জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দশম এবং বর্তমান সরকারের অধীন দ্বিতীয় সভায় ১৪টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
১৩ হাজার ৪৪৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত এসব প্রকল্পের মধ্যে ৮ হাজার ৮৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা অর্থায়ন করবে সরকার, ঋণের মাধ্যমে অর্থায়ন করা হবে ৫ হাজার ৩৪০ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে আসবে ১৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা বাংলাদেশ সচিবালয় কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
অনুমোদিত ১৪ প্রকল্পের মধ্যে নতুন প্রকল্প পাঁচটি, সংশোধিত প্রকল্প পাঁচটি এবং মেয়াদ বৃদ্ধি প্রকল্প রয়েছে চারটি।
আজকের সভায় অনুমোদিত ১৪টি প্রকল্প হলো: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের শহরাঞ্চলের জনগোষ্ঠীর জন্য সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ প্রকল্প, অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাস্টমস আধুনিকায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (প্রথম সংশোধন)’ প্রকল্প, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পিপিআর রোগ নির্মূল ও ক্ষুরারোগ নিয়ন্ত্রণ (তৃতীয় সংশোধন) প্রকল্প।
এছাড়া স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের চারটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো: অভিযোজন ও ঝুঁকি হ্রাসের জন্য সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়ন (রিভার) প্রকল্প (প্রথম সংশোধন), চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আওতাধীন পরিচ্ছন্নকর্মী নিবাস নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত), ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন (দ্বিতীয় সংশোধিত), ঢাকা শহরে জরুরি পানি সরবরাহ প্রকল্প।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের পাঁচটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। সেগুলো হচ্ছে— (১) বাংলাদেশের ময়মনসিংহ বিভাগে পাঁচটি জলবায়ু সহনশীল সেতু নির্মাণ, (২) সীমান্ত সড়ক (রাঙ্গামাটি, খাগড়া ছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা) নির্মাণ প্রকল্প-দ্বিতীয় পর্যায়, (৩) বৈরাগীরপুল (বরিশাল)-টুমচর-বাউফল (পটুয়াখালী) জেলা মহাসড়ক (জেড-৮৯১০) যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (প্রথম সংশোধিত), (৪) ‘বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর জাতীয় মহাসড়ক (এন-৮০৯) বরিশাল (চর কাউয়া) হতে ভোলা (ইলিশা ফেরিঘাট) হয়ে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (প্রথম সংশোধিত) এবং (৫) বরিশাল (দিনারেরপুল)-লক্ষ্মী পাশা-দুমকী জেলা মহাসড়কের ১৪তম কিলোমিটারে রাঙ্গামাটি নদীর উপর গোমা সেতু নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প।
এর মধ্যে (৩), (৪) ও (৫) নম্বর প্রকল্পের মেয়াদ একাধিকবার বৃদ্ধি অনুমোদিত হলেও কেন পাঁচবার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
এ ছাড়াও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প হলো— (১) বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়) এবং (২) মধুখালী হতে কামারখালী হয়ে মাগুরা শহর পর্যন্ত ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ (প্রথম সংশোধন) প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।
আজকের একনেক সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।