দেশ পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা, দূরদর্শিতা ও বাস্তব পরিকল্পনা আছে উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপিই একমাত্র দল যারা দেশ পুনর্গঠন করতে পারবে।
সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ মাঠে আয়োজিত ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনি সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি একটি নিরাপদ, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বিচার হবে। জনগণই রাষ্ট্রক্ষমতার প্রকৃত উৎস এই বিশ্বাস থেকেই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ পুনর্গঠনের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি অভিজ্ঞতা ও পরিকল্পনার সমন্বয়ে দেশ পুনর্গঠন করবে। নির্বাচন ঘিরে মানুষের মধ্যে এক ধরনের প্রত্যাশা তৈরি হয়। বিএনপির প্রতি জনগণের প্রত্যাশা থাকে বেশি। সেভাবেই পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আমরা নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চাই।
এ সময় তিনি স্বাধীনতার পর দেশের দুর্দশার কথা উল্লেখ করে বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সেখানে লাখো মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। যে দেশ একসময় দুর্ভিক্ষে জর্জরিত ছিল, সেই দেশ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে, এমনকি খাদ্য রপ্তানিও করে।
নব্বইয়ের দশকের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে তারেক বলেন, দীর্ঘ স্বৈরশাসনের পর জনগণ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব বিএনপির হাতে তুলে দেন। বিভিন্ন সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশ তখন একটি উদীয়মান টাইগারে পরিণত হয় এবং হাজার হাজার শিল্পকারখানা গড়ে ওঠে।
তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোটাররা যদি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেন, তাহলে বিএনপি অতীত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশ পুনর্গঠন করবে এবং বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে। এখন আমাদের প্রধান কাজ রাষ্ট্র পুনর্গঠন। আমরা স্বৈরতন্ত্রকে বিদায় করেছি। আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য দেশ গড়া।
তিনি বলেন, ‘আর দুই দিন পরে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের বহু প্রত্যাশিত সেই নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। যে নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশের বহু মানুষ গত ১৬ বছরে হত্যার শিকার হয়েছে, জুলাই আন্দোলনে আমরা দেখেছি, কত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে…।’
ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘এই এলাকায় প্রার্থী ছিলেন খালেদা জিয়া। আমি এবার প্রার্থী। এই এলাকায় আমার বেড়ে ওঠা, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে আমি এই এলাকাতেই বড় হয়েছি, আমার ভাই এই এলাকাতেই বড় হয়েছে, আমাদের পরিবার, আমাদের সন্তানেরা এই এলাকাটিতে জন্মগ্রহণ করেছে।’
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে করণীয় ও পরিকল্পনা সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘নির্বাচনকে ঘিরে মানুষের অনেক প্রত্যাশা তৈরি হয়। স্বাভাবিকভাবেই বিশেষ করে বিএনপির মতো একটি রাজনৈতিক দলের কাছে সারা বাংলাদেশের মানুষ শুধু ঢাকা শহরে নয়, সারা বাংলাদেশের মানুষের অনেক প্রত্যাশা।
‘আমাদের সামনে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ আছে। প্রায় ২০ কোটি মানুষের এই দেশ, এই দেশের যারা সন্তান আছে, আমাদের যুবক আছে, তরুণ আছে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। এই দেশের ভবিষ্যৎ সন্তানদের জন্য আমাদেরকে সুন্দরভাবে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। সমগ্র বাংলাদেশে বিভিন্ন জায়গায় যানজট আছে, রাস্তাঘাট সংস্কার করতে হবে। আমরা শুধু গত ১৫ বছরে দেখেছি মেগা প্রজেক্ট হয়েছে। মেগা মেগা দুর্নীতি হয়েছে…এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। সেজন্য আমরা জনগণের সমর্থন চাই।’