জামায়াত
রাজনীতিকে পেশা নয়, কর্তব্য হিসেবে নিয়েছি: শফিকুর রহমান
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, রাজনীতি আমাদের পেশা নয়, রাজনীতিকে আমরা কর্তব্য হিসেবে নিয়েছি। যারা রাজনীতিকে পেশা হিসেবে নিয়েছে, তারা দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, লুণ্ঠন ও মামলাবাজি করে। গত ১৫ বছর এদেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। এসব টাকার মালিক এ দেশের জনগণ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের কপালে ভালো পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে না। চাঁদাবাজ, মামলাবাজদের ভয়ে সাধারণ মানুষ অস্থির। বংশানুক্রমিকভাবে রাজার ছেলে রাজা হবে—এ ধারণা পরিবর্তন করতে চাই।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের আমির এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, দুর্নীতি আমাদের আগাগোড়া খেয়ে ফেলেছে। এর জন্য সাধারণ মানুষ নয়, যারা বিগত দিনে দেশ শাসন করেছেন, মূলত তারাই এর জন্য দায়ী। আমাদের দেশের মানুষের হাতের ছোঁয়ায় অন্য দেশের কপাল বদলে যায়, কিন্তু এ দেশের কপাল বদলায়নি শুধুমাত্র অসৎ নেতৃত্বের কারণে। ভোটের সময় এরা জনগণের কাছে যায় পীর-দরবেশ সেজে, বসন্তের কোকিল হয়ে সুবাতাস উপভোগ করার জন্য। উন্নয়নের গঙ্গা বইয়ে দেয়। পরে তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না।
তিনি বলেন, আমরা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য ময়দানে নেমেছি। দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দুর্নীতি চাঁদাবাজদের হাত বন্ধ করে দেব। ব্যবসায়ীদের রাতের ঘুম হারাম হবে না, ফুটপাতের হকারদের চোখের পানি ফেলতে হবে না। আমরা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে জনগণের সম্পদের পাহারাদার হব। জনগণের তহবিলের অপব্যবহার করব না। প্রত্যেক সাংসদ প্রতি বছর নিজের এবং পরিবারের সকল সদস্যের সম্পদের হিসাব দেবেন। সরকারি প্লট ও ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি নেব না। প্রয়োজনে রিকশায় বা পায়ে হাঁটব।
এই রাজনীতিক আরও বলেন, তরুণরা বেকার ভাতা চায় না, মর্যাদার কাজ চায়। এজন্য গ্রামে কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে।
যুবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরা তৈরি হয়ে যাও, আগামী দিনের বাংলাদেশ তোমাদের হাতে তুলে দিতে চাই।
মায়ের জাতিকে সম্মান করার অনুরোধ জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, কিছু কিছু রাজনৈতিক ভাই-বন্ধু কীভাবে বলেন— বোরকা, নেকাব, হিজাব পরে আসলে তা খুলে ফেলবেন? বলতে বলতে তারা একদিন পুরো কাপড়ই খুলে ফেলবেন। এরা কী কোনো মায়ের গর্ভ থেকে দুনিয়াতে আসেনি? যদি এসে থাকে, তবে তাদের বলব, মায়ের জাতিকে সম্মান দেওয়া শিখুন; আপনার মাকে সম্মান করুন; তা হলেই দেশের ৯ কোটি মাকে সম্মান করতে পারবেন।
হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জামায়াতের আমির বলেন, অনেক হয়েছে, এসব আর বরদাশত করা হবে না। প্রয়োজনে জীবন দেব, কিন্তু মায়ের ইজ্জত কেড়ে নিতে দেব না। হাদি, আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদসহ সকল শহিদের হত্যাকারীদের ন্যায়বিচার করা হবে।
সরকারি কর্মচারীদের প্রতি নির্বাচনে নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা কেবল জামায়াতের বিজয় চাই না, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই।
জেলা জামায়াতের আমির মখলিছুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুল বাসিত আজাদ, কাজী মহসিন আহমেদ, ড. আহমদ আব্দুল কাদেরসহ স্থানীয় ও কেদ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।
১৩ ঘণ্টা আগে
নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে গোলাম পরওয়ারের উদ্বেগ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে গুরুতর সংশয় প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, সরকারের হাতে এখনও ৭ দিন সময় রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তার এবং কালো টাকার দৌরাত্ম্য বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করা কঠিন হয়ে পড়বে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) খুলনা প্রেসক্লাবে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করতে গিয়ে এ শঙ্কার কথা জানান। মিয়া গোলাম পরওয়ার খুলনা-৫ আসন (ডুমরিয়া-ফুলতলা) থেকে জামায়াত মনোনীত ও ১১ দলীয় জোট সমর্থিত ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের সংসদ সদস্য প্রার্থী।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, নির্বাচন কমিশন ও অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারপ্রধানের পক্ষ থেকে অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচনের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তব পরিস্থিতি সেই আশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের এখনও ১ সপ্তাহ বাকি, অথচ এখনই প্রার্থী, কর্মী ও ভোটারদের ওপর হামলা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে জনগণ নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবে না।’
নির্বাচনের পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখার দায়িত্ব সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন কমিশনের। এ বিষয়ে সরকার নির্লিপ্ত থাকলে অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের সুযোগ হাতছাড়া হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বক্তব্য ভাইরাল হয়েছে, যেখানে একজন রাজনৈতিক নেতা প্রকাশ্যে বলেছেন, দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট চাইতে গেলে নারীদের পোশাক খুলে নিতে হবে। এটা শুধু রাজনৈতিক সহিংসতা নয়, এটি নারী মর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত। যারা ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই এ ধরনের হুমকি দেয়, তারা ক্ষমতায় গেলে কী করবে সেটা ভেবেই আমরা আতঙ্কিত।’
এ সময় সংখ্যালঘু ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার অভিযোগ, খুলনা-৫ আসনের বিভিন্ন এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিলে ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও মিটিং করতে গেলে তাদের জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে, দাঁড়িপাল্লার সভায় গেলে খবর আছে। অন্যদিকে, কিছু এলাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সাবেক জনপ্রতিনিধিদের জোরপূর্বক বাড়ি থেকে তুলে এনে নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এটা ভোট নয়, জোর করে রাজনৈতিক অবস্থান চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা।’
নিজের নির্বাচনি এলাকায় প্রচারণা বাধাগ্রস্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ফুলতলা ও ডুমুরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় তার নির্ধারিত সভা-সমাবেশে পরিকল্পিতভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে। একাধিক স্থানে চেয়ার-টেবিল ভেঙে সভা ভন্ডুল করা হয়। একটি এলাকায় গণসংযোগ শেষে নির্ধারিত সভাস্থলে পৌঁছানোর আগেই প্রতিপক্ষের লোকজন গিয়ে চেয়ার সরিয়ে নেয় এবং সভা করতে বাধা দেয়। বিষয়টি থানাকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে আটক বা আইনি ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনের বড় অংশজুড়ে ছিল কালো টাকা ও ভোট কেনার অভিযোগ। এ বিষয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, খুলনা-৫ আসনে সংগঠিতভাবে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ ঢালছে একটি পক্ষ। উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক কোটা নির্ধারণ করে বাড়ি বাড়ি টাকা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। কালো টাকার দাপটে রাজনীতি কলুষিত হচ্ছে। প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে এ জামায়াত নেতা বলেন, প্রত্যেক থানার কাছে সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের তালিকা থাকা সত্ত্বেও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার কিংবা পরিচিত সহিংসদের গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও আন্তরিকতার অভাব রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সাইবার হামলার একটি বিস্তারিত অভিযোগও তুলে ধরেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তার দাবি, জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট এবং পরবর্তীতে তার নিজের টুইটার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছে।
তিনি জানান, তদন্তে একটি সরকারি দপ্তরের একজন কর্মকর্তার ই-মেইল থেকে ভারতীয় উৎসের ভাইরাস ব্যবহার করে এই হ্যাকিং করা হয়েছে বলে তাদের সাইবার টিম শনাক্ত করেছে। এ ঘটনায় সাইবার আইনে মামলা করা হয়েছে এবং ডিবি পুলিশ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ল্যাপটপসহ আটক করেছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওই কর্মকর্তাকে ছাড়িয়ে নিতে উচ্চপর্যায়ে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল, তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশ তাকে মুক্তি দিতে পারেনি।
২ দিন আগে
সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে: শফিকুর রহমান
সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, এই বাংলাদেশে যারা মাইনরিটির (সংখ্যালঘু) অধিকার নিয়ে বেশি হাল্লাচিল্লা করতেন, সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকার আপনাদের পাশে সাঁওতাল পল্লীতে (গাইবান্দার সাহেবগঞ্জ) কী করেছে, আপনারা কি দেখেন নাই? তারা কি আমাদের ভাইবোন না? তারা কি এ দেশের নাগরিক না? আমরা তাদের কথা দিচ্ছি, আমরা সবাইকে বুকে ধারণ করে সামনে আগাব। আমরা সকলের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করব।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের এটিম মাঠে নওগাঁ জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতের আমির বলেন, কোনো পরিস্থিতি হলেই যারা মুসলমান নন, তারা ভয়ের সংস্কৃতিতে থাকবেন কেন? সেই ভয়ের সংস্কৃতিকে আমরা গুড়িয়ে একাকার করে দিতে চাই। সেই পরিবেশ আমরা রাখব না। এদেশ আমাদের সকলের। সবাইকে নিয়েই আমরা চলব।
নারীদের ঘরে ও কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘মায়েদের জন্য ঘরে, চলাচলে, কর্মস্থলে—সব জায়গায় মর্যাদা আর নিরাপত্তা—এই দুইটা জিনিস নিশ্চিত করা হবে। কোনো জালিম সাহস করবে না নারী জাতির কারও দিকে চোখ তুলে তাকানোর, সেই পরিবেশ তৈরি করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘এই অবস্থা দেখে অনেকে বেসামাল। ভাই, মাঘ মাসে মাথা গরম করবেন, চৈত্র মাস সামনে। এখনি যদি মাথা গরম করেন, চৈত্র মাসে কী করবেন? মাথা ঠান্ডা রাখেন। মানুষ কী ভাবছে, কান পেতে শোনেন। দেশ বাঁচলে আপনিও বাঁচবেন। এই ভোটটা আগামীতে হবে ইনশাআল্লাহ ইনসাফের প্রতীক।’
শফিকুর রহমান বলেন, নারীদের হুমকি-ধমকি, গায়ে হাত এগুলো যদি বন্ধ না রাখেন, তাদের মনে করিয়ে দিতে চাই, জুলাইয়ের ১৫ তারিখে মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়ার জন্য যেভাবে যুবক ভাইয়েরা গর্জে উঠেছিলেন। আবার বিস্ফোরিত হবে, গর্জে উঠবে। মায়ের অপমান সহ্য করবে না।
তিনি বলেন, ‘শুধু রাজার ছেলে রাজা নয়, বংশ পরম্পরায় নেতা নয়, বরং আজকে যিনি কঠোর পরিশ্রম করে রিকশা চালিয়ে নুন আনতে পান্তা ফুরায়, তার ছেলেরও যে মেধা আছে সেই মেধাকে বিকশিত করে আগামীর প্রধানমন্ত্রী যেন বের হয়ে আসে। তাহলে ওরা বুঝবে, দুঃখি মানুষের কষ্ট। আর এভাবেই জমিদারি প্রথার রাজনীতি ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে।’
সরকার গঠন করলে চাঁদাবাজ ও দুর্নীতবাজদের জামায়াত প্রশ্রয় দেবে না উল্লেখ করে দলটির আমির বলেন, ‘আমাদের অঙ্গীকার চাঁদাবাজি আমরা করি না। চাঁদাবাজি আমরা কাউকে করতে দেব না। দুর্নীতি আমরা পছন্দ করি না। বগলের নিচে দুর্নীতিবাজদের আশ্রয় দেব না। ব্যাংক ডাকাতি আমরা করি না। কোনো ব্যাংক ডাকাতের সঙ্গে আমাদের আপোষ হবে না। মামলাবাজি আমাদের খাসলত (স্বভাব) নয়। মামলা বাণিজ্য যারা করেছেন তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, ৫৪ বছরে যারা ক্ষমতায় ছিলেন তারা নিজেদের পকেট পুরেছেন। ব্যাংক, বিমা লুট করেছেন। বড় বড় মেগা প্রকল্পের মেগা দুর্নীতি করেছেন। দুর্নীতির টাকা দেশে রাখতে পারে নাই। সেই টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। ক্ষমতায় এলে এই সব চোরদের মুখে হাত ঢুকিয়ে পেট থেকে সব টাকা বের করে আনা হবে।
উত্তরবঙ্গে কৃষির রাজধানী উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘সারা দেশের মধ্যে নওগাঁ জেলায় দশ ভাগের এক ভাগ উৎপন্ন হয়ে থাকে। কিন্তু এই জেলা তার ন্যায্য পাওনা পায়নি। নওগাঁ শহরের ভেতর দিয়ে চলা প্রধান সড়কটি চার লেন হওয়া দরকার। জামায়াত ক্ষমতায় এলে এই সড়কটি চার লেন করা হবে। এই জেলায় ব্যাপক পরিমাণে ধান ও ফল উৎপন্ন হয়ে থাকে। কিন্তু কৃষকেরা তাদের ফসলের ন্যায্য মূল্য পায় না। উৎপাদিত ফল সংরক্ষণের জন্য সংরক্ষণাগার তৈরি করা হবে। ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে তোলা হবে। প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলো সংরক্ষণ করে পর্যটন শিল্পকে আরও বিকশিত করা হবে।
নওগাঁ জেলা জামায়াতের আমির ও নওগাঁ-৪ আসনের জামায়াতের প্রার্থী আব্দুর রাকিবের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন নওগাঁর বিভিন্ন আসনের প্রার্থীসহ অন্যান্য নেতারা।
২ দিন আগে
একটি দল তাইরে নাইরে বলে ঝাঁপিয়ে পড়ে, তাদের বড় নেতারাও তাতে সায় দেয়: জামায়াত আমির
নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল হ্যাক করে তাকে বিব্রত অবস্থায় ফেলে একটি দল অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, একটি দল তাইরে নাইরে বলে ঝাঁপিয়ে পড়ে। লজ্জাজনকভাবে তাদের চুনোপুঁটিসহ বড় বড় নেতারাও তাতে সায় দেয়। তবে সত্য কখনও ঢাকা থাকে না।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুড়িগ্রাম কলেজ মাঠে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চার দিন আগে আমার এক্স (সাবেক টুইটার) আইডি হ্যাক করে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হয়েছিল। একটি দল তাইরে নাইরে বলে ঝাঁপিয়ে পড়ে। লজ্জাজনকভাবে তাদের চুনোপুঁটিসহ বড় বড় নেতারাও তাতে সায় দেয়। তবে আমাদের সাইবার টিম দ্রুত অভিযুক্তকে শনাক্ত করেছে এবং পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। সত্য কখনো ঢাকা থাকে না।
তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী এই যুগে সবচেয়ে বড় দল হলেও আমরা কোনো দলীয় সরকার কায়েম করতে চাই না। আমরা পরিবারতন্ত্র বা গোষ্ঠীতন্ত্রও কায়েম করতে চাই না। এমনকি আমরা বাংলাদেশ ইসলামী কিংবা জামায়াতের বিজয়ও চাই না, আমরা চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়।
‘এই বিজয়ের সূচনা হয়েছে তিস্তাপাড় থেকে। সারা বাংলায় এখন মুক্তির গণজোয়ার শুরু হয়েছে। এ আন্দোলনে দেশের মেয়েরাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি যুগিয়েছে। মা-বোনদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। আমাদের সবকিছুর বিনিময়ে আপনাদের চলাচলে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।’
৩ দিন আগে
জামায়াতের নয়, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই: ডা. শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা জামায়াতে ইসলামীর দলীয় সরকার কায়েম করতে চাই না। জামায়াতে ইসলামের বিজয়ও আমি চাই না, আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। ১৮ কোটি মানুষের বিজয় হলে সে বিজয় আমাদের সবার।’
তিনি বলেছেন, ‘দল-গোষ্ঠী ও পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির বিজয় আমাদের কাছে নেই। এই ভোটে পুরোনো রাস্তায় যারা হাঁটতে চাইবে, অন্ধকার গলিতে তারা তাদের রাস্তায় তারা হাঁটুক। আমরা সদর রাস্তায়, আলোকিত রাস্তায় হাঁটব।’
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি উপজেলার কটিয়াদি সরকারি কলেজ মাঠে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১২ তারিখ পর্যন্ত জনতার রায়কে আপনারা সম্মান করুন। সুষ্ঠু নির্বাচনে যিনি নির্বাচিত হয়ে আসবেন, আমরা তাকে অভিনন্দন জানানোর জন্য প্রস্তুত। কিন্তু চোরাই পথে আর কোনো নির্বাচন হবে না এবং দেওয়া হতে যাবে না। সমস্ত চোরাই পথ বন্ধ করে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, এ দেশকে নিয়ে তোমরা সামনের দিকে এগোবে। এখন শুধু সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা। পেছন দিয়ে যারা কামড়াকামড়ি করে, তাদের আমরা কামড়াকামড়ি করতে দেব। ওরা কামড়াকামড়ি করুক, আমরা জাতিকে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাব।
জামায়াত আমির বলেন, যারা আমাদের দেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা চুরি করে বিদেশে পালিয়ে গেছে, ওদের পেটে হাত ঢুকিয়ে সেই টাকা বের করে আনব। এই টাকাগুলো রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হবে। এ দিয়ে ৫৬ হাজার বর্গমাইলের উন্নয়ন সাধন করা হবে।
জনসভায় কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতে আমির অধ্যক্ষ রমজান আলীর সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য মেজর আখতারুজ্জামান রঞ্জন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ জি এস সাঈদ বিন হাবিবসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা।
পরে তিনি কিশোরগঞ্জের পাঁচটি আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের হাতে মার্কা তুলে দিয়ে ভোট চান।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার আমির অধ্যাপক রমজান আলী। ভোর হওয়ার আগ থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সভাস্থলে আসতে শুরু করেন। জনসভায় ১১ দলীয় জোটের শরিক বিভিন্ন দলের জেলা ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।
৪ দিন আগে
ঐক্যের সরকার গড়তে চায় জামায়াত, বিরোধীদেরও দেবে অংশগ্রহণের প্রস্তাব
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাক্তার শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা কথা দিচ্ছি; আগামীতে ঐক্যের সরকার গড়ব। আমরা সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করলে, যারা এখন আমাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাদেরও প্রস্তাব দেব দেশ চালাতে ভূমিকা রাখার জন্য। তবে শর্ত হচ্ছে দুর্নীতি করতে পারবেন না, জুলাইকে বাস্তবায়ন করতে হবে।’
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম হাই স্কুল মাঠে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সবসময় মজলুমের পক্ষে ছিল, আছে এবং থাকবে। আমরা জামায়াতে ইসলামীর আলাদা কোনো বিজয় চাই না; আমরা চাই ১৮ কোটি মানুষের সম্মিলিত বিজয়। যে আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রতীক থাকবে সেখানে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যেতে হবে, যাতে ৩০০ আসনেই বিজয় নিশ্চিত হয়।
শফিকুর রহমান বলেন, যারা আমাদের মা-বোনদের গায়ে হাত দেয়, তাদের হাতে দেশের ৯ কোটি মা–বোন কখনোই নিরাপদ নয়। মা–বোনদের ওপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
এ সময় বিএনপিকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, মজলুম কীভাবে জালিমে পরিণত হয়? আপনারাও তো একসময় মজলুম ছিলেন, এখন কেন জালিম হলেন?
এই রাজনীতিক বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আজ একটি বাস্তব পরিবর্তন দেখতে চায়। ভোটের দিন ১২ তারিখের পর ১৩ তারিখে যে নতুন অধ্যায় শুরু হবে, তার ভরকেন্দ্রে থাকবে যুবসমাজ এবং দেশের মা-বোনেরা।
তিনি বলেন, বিগত সময়ে শত অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করেও আমরা দেশ ছাড়িনি। আমরা ছিলাম, আমরা আছি এবং আমরা থাকব ইনশাআল্লাহ। আমরা মজলুম ছিলাম, মজলুমে দুঃখ আমরা বুঝি। এজন্য আমরা কখনও জালিম হবো না।’
নারী ভোটারদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, মা-বোনেরা কোনো জুজুর ভয় পাবেন না। কোনো ভয়-ভীতিতে আপনারা ক্ষান্ত হবেন না। আপনারা ন্যায়ের পক্ষে ভোট দিন; চাঁদাবাজদের রুখে দিন। জামায়াত ক্ষমতায় এলেই মা-বোনেরা নিরাপদে থাকবেন। আপনারা সেই মা যারা আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদ আর ওসমান হাদিদের জন্ম দিয়েছেন। যারা আপনাদের ভয় দেখায় আপনারা তাদের রুখে দিন। বলুন ভোট আমি দিতে যাব, ন্যায়-ইনসাফের পক্ষে দেব, পারলে ঠেকাও।
যুবকদের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, কোনো যুবকের হাতে বেকার ভাতা তুলে দেব না। যুবকদের দেশ গড়ার কারিগরে পরিণত করব। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে আমরা যুবকদের সম্মানের জায়গায় বসাতে চাই।
জামায়াতে ইসলামীর এ নির্বাচনি জনসভায় এ সময় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দলটির নায়েবে আমির ও কুমিল্লা-১১ আসনের প্রার্থী ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা।
৭ দিন আগে
নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই: ডা. শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ১১ দলীয় জোটের প্রধান ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা জনগণের কাঙ্ক্ষিত বৈষম্যহীন বাংলাদেশ চাই। অতীতের বস্তাপঁচা, দুর্নীতিযুক্ত ফ্যাসিবাদী রাজনীতিকে লাল কার্ড দেখিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে ফেনী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে ফেনী জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, আমরা চাই জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত করে রাজার ছেলে রাজা হবে, মন্ত্রীর ছেলে মন্ত্রী হবে— এই নীতির পরিবর্তন। যোগ্য ব্যক্তির যথাযথ মূল্যয়ন করে যোগ্যতা ও মেধা বিকাশের মাধ্যমে রিকশা চালকের ছেলেও যেন প্রধানমন্ত্রী হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘অতীতের বস্তাপঁচা রাজনীতি ফ্যাসিবাদ উপহার দিয়েছে এবং দুর্নীতিতে দেশকে চ্যাম্পিয়ন করেছে। ওই রাজনীতিকে আমরা লাল কার্ড দেখিয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই।’
এ সময় বিএনপির উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, ‘মাথা গরম না করে মা-বোন ও জুলাই যোদ্ধাদের সম্মান করতে হবে। শহিদ হাদি, আবু সাঈদ, আবরার ফাহাদ আমাদের চেতনা। বীরেরা পালায় না, তারা সাহসিকতার সাথে বুক পেতে দেয়। আমরা বেকার ভাতা নয়, বেকারদের কর্মসংস্থানসহ মর্যাদা দিতে চাই। ঘরে ও কর্মস্থলে নারীদের সম্মান দিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘জামায়াত ক্ষমতায় গেলে আলেম-ওলামা ও কওমী মাদ্রাসার সম্মান-মর্যাদা বৃদ্ধি করা হবে। ন্যায়-ইনসাফের ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে মানুষের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়তে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের আমলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বিগত ১৬ বছরে পিলখানা হত্যাকাণ্ড, জামায়াত-বিএনপি নেতা-কর্মীদের হত্যা, আলেম-ওলামা হত্যাসহ অপশাসন কায়েম করেছিল। চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে এই অপশাসনের হাত থেকে দেশবাসী মুক্তি পেয়েছে। ফেনীতে সংঘটিত স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় আমি এসেছিলাম দুর্গত মানুষকে সহযোগিতা করে মানবিক কাজে পাশে দাঁড়াতে। আবরার ফাহাদ ফেনী নদী নিয়ে দুটি কথা বলায় তাকে খুন করা হয়েছিল। তাই ফেনীবাসী তাকে আজীবন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ রাখতে হবে।’
জামায়াত আমির বলেন, ফেনীসহ ৩১টি জেলায় সরকারি মেডিকেল কলেজ করা হবে এবং বিশেষায়িত হাসপাতাল চালু, ফেনী নদীর তীরে বাঁধ নির্মাণ, অত্যাধুনিক স্টেডিয়ামসহ নানা উন্নয়ন কাজ করা হবে। নতুন বাংলাদেশ গড়তে ফেনীর তিনটি আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থীদের মিলেমিশে একাকার হয়ে বিজয়ী করতে হবে।’
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাসুম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, এবি পার্টির চেয়ারম্যান ও ফেনী-২ সদর আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) সভাপতি রাশেদ প্রধান।
ফেনী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মুফতি আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ফেনী-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, ফেনী-১ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি কবির আহমদ, ফেনী জেলা জামায়াতের সাবেক আমির এ কে এম সামছুদ্দিন, শহর জামায়াতের আমির প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের ফেনী শহর সভাপতি ওমর ফারুক ও জেলা সভাপতি আবু হানিফ হেলাল প্রমুখ।
প্রধান অতিথি জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও ফেনীর তিনটি আসনের প্রার্থীদের হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দেন।
এ সময় জামায়াত-শিবির ও ১১ দলীয় জোটের জেলা পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতা ও জুলাইযোদ্ধা এবং শহিদ পরিবারের লোকজনসহ দলটির হাজার হাজার নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
৮ দিন আগে
বেকারদের ভাতা দিলে বেকারত্ব বাড়বে, আমরা কর্মসংস্থান করব: ডা. শফিকুর
বেকারদের বেকারভাতা দিলে দেশে বেকারত্ব বেড়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, আমরা নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করে বেকারদের সাবলম্বী করে তুলব।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে যশোরের ঐতিহাসিক ঈদগাহ ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের আমির এসব কথা বলেন।
জনসভায় শফিকুর রহমান বলেন, ‘একটা দল সরকারে আসার আগে ১০ টাকা কেজি দরে চাল খাওয়ার কথা বলছে। বলছে কৃষক কার্ড দেবে, দেবে বেকারভাতা। ওই সব ধোঁকা আর বাংলাদেশের জনগণ দেখতে চায় না। বেকারদের বেকারভাতা দিলে বেকারত্ব বেড়ে যাবে। আমরা নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করে বেকারদের সাবলম্বী করে তুলব।’
তিনি বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, আল্লাহ তাআলা যদি আমাদের দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেন, আমরা এই যশোরকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করব, ৫শ’ বেড হাসপাতাল, ভবদহ সমস্যার সমাধান করা হবে। যশোরবাসীর এসব ন্যায্য অধিকার।’
পরে তিনি যশোরের বিভিন্ন আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের হাতে দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন।
১১ দিন আগে
যখন যে ক্ষমতায় এসেছে দেশকে তছনছ করে দিয়েছে: জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ৫৪ বছর ধরে যখন যে ক্ষমতায় এসেছে এ দেশকে খাবলে খামচে একেবারে তছনছ করে দিয়েছে। আমরা গভীরভাবে বিশ্বাস করি, তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও চরিত্র পরিবর্তন না হলে দেশের জন্য ভালো কিছুই করতে পারবে না।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় কুষ্টিয়ায় আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে শুরু হয় জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি জনসভা। ভোর থেকেই দলটির নেতা-কর্মীরা জড়ো হতে থাকেন স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে। স্বেচ্ছাসেবকরা শহরের বিভিন্ন মোড়ে অবস্থান নিয়ে জনসভাস্থলের পথ সুগম রাখার চেষ্টা চালান। সকাল ১০টার মধ্যে জামায়াত আমিরের জনসভাস্থলে পৌঁছানোর কথা থাকলেও কুয়াশায় বিলম্বিত হয় তার যাত্রা। জনসভাস্থলে পৌঁছান প্রায় ১২টার দিকে।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জামায়াত আমির বলেন, সাড়ে ১৫ বছর পর যখন একটা পরিবর্তন আসল, আমরা দেখলাম পুলিশ নাই, বিজিবি নাই, আনসারের ছায়াও নাই। নিভু নিভু অবস্থায় আমাদের সেনাবাহিনী জান দিয়ে চেষ্টা করছে কিছু করার, তারা পারছে না। তাদের পাশে মজবুত হয়ে দাঁড়িয়ে গেলাম। এ দেশ আমাদের দেশ।
জামায়াত আমির বলেন, ‘এ তো মজলুম একটা সংগঠন—নেতৃবৃন্দকে খুন করা হলো, ফাঁসি দেওয়া হলো। দফায় দফায় জেলে পোরা হলো, অফিস বন্ধ করে রাখা হলো। ঘরবাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেওয়া হলো। আমাদের নিবন্ধন কেড়ে নেওয়া হলো। শেষ পর্যন্ত বেদিশা সরকার বেহুঁশ হয়ে আমাদের নিষিদ্ধ ঘোষণা করল। এরপরে আর হুঁশ ফিরে পায়নি। ওই বেহুঁশ অবস্থায় দেশ ছেড়ে তারা চলে গেছে।’
জনসভায় ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির ও কুষ্টিয়া-২ আসনের দলীয় প্রার্থী আব্দুল গফুর, সেক্রেটারি সুজা উদ্দিন জোয়ার্দ্দার, কুষ্টিয়া-৩ আসনের প্রার্থী আমির হামজা, কুষ্টিয়া-১ আসনের প্রার্থী বেলাল উদ্দিন, কুষ্টিয়া-৪ আসনের প্রার্থী আফজাল হোসাইন ও কুষ্টিয়া শহর জামায়াতে ইসলামীর আমির এনামুল হক।
কুষ্টিয়ার বিভিন্ন সমস্যার দিকে দৃষ্টি দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, এখানে আপনাদের অনেকগুলো সমস্যা আছে। আমরা যখন আসছিলাম উপর থেকে দেখছিলাম— পদ্মা গড়াই নদী নয়, যেন মরুভূমি। এটা যখন মরুভূমি হয়ে গিয়েছে তখন উপর থেকে যখন ঢলের পানি আসে তখন আর নদীতে থাকে না। দুই কূল উপচে উপচে পড়ে, দুই কূল ভাসিয়ে সবকিছুকে তছনছ করে দেয়। বছরের পর বছর নদী ভাঙনের কবলে পড়ে বহু মানুষের জীবনের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে। অনেক মানুষ সর্বশান্ত। কেন এমনটা হলো? নদী তো আল্লাহর নিয়ামত।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে আল্লাহর এই নিয়ামতগুলোকে তিলে তিলে খুন করা হয়েছে, হত্যা করা হয়েছে। এই নদী খননের জন্য প্রত্যেক বৎসর বাজেট থাকে। নদী খননের সমস্ত টাকা মুখ দিয়ে ঢুকে, পেটের ভিতরে চলে যায়; নদীর বালি আর ওঠে না, খননও হয় না। উন্নয়নের নামে ৫৪ বছর কমবেশি যারাই ক্ষমতায় গিয়েছেন এই একই কাজ তারা করেছেন।’
১২ দিন আগে
নির্বাচনি জনসভা: আগামীকাল কুষ্টিয়ায় যাচ্ছেন জামায়াত আমির
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ উপলক্ষে নির্বাচনি সমাবেশ করতে আগামীকাল (সোমবার) কুষ্টিয়ায় যাচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াত এ তথ্য জানায়।
জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির ও কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আব্দুল গফুর জানান, সোমবার (২৬ জানুয়ারি) কুষ্টিয়ার শহিদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে জামায়াতের নির্বাচনি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
সমাবেশটি সকাল ৯টায় শুরু হবে জানিয়ে তিনি বলেন, জামায়াত আমির হেলিকপ্টারে চড়ে কুষ্টিয়ায় আসবেন। তিনি পুলিশ লাইনসের হেলিকপ্টার প্যাডে অবতরণ করে সেখান থেকে সরাসরি স্টেডিয়ামে যাবেন। এরপর সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে ডা. শফিকুর রহমান সমাবেশের মঞ্চে উপস্থিত হবেন। কর্মসূচি শেষে মেহেরপুরের উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি।
আব্দুল গফুর বলেন, সমাবেশ সফল করতে মাঠে মঞ্চ প্রস্তুত ও নিরাপত্তাসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনার কাজ ইতোমধ্যেই প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। আজকের মধ্যেই বাকি প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ করা হবে। সমাবেশে নারী-পুরুষ মিলিয়ে বিশাল জনসমাগম ঘটবে। সমাবেশটি যেন সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়, সে লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
একই দিনে ডা. শফিকুর রহমান কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ জেলা সফর করবেন।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সুজা উদ্দিন জোয়াদ্দর, শহর জামায়াতের আমির এনামুল হকসহ জামায়াতের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
১৩ দিন আগে