বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ১২ তারিখে নির্বাচন। এই নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করার নির্বাচন নয়, এই নির্বাচন হবে দেশকে পুনর্গঠিত করার নির্বাচন। গত এক যুগ ধরে বাংলাদেশের মানুষ তাদের যেমন রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারে নাই, কথা বলার স্বাধীনতা পায় নাই, একইভাবে তারা অর্থনৈতিকভাবে অনেক পিছিয়ে পড়েছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড় মাঠে এক বিশাল জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, আজ বহু বছর পর আমি ঠাকুরগাঁওয়ের মাটিতে আসতে পেরেছি। আগে প্রতি বছর শীতের সময় ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় এলাকায় আসতাম, গ্রামে যেতাম। শীতের সময় আসতাম গরম কাপড় ও কম্বল নিয়ে। আজ আপনাদের কাছে এসেছি ভিন্ন এক পরিস্থিতিতে। ১২ তারিখ নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ তাদের যে অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, সেই অধিকার তারা প্রয়োগ করবে।
মঞ্চের পাশে বসা কিছু মানুষের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এই মানুষগুলোর স্বজনেরা গুম-খুনের শিকার হয়েছেন। গত এক যুগ থেকে তাদের স্বজনেরা অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। নিজেরাও বিভিন্নভাবে অত্যাচারিত, নির্যাতিত হয়েছেন। আজ মানুষের সেই হারিয়ে যাওয়া অধিকার প্রয়োগ করার সময় এসেছে।
যুবক ও তরুণদের উদ্দেশে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, যুবক ও তরুণদের যেভাবে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার কথা ছিল, তা হয়নি। দেশের যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ শ্রমিক হিসেবে গড়ে তোলা উচিত ছিল, সেই কাজটিও হয় নাই।
তারেক রহমান আরও বলেন, মা-বোনদের, নারীদের মূল্যায়ন করার জন্য স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার কথা ছিল সেটিও হয় নাই। দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা হচ্ছে নারী। এই নারীদের যদি আমরা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে না পারি, তাহলে কোনোভাবেই দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। সেই জন্যই খালেদা জিয়া মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা বিনামূল্যে করে দিয়েছিলেন। আজ দেশের লাখ লাখ নারী শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়েছেন।
কৃষকদের বিষয়ে তিনি বলেন, কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে যে সহযোগিতা করা উচিত ছিল, সেই কাজটিও করে নাই বিগত স্বৈরাচারী সরকার। আজ সময় এসেছে, ১২ তারিখের নির্বাচনে আমরা জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচন করব, একই সঙ্গে আমরা দেশ পুণর্গঠনেও হাত দেব।
এই রাজনীতিক বলেন, দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে চাই, দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই। এই কাজ করতে হলে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। কারণ দেশের মালিক জনগণ। তাই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ধানের শীষে ভোট চাই।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, চিনিকলসহ এই অঞ্চলের শিল্প কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা হবে। ঠাকুরগাঁও ক্যাডেট কলেজ করার চেষ্টা করবে বিএনপি। এছাড়া হিমাগার তৈরি করা হবে, যেন কৃষক তাদের পণ্য সংরক্ষণ করতে পারেন। পাশাপাশি বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে আইটি সেক্টর হাব তৈরি করা হবে। পাশাপাশি সরকার গঠন করলে যত দ্রুত সম্ভব এই এলাকার বিমানবন্দর চালু করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান।
তিনি আরও বলেন, দেশে সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করবে, প্রতিটি মানুষকে বিচার করা হবে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে, ধর্মের ভিত্তিতে নয়।
নিরাপদ দেশ গড়ার শপথ নিয়ে তিনি বলেন, সবাই একসঙ্গে দেশকে গড়ে তুলবো। শেষে তিনি এই এলাকার উন্নয়নসহ দেশের উন্নয়নে ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করেন।
সমাবেশ মঞ্চে উপস্থিত বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে বাঁচাতে গোটা দেশ তারেক রহমানের দিকে তাকিয়ে। কঠিন সময়ে তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাকে শতভাগ সমর্থন দিতে হবে।
সমাবেশে ঠাকুরগাঁও-১, ২, ৩, পঞ্চগড়-২ এবং দিনাজপুর- ১ আসনের বিএনপির প্রার্থীরাও বক্তব্য দেন।