধবিমান বিক্রির বিরোধিতা নেতানিয়াহুর
অন্যদিকে, সোমবার ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এরদোয়ান ইসরায়েলকে ধ্বংস করতে চান।
তুরস্ক ও ইসরায়েলের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই তিক্ত। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় শুরু হওয়া যুদ্ধ নিয়ে এরদোয়ান প্রায়ই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলে আসছেন।
এর আগে ২০১৯ সালে রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর তুরস্ককে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। তবে ট্রাম্পের সঙ্গে এরদোয়ানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ন্যাটো সম্মেলনের তার আঙ্কারা সফরের আগেই ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, খুব শিগগিরই তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ বিক্রি শুরু হতে পারে।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ বিক্রি হলে মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্য নষ্ট হবে। সেই ভারসাম্য মূলত মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে।’
এদিকে, ইসরায়েলি বিমানবাহিনী শত শত মার্কিন যুদ্ধবিমানের ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে রয়েছে এফ-৩৫, এফ-১৬ এবং এফ-১৫।
৩৬ দিন আগে
ইউক্রেনে ফের রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, নিহত অন্তত ১৮
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে আবারও দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ৬০ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (৬ জুলাই) ভোরে এ হামলা চালানো হয়।
এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই অবশ্য রাজধানীতে রাশিয়ার আরেকটি বড় ধরনের হামলা হতে পারে সতর্ক করেছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, এ হামলায় কিয়েভের একাধিক আবাসিক বহুতল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপে জীবিত কাউকে খুঁজে পেতে অভিযান চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো এক টেলিগ্রাম পোস্টে বলেন, রাশিয়া আবাসিক ভবনগুলোতে হামলা চালিয়েছে। এসব ভবনে মানুষ নিশ্চিন্তে ঘুমাত। এখানে তারা স্বাভাবিক জীবনযাপন করত।
তিনি জানান, পোদিলস্কি জেলায় একটি আবাসিক ভবনের একটি অংশ ধসে পড়েছে। এছাড়া দারনিৎসিয়া জেলায় কয়েকটি বহুতল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকে পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দেশটির কর্তৃপক্ষ জানায়, এ হামলায় ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোনও ব্যবহার করা হয়েছে। দফায় দফায় বিস্ফোরণের শব্দে পুরো কিয়েভ শহর কেঁপে উঠেছিল। এ সময় নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অনেক মানুষ মেট্রো স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নেন।
গত সপ্তাহে কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছে। তার কয়েক দিনের পরেই আবারও সোমবার এই হামলা করল রাশিয়া।
গত রবিবার গভীর রাতে টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি পশ্চিমা মিত্রদের প্রতি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। বিশেষ করে ইউক্রেনে আরও বেশি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ইউক্রেনের কাছে এসব ক্ষেপণাস্ত্র পর্যাপ্ত পরিমাণে না থাকলে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করা কঠিন হবে। এতে রাশিয়া আরও হামলা চালাতে উৎসাহিত হবে। এর ফলে চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হবে।
৩৭ দিন আগে