ফরিদপুর শিশু পার্কের অস্থায়ী কর্মচারী হাসান শেখকে (৩৫) পূর্বশত্রুতার জেরে হত্যার দায়ে ৪ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্পেশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. শরীফ উদ্দীন এ রায় দেন।
এছাড়া একই মামলার অপর ধারায় সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন: শাহজাহান মাতুব্বর (৩৬), ফারুক শেখ (৩৫), চান্দু শেখ (২২) ও ফরিদা বেগম (৩০)। তাদের মধ্যে ফরিদা বেগম পলাতক রয়েছেন। আসামিরা সবাই জেলার সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের ঝাউখোলা গ্রামের বাসিন্দা।
রায় ঘোষণার সময় চার আসামির মধ্যে তিনজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অপর পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন বিচারক। পরে সাজাপ্রাপ্ত তিন আসামিকে পুলিশি পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসান ফরিদপুর শিশু পার্কে অস্থায়ী চাকরির পাশাপাশি কৃষিকাজ করতেন। ২০১৮ সালের ৯ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিবেশী শাহজাহান কাকা ডেকেছেন বলে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। পরে তিনি সারা রাত বাড়িতে না ফেরায় সকালে তাকে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন।
নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে হাসানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বিষয়টি স্থানীয় থানায় জানিয়ে একটি জিডি করা হয়। নিখোঁজের চার দিন পর ঝাউখোলা এলাকার একটি আখখেত থেকে হাসানের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা ইমান উদ্দিন কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ঘটনার চার-পাঁচ মাস আগে হাসানের সঙ্গে প্রতিবেশী কয়েকজন যুবকের গণ্ডগোল হয়। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে শালিসি বৈঠক বসে। সেখানে হাসানকে মারধরের ঘটনায় তাদের শাস্তি দেওয়া হয়। ওই ক্ষোভ থেকেই সেদিন রাতে হাসানকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে তার মরদেহ গুম করা হয়।
স্পেশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) শাহ মো. আজিজুর রহমান বিকু জানান, হাসান শেখ নৃশংস হত্যাকাণ্ড মামলার ঘটনায় দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে বিজ্ঞ বিচারক আজ এ রায় দেন। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।