ন্যায়বিচার পাওয়া প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার, এটি কোনো দয়ার বিষয় নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সরকার এমন এক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখে যেখানে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগের কাছে সবাই সমান হবে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বগুড়া জেলা আদালতসহ মোট সাতটি জেলায় ‘ই-বেইল বন্ড’ (ই-জামিননামা) সেবার উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চাই, যে বিচার ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী কিংবা মন্ত্রী, পুলিশ কর্মকর্তা কিংবা কর্মকর্তা এবং একজন সাধারণ নাগরিকের মধ্যে কোনো তফাৎ থাকবে না। যে বিচার ব্যবস্থা থাকবে সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অনবদ্য পাদপীঠ।’
তিনি বলেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ‘ই-বেইল বন্ড’ ব্যবস্থা একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। আমরা সবার জন্য ন্যায়বিচারে বিশ্বাসী। আজকের এই ডিজিটাল উদ্যোগ সেই অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি বড় সাফল্য।
নতুন এই ব্যবস্থার অধীনে একজন বিচারক জামিন আদেশ যাচাই করবেন এবং সরাসরি অনলাইনের মাধ্যমে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেবেন। এর ফলে আদেশ পাওয়ামাত্রই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মুক্তি নিশ্চিত হবে। তারেক রহমান বলেন, এর ফলে ই-বেইল বন্ড বা ইলেকট্রনিক জামিন ব্যবস্থা বিচারিক প্রক্রিয়ায় অপ্রয়োজনীয় হয়রানি ও ভোগান্তির অবসান ঘটাবে।
তিনি জানান, বিচার বিভাগকে আধুনিকায়ন এবং জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকার ই-বেইল ব্যবস্থাকে ক্রাইম ডেটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিডিএমএস), আদালত মামলা ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাইকরণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে।
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, অতীতে বিরোধী দল বা ভিন্নমতের হাজার হাজার মানুষকে গায়েবি ও ভুয়া মামলা, মিথ্যা পরোয়ানা এবং পরোয়ানা প্রত্যাহারে বিলম্বের মাধ্যমে হয়রানি করা হয়েছে। সরকার হাজিরা পরোয়ানা, মুক্তি আদেশ এবং থানা থেকে পরোয়ানা প্রত্যাহারের বিষয়টি অনলাইন ব্যবস্থার আওতায় আনবে।
তিনি বলেন, এটি সম্পন্ন হলে এক জেলায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামিকে অন্য জেলায় স্থানান্তরের সময় নথিপত্র দ্রুত অনলাইনে আদান-প্রদান সম্ভব হবে, যা জামিন শুনানিকে আরও সহজ করবে। তারেক রহমানের মতে, এটি ভুয়া পরোয়ানার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে পুলিশি হয়রানি এবং বেআইনিভাবে আটকে রাখার সংস্কৃতি নির্মূল করতে সাহায্য করবে।