প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারি সফরে প্রথমবারের মতো বিভাগীয় শহর সিলেটে পৌঁছেছেন তারেক রহমান।
শনিবার (২ মে) সকাল ১০টা ৫ মিনিটে তিনি একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন বলে ইউএনবিকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুত্তাদীর, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান, জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
হজরত শাহ জালাল (র.) ও হজরত শাহ পরাণের মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার কর্মসূচি শুরু করবেন।
পরে বেলা ১১টার দিকে সিলেট সার্কিট হাউস-সংলগ্ন সুরমা নদীর পাড়ের চাঁদনিঘাট এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি করপোরেশনের একটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন। বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে বাংলাদেশ ওভারসিজ সেন্টার সিলেটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
আজ দুপুর ১২টায় সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নে বাসিয়া খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর বেলা ৩টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শিশু ও কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। বিকেল ৫টায় সিলেট শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এতে স্থানীয় রাজনীতি ও সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার বার্তা দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে শহরের বিভিন্ন সড়ক সংস্কার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়েছে। সড়কদ্বীপে নতুন করে গাছ লাগানো হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফেস্টুন টানানো হয়েছে এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন উন্নয়নসংক্রান্ত দাবিদাওয়াও সামনে আনছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, একটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাজ দ্রুত সমাপ্তকরণ।
সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে ২৫ দফা দাবি জানিয়েছে সিলেট বিভাগ গণদাবি ফোরাম। সংগঠনের সভাপতি চৌধুরী আতাউর রহমান আজাদের সই করা ওই দাবিগুলোর মধ্যে আছে— সিলেটকে ‘আধ্যাত্মিক ও অর্থনৈতিক রাজধানী’ ঘোষণা, বিভাগকে পর্যটন অঞ্চল হিসেবে গেজেট প্রকাশ এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিনবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীতকরণ।
এছাড়া সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম রেলপথ আধুনিকায়ন, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বিমানবাহিনীর ঘাঁটি স্থাপন, সিলেটে প্রকৌশল ও পর্যটন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ পুনঃস্থাপনসহ নানা দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নদ-নদী ও খাল খনন, তেল সংরক্ষণাগার স্থাপন এবং বিরতিহীন আধুনিক ট্রেন চালুর বিষয়টিও দাবির তালিকায় আছে।
প্রায় দুই দশক পর গত ২১ জানুয়ারি সিলেট সফর করেছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তবে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তার প্রথম সিলেট সফর ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। তার এই সফর সফল করতে দল ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত প্রস্তুতিমূলক সভা করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরে স্বাগত মিছিল করে মহানগর বিএনপি। স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ অঙ্গসংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও পৃথক মিছিল হয়েছে।
মিছিল শেষে মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও উৎসাহ দেখা গেছে। তার উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে সিলেটসহ পুরো দেশ এগিয়ে যাবে বলে সবার প্রত্যাশা।