বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নতুন কমিটি প্রকাশিত হয়েছে। ওই কমিটি ঘোষণার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। একই সঙ্গে কমিটি প্রত্যাখ্যান করে ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে শাখা ছাত্রশিবির ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফন্টের নেতারা। নিষিদ্ধ সংগঠনের যেকোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম ক্যাম্পাসে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনগুলো।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনটির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে আগামী এক বছরের জন্য নতুন ওই কমিটি প্রকাশ করা হয়।
প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ইমরান সিদ্দিকী প্রান্তকে সভাপতি, মো. মুইন নাদিম আল মুন্নাকে সাধারণ সম্পাদক, মাহফুজ হক অভিকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তামিম মাহমুদ আকাশকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। সহ-সভাপতি পদে রাখা রয়েছে মো. রাকিবুল ইসলাম, মো. মেহেদী হাসান, শাহরিয়ার খন্দকার ও মো. খালেদ হাসান।
এই ঘটনায় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রদল। এতে শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মো. শফিকুল ইসলাম শফিক, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক এ এম শোয়াইবসহ বিভিন্ন হলের শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আতিকুর রহমান বলেন, ‘নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ বাকৃবিতে নতুন কমিটি দিয়েছে। যদিও তাদের কোনো প্রকাশ্য রাজনৈতিক কার্যক্রম দৃশ্যমান নেই। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এ সংগঠনের যেকোনো অপতৎপরতা প্রতিহত করতে বদ্ধপরিকর। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রতি সম্মান রেখে ক্যাম্পাসে এ সংগঠনের কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
এ এম শোয়াইব বলেন, যেহেতু তারা একটি নিষিদ্ধ সংগঠন তাদের কর্মকাণ্ডের কোনো বৈধতা নেই। কমিটির প্রায় সবাই ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত। কেউ ঢাকায় থাকে, কেউ আছে বিদেশে, কেউ কক্সবাজার কিংবা কেউ তার নিজ নিজ এলাকায় পালিয়ে বেড়াচ্ছে। ক্যাম্পাসের আশপাশের যে এলাকাগুলো আছে, সেখানেও কেউ থাকে না। এটি একটি ভার্চুয়াল কমিটি। এই কমিটি আদৌ ক্যাম্পাসে কোনোদিন আসতে পারবে কি না, তার কোনো ভিত্তি নেই এবং এটি ভার্চুয়ালিই থাকবে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, তারা (ছাত্রলীগ) ক্যাম্পাসে আসার দুঃসাহস দেখাবে না। এই পলাতক কমিটির ব্যানারে যদি বাকৃবি ক্যাম্পাসে পুনরায় কোনো ধরনের অপতৎপরতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়, তবে বাকৃবি ছাত্রদল সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে তা কঠোর হস্তে প্রতিহত করবে।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মঈন বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির প্রেক্ষাপট ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনস্তত্ত্ব বদলে গেছে। বর্তমান বাংলাদেশে ছাত্রলীগ রাজনীতি করার অধিকার হারিয়েছে। নতুন করে তাদের কমিটি বর্তমান প্রজন্মকে প্রভাবিত করবে না। বাকৃবিতেও শিক্ষার্থীরা এ কমিটি প্রত্যাখ্যান করবে।’
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের বাকৃবি শাখার নেতারা বলেন, আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। যারা রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ, যারা ২৪-এর এতো বড় একটা গণহত্যার সঙ্গে যুক্ত এবং তাদের বিচারকার্যও চলমান রয়েছে। এদেশের জনগণ যাদের অস্বীকার করে, তাদের নিজেদের দায় স্বীকার না করে এমন প্রকাশ্যে কমিটি দেওয়াকে আমরা নিন্দা জানাই।
গতকাল (মঙ্গলবার) নিষিদ্ধ সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানকে মানবতা বিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ওই দিন রাতেই তাদের মাধ্যমে কমিটি গঠনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।