ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতায় জোর দিয়ে শনিবার থেকে দেশব্যাপী তিন মাসের বিশেষ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সচিবালয়ে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ডেঙ্গু প্রতিরোধবিষয়ক এক সভায় এ কর্মসূচি শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন তার উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী তিন মাসকে ডেঙ্গুর উচ্চঝুঁকির সময় হিসেবে বিবেচনা করতে হবে এবং মশা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শুধু মশা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ডেঙ্গু কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। এ জন্য জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি ঘরবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
সভায় স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
কর্মসূচির আওতায় মহানগর এলাকায় সিটি করপোরেশনগুলো কার্যক্রম সমন্বয় করবে। জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকরা (ডিসি) এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) কার্যক্রম সমন্বয় করবেন।
পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের স্বেচ্ছাসেবক, স্কাউট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), গার্ল গাইডস, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেবে।
প্রতি শনিবার স্বেচ্ছাসেবক ও শিক্ষার্থীরা বাড়ি বাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেবে। তারা এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থলও চিহ্নিত করবে এবং ঘরবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার বিষয়ে বাসিন্দাদের সচেতন করবে।
গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক প্রচার চালানোরও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ করে টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন প্রচার ও অনলাইনে নিয়মিত ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা প্রচারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ডা. শাকিরুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, তথ্যসচিব মাহবুবা ফারজানাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় যোগ দেন