পড়াশোনার পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা, শিল্পকলা ও সংস্কৃতিতেও দক্ষতা অর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, শিশু-কিশোরদেরই একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দেশব্যাপী নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তোমাদেরই এই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে এবং পৃথিবীর বুকে শক্তিশালী হিসেবে দাঁড় করাতে হবে। তোমরা একেকজন বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর (দূত) এবং এ দেশের মালিক।’
তিনি আরও বলেন, বিশ্বে সফল হতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা যথেষ্ট নয়। পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুদের খেলাধুলা, শিল্পকলা ও সংস্কৃতিতে দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, কেউ চিকিৎসক, প্রকৌশলী, স্থপতি বা আইনজীবী হবে। কিন্তু পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্পকলা ও সংস্কৃতিও শিখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার এমন পরিবেশ তৈরি করতে চায়, যেখানে শিশুরা পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) শিক্ষার্থীদের পরিবেশনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা খেলাধুলার পাশাপাশি নাচ, গান ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়েও নিজেদের দক্ষতা তুলে ধরেছে।
এ সময় শিশু-কিশোরদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের প্রতিভা বিকাশে উৎসাহিত করেন তারেক রহমান।
তিনি জানান, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরে ১৬ লাখের বেশি শিশু-কিশোর নিবন্ধন করেছে। আগামী বছরের জুনে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিপুলসংখ্যক শিশুর অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, দেশের শিশু-কিশোরদের মধ্যে প্রতিভার কোনো অভাব নেই। তাদের মেধা বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ ও পরিবেশ তৈরি করা সরকারের দায়িত্ব।
বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষা শেখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। শিশুদের ছয় বা সাতটি বিদেশি ভাষার মধ্য থেকে পছন্দমতো একটি শেখার সুযোগ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘তোমরা যদি পড়ালেখায় ভালো হও, খেলাধুলা, শিল্পকলা ও সংস্কৃতিতে ভালো হও এবং তৃতীয় একটি বিদেশি ভাষা শেখো, তাহলে পৃথিবীর কোনো জাতিই তোমাদের আটকে রাখতে পারবে না।’
একদিন বাংলাদেশ শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে, যার উদাহরণ অন্যরা অনুসরণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
বেলুন ও কবুতর উড়িয়ে এ প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে ভার্চুয়ালি দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন তিনি।