খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু ও হামের প্রকোপ বেড়েই চলেছে। চলতি বছরের শুরু থেকে গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু ও হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ২১ হাজার ৭৬১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে বিভাগে ডেঙ্গু ও হামে মোট ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরের পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন স্বাক্ষরিত সর্বশেষ আলাদা দুটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ৮৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে এ সময়ে ডেঙ্গুতে নতুন করে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। চলতি বছরে হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৭১৫ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। আর উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৪৫ জনকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে।
জেলা-ভিত্তিক হিসাবে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তির দিক থেকে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন খুলনায়। জেলায় এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৮৩১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ পর্যন্ত ২ হাজার ১৫১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে, বাগেরহাটে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৫৭৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। যশোরের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন ৯৬২ জন (মৃত্যু ২ জন), চুয়াডাঙ্গায় ৬২ জন (মৃত্যু ১ জন), নড়াইলে ৩৫৭ জন, ঝিনাইদহে ২০২ জন, মাগুরায় ২০১ জন, কুষ্টিয়ায় ২০৮ জন এবং মেহেরপুরে ১৫৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। সাতক্ষীরা জেলায় ২২০ জন এবং সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৯৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুর নতুন রোগী ভর্তির হিসাবেও খুলনা এগিয়ে রয়েছে। এ সময়ে খুলনা জেলায় ৩৯ জন, বাগেরহাটে ১৩ জন, মেহেরপুরে ৭ জন, সাতক্ষীরা জেলায় ৬ জন, যশোরে ৬ জন, নড়াইলে ৬ জন এবং সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।
অপরদিকে, খুলনা বিভাগে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৬৪২ জনে। এর মধ্যে ৩৭৩ জন নিশ্চিত হামে আক্রান্ত। এ সময়ে হামের উপসর্গে মারা গেছে ৪২টি শিশু।
জেলা-ভিত্তিক তথ্যে জানা যায়, খুলনা জেলায় সন্দেহজনক হাম রোগী ২ হাজার ৪৩ জন (নিশ্চিত ৪৭ জন, মৃত্যু ২২টি শিশু), কুষ্টিয়ায় ২ হাজার ৭৯১ জন (নিশ্চিত ২৩ জন, মৃত্যু ১৩ জন), ঝিনাইদহে ৯৭৯ জন (নিশ্চিত ১৭ জন, মৃত্যু ৫ জন), চুয়াডাঙ্গায় ৫৭৭ জন (মৃত্যু ১ জন) এবং মেহেরপুরে ৬৭৫ জন (নিশ্চিত ১০ জন, মৃত্যু ১ জন)।
এছাড়া যশোরে ৮৭৪, নড়াইলে ৮৪০, বাগেরহাটে ৭৮১ এবং সাতক্ষীরায় ৩৪৫ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি আক্রান্ত ও সন্দেহজনক রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।