কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের জামাত আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ঈদের দিন সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে দেশের অন্যতম বৃহৎ এই জামাত।
শতবর্ষের ধারাবাহিকতায় এবার শোলাকিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের জামাত। এতে দেশ-বিদেশ থেকে আগত লাখো মুসল্লির সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। এবারের জামাতে ইমামতি করবেন মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।
জামাতকে কেন্দ্র করে মাঠের দাগ কাটা, মেহরাব নির্মাণ, দেয়ালে চুনকাম, ওজুখানা স্থাপন এবং সার্বিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আয়োজকরা জানান, একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক মুসল্লির নামাজ আদায় ও দোয়া কবুলের বিশেষ গুরুত্বের কারণে শোলাকিয়ায় নামাজ পড়তে মুসল্লিদের আগ্রহ থাকে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ২০১৬ সালের জঙ্গি হামলার অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবারও নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মাঠ ও আশপাশে বসানো হয়েছে ৬৪টি সিসিটিভি ক্যামেরা। ছয়টি ওয়াচ টাওয়ার থেকে পুলিশ ও র্যাব সার্বক্ষণিক নজরদারি করবে। মোতায়েন থাকবে প্রায় এক হাজার ১০০ পুলিশ সদস্য, র্যাবের ছয়টি টিম, পাঁচ প্লাটুন বিজিবি, পাঁচ প্লাটুন আনসার ও চার প্লাটুন সেনাবাহিনী। এছাড়া থাকবে ড্রোন নজরদারি, মেটাল ডিটেক্টর, আর্চওয়ে এবং একাধিক চেকপোস্ট। মুসল্লিদের ঈদগাহে প্রবেশের আগে পুলিশের চারটি নিরাপত্তা স্তর অতিক্রম করতে হবে।
জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, মেডিক্যাল টিম এবং কুইক রেসপন্স ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
দূর-দূরান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের যাতায়াত সহজ করতে বাংলাদেশ রেলওয়ে ‘শোলাকিয়া স্পেশাল’ নামে দুটি বিশেষ ট্রেন সার্ভিস চালু করেছে।
ঐতিহ্য অনুযায়ী, ঈদ জামাত শুরুর আগে বন্দুকের গুলির মাধ্যমে সংকেত দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট আগে তিনটি, ১০ মিনিট আগে দুটি এবং ৫ মিনিট আগে একটি গুলি ছুড়ে মুসল্লিদের সতর্ক করা হবে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, এবারও মুসল্লিদের শুধুমাত্র জায়নামাজ সঙ্গে নিয়ে মাঠে প্রবেশ করতে হবে।