ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের অঞ্চলে রাশিয়ার রাতভর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। হামলায় আরও অন্তত ৪৪ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা সংস্থা।
স্থানীয় সময় বুধবার (৫ আগস্ট) ভোর পর্যন্ত এ হামলা চালানো হয়।
এ বছর গ্রীষ্মে রাশিয়ার বড় আকারের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রায় নিয়মিত হয়ে উঠেছে। গতরাতের (বুধবার) হামলাটি ছিল সেই ধারাবাহিক হামলার সর্বশেষ একটি ঘটনা।
যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ‘প্যাট্রিয়ট’ নামের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা ‘ইন্টারসেপ্টর’ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ইউক্রেনের হাতে সীমিত। একমাত্র ইন্টারসেপ্টরের মাধ্যমেই রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা সম্ভব। বর্তমানে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইউক্রেনের হাতে নেই। তাই রাশিয়া একসঙ্গে অনেক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লে সেগুলো প্রতিহত করা ইউক্রেনের পক্ষে কঠিন হয়ে যায়।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা সংস্থা জানিয়েছে, এ হামলায় রাজধানী কিয়েভের আশপাশের বিস্তৃত অঞ্চলে ১৪ জন নিহত ও ২৭ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া দেশটির ব্রোভারি, বুচা ও ফাস্টিভ জেলায় একাধিক স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ফলে হাব্রোভারি শহর ও ভেলিকা ডাইমেরকা, কভিটনেভে ও পেরেমোহা গ্রামের বড় বড় গুদামঘরে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। ফাস্টিভ জেলায় একটি প্রতিষ্ঠানের যানবাহনে লাগা আগুন পরে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। অন্যদিকে, বুচা জেলার সোফিইভস্কা বরশচাহিভকার একটি লজিস্টিকস কেন্দ্রে আগুন নেভানো হয়। পরে চাইকি গ্রামের আরেকটি গুদামঘরে আগুন নেভান দমকলকর্মীরা।
হামলায় রাজধানী কিয়েভে একজন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে, কিয়েভ সিটি মিলিটারি প্রশাসন জানিয়েছে, ওবোলনস্কি, সভিয়াতোশিনস্কি, হলোসিয়িভস্কি ও দেসনিয়ানস্কি এসব জেলায় হামলার ফলে সৃষ্ট আগুন জরুরি সেবা কর্মীরা নিয়ন্ত্রণে এনেছেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়নবিষয়ক উপদেষ্টা সেরহি বেসক্রেস্টনভ বলেন, ‘এই যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি এখন নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। শত্রুপক্ষ নির্বিচারে সবকিছুতে হামলা চালাচ্ছে। খুচরা পণ্যের গুদাম, খাদ্য সংরক্ষণাগার, লজিস্টিকস হাব, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও নির্মাণসামগ্রীর গুদামঘর কোনো কিছুই তারা বাদ রাখেনি।’
রাশিয়ার বড় ধরনের হামলার শিকার হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি হলো ‘এপিসেন্টর’। এটি ইউক্রেনের অন্যতম বৃহৎ খুচরা বিক্রয় ও নির্মাণসামগ্রী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান।
ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ‘প্রতিষ্ঠানটি কয়েক দশক ধরে যা গড়ে তুলেছিল, মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র তা ধ্বংস করে দিয়েছে। হামলায় প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মী নিহত ও আরও ৩ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া রাশিয়ার হামলায় প্রতিষ্ঠানটির দুটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিকস হাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ ছাড়াও সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে প্রতিষ্ঠানটির সিরামিক টাইলস কারখানার উৎপাদন বিভাগ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে কোম্পানিটি সেখানে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে তা বিদেশে স্থানান্তর করতে বাধ্য হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে তাদের প্রায় ২ বছর সময় লাগতে পারে।
এপিসেন্টর আরও জানায়, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য ইউক্রেনীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিও তারা সংহতি প্রকাশ করছে। কারণ, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের পেছনে কত বছরের পরিশ্রম, চেষ্টা, বিশ্বাস ও দায়বদ্ধতা রয়েছে, তা তারা ভালোভাবেই জানে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনও রাশিয়ার খুচরা পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি দেশটি রাশিয়ার অ্যামাজন নামে পরিচিত ওয়াইল্ডবেরিজের একাধিক গুদামে হামলা চালিয়েছে। বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে মস্কোর অর্থনীতিতে ক্ষতি করা ও রাশিয়ার জনগণকে যুদ্ধের মূল্য উপলব্ধি করাতে ইউক্রেন এসব হামলা চালাচ্ছে।