আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে মোট ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্র ৪২ হাজার ৭৬১টি। এর মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ (বেশি ঝুঁকিপূর্ণ) কেন্দ্র ৮ হাজার ৭৮০টি, গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) কেন্দ্র ১৬ হাজার ৫৪৮টি এবং সাধারণ কেন্দ্র ১৭ হাজার ৪৩৩টি। অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ২৫ হাজার বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
ভোটের সময় নজরদারি জোরদারে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোট ৪১৮টি ড্রোন ব্যবহার করবে বলে জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনকেন্দ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশজুড়ে দুই পর্বে বাহিনী মোতায়েন করা হবে। প্রথম পর্বে চলমান মোতায়েন অব্যাহত থাকবে। দ্বিতীয় পর্বে ভোটকেন্দ্রভিত্তিক মোতায়েন হবে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সাত দিনের জন্য। পুরো নিরাপত্তাব্যবস্থার সমন্বয় থাকবে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার অধীনে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে পুলিশ, আনসার ও ভিডিপির পাশাপাশি ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও র্যাব মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া পুলিশ, বিজিবি, র্যাব, কোস্টগার্ড ও সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল গঠন করা হবে।
নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ বিশেষ টিম গঠন করে সংশ্লিষ্ট সমন্বয় সেলের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। প্রাপ্ত অভিযোগ তাৎক্ষণিকভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট এলাকার সমন্বয় সেলে পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।
প্রথমবারের মতো নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, এ প্রশিক্ষণ ২০ জানুয়ারির মধ্যে শেষ হবে। নজরদারিতে ব্যবহৃত ৪১৮টি ড্রোন সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড, র্যাব ও আনসার বাহিনী সমন্বিতভাবে পরিচালনা করবে। বিভিন্ন বাহিনীর ডগ স্কোয়াডও নির্বাচনকালে ব্যবহৃত হবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ–২০২৬’। এনটিএমসি প্রস্তুত করা এই অ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, দুর্গম ও চরাঞ্চলে ব্যালট ও নির্বাচনি সামগ্রী পরিবহনের জন্য বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে—এমন দুষ্কৃতিকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভোটের আগে চার দিন সারা দেশে নিবিড় টহল চালানো হবে।
অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ–২ এর অগ্রগতি সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত এ অভিযানে ১৯ হাজার ৮৫৪ জন গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময়ে ৩৪৬টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২ হাজার ১৯১ রাউন্ড গুলি, ৭২২ রাউন্ড কার্তুজসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। মামলা ও ওয়ারেন্টমূলে মোট গ্রেপ্তার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৩৬৭ জনে।
নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। পাশাপাশি সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় একটি গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।