শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে ৯ ঘণ্টা পর রেলপথ অবরোধ প্রত্যাহার করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হলে রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ পুনঃস্থাপিত হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, আমাদের সবকটি দাবি রেল কর্তৃপক্ষ মেনে নেওয়ায় আমরা অবরোধ তুলে নিয়েছি। সেই সঙ্গে রেলযাত্রীদের কাছে ক্ষমা চান তিনি।
আম্মার বলেন, আমাদের প্রথম দাবি ছিল, যিনি অপরাধী, তিনি সশরীরে এসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ভুক্তভোগীর কাছে জবাবদিহি করবেন। তিনি উপস্থিত ছিলেন এবং প্রকাশ্যে আমাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। পুরো রেল কর্তৃপক্ষও আমাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে। আমাদের প্রথম দাবি পূরণ হয়েছে।
দ্বিতীয় দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, অভিযুক্তকে দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে সাময়িক অব্যাহতি দিয়ে তিন কার্যদিবসের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। তবে শিক্ষার্থীরা তাতে অনাস্থা জানালে বিভাগীয় কমিশনারের উদ্যোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি, প্রক্টোরিয়াল বডির একজন প্রতিনিধি, একজন শিক্ষক প্রতিনিধিসহ পাঁচ সদস্যের একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই কমিটি তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেবে এবং সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
রাকসুর জিএস বলেন, তৃতীয় দাবিতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বিষয়ে যে আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। ছয় মাস বিনা ভাড়ায় রেল ভ্রমণের প্রস্তাবও তিনি সসম্মানে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এটা আমাদের জন্য সম্মানের।
চতুর্থ দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ‘পদ্মা’, ‘তিতুমীর’ ও ‘মধুমতী’ ট্রেনের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে যাত্রাবিরতির বিষয়ে রেজুলেশন হয়েছে। পাশাপাশি রাতের ট্রেনগুলোর যাত্রীদের জন্য রাজশাহী স্টেশন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পর্যন্ত শাটল বাস চালুর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে সুপারিশ করা হবে।
তিনি বলেন, আমরা মনে করি, দীর্ঘদিনের দাবি এবং আমাদের শিক্ষার্থীর সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তার বিচার আমরা পেয়েছি। আমরা আমাদের জায়গা থেকে মোটামুটি সন্তুষ্ট। আগামী ৬ আগস্ট ফলোআপ বৈঠকের পর বিষয়টি আবার পর্যালোচনা করা হবে। সে পর্যন্ত আমরা আমাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করছি।