রাজধানীর বংশালের সিদ্দিক বাজারের একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে মো. শামিম হাসনাত (৪৬) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মাহফুজুল হক।
নিহত শামীম হাসনাতের বাড়ি কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার শশেয়দিঘি গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে ছিলেন।
এ বিষয়ে আবাসিক হোটেলের মালিক মো. আবদুল কাদির জানান, গতকাল (বুধবার) রাত থেকেই তার হোটেলের কক্ষটি বন্ধ ছিল। পরে আজ সকালে হোটেলের ঝাড়ুদার সাহিদা বেগম কক্ষের দরজা ধাক্কা দিলে দরজা খুলে যায়। এ সময় ওই ব্যক্তিকে বিবস্ত্র অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তিনি।। পরে আমরা বিষয়টি স্থানীয় থানা পুলিশকে জানাই।
নিহতের বড় ভাই মোশারফ হোসেন জানান, ‘আমার ছোট ভাই কোনো কাজকর্ম করত না; আমার কাছ থেকে হাতখরচ নিয়ে চলত। প্রায় দশ বছর আগে সে বিয়ে করেছিল, বিয়ের দুই মাসের মধ্যেই অবশ্য তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। সে ইয়াবায় আসক্ত ছিল। এ কারণে আমার বাবা তাকে ২০১৮ সালে বাসা থেকে বের করে দেন। পরে আজকে আমি কর্মস্থলে এসে টেলিফোনে জানতে পারি, আমার ভাই ওই হোটেলে মৃত অবস্থায় পড়ে আছে।’
পুলিশের এক সূত্র থেকে জানা যায়, অতিরিক্ত মাদক সেবনে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওসি মাহফুজুল হক জানান, আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে খবর পেয়ে বংশাল থানাধীন সিদ্দিক বাজার এলাকার ‘ঢাকা প্যালেস’ নামে একটি আবাসিক হোটেলের চতুর্থ তলার ১২১ নম্বর কক্ষ থেকে ওই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করি। প্রাথমিক তদন্তে আমরা ঐ ব্যক্তির শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাইনি। পরে মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আমরা হোটেলের ব্যবস্থাপকের কাছ থেকে জানতে পারি, ঈদুল আজহার পর থেকে ওই হোটেলেই ভাড়া থাকতেন শামীম হাসনাত। তবে তিনি ঠিক কী কাজ করতেন, সে বিষয়ে এখনও আমরা জানতে পারিনি।