গাজায় রাতভর চালানো একাধিক ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বর্তমানে লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশি আলোচনায় রয়েছে। এরই মধ্যে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজায় ইসরায়েলি সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় শিফা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গাজায় অন্তত চারটি পৃথক হামলায় ওই নয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এর আগে, গত সপ্তাহে ইসরায়েল হামাসের এক শীর্ষ সামরিক নেতাকে হত্যা করে। তার দুই সপ্তাহ আগে আরেকটি হামলায় তার পূর্বসূরিও নিহত হন।
গাজায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে সংঘাত চলে আসছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে এই সংঘাত বন্ধের চেষ্টা করা হয়েছিল। এর ফলে তীব্র লড়াই অনেকটাই কমে এসেছে। তবুও নাজুক এই যুদ্ধবিরতির মধ্যে প্রায় প্রতিদিনই গাজায় ইসরায়েলি হামলার ঘটনা ঘটছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইসরায়েলি বাহিনী সেখানে বারবার হামলা চালিয়েছে। সেনা নিয়ন্ত্রিত এলাকার কাছে অবস্থান করা ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে তারা প্রায়ই গুলি চালায়। এতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৯৩৬ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
হামাস পরিচালিত সরকারের এই মন্ত্রণালয়ের তথ্যকে সাধারণত জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা নির্ভরযোগ্য বলে মনে করেন। তবে মন্ত্রণালয়টি নিহতদের মধ্যে কতজন বেসামরিক নাগরিক ও কতজন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন, সে বিষয়ে কোনো পৃথক কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
অন্যদিকে, গাজায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোও ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো তাদের সেনাদের জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি তৈরি করে। তার জবাবেই যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইসরায়েলি সেনাদের এসব হামলা চালাতে হয়। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ৪ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন।
২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন ইসরায়েলি নিহত হন। সে সময় ২৫১ জন ইসরায়েলি নাগরিককে জিম্মি করে নিয়ে যায় হামাস। এ ঘটনার জবাবে ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে।