কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়ন বিএনপির একটি কার্যালয়ে অতর্কিতভাবে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া নিয়ে স্থানীয় দুই বিএনপি নেতার বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
রবিবার (৩১ মে) রাত পৌনে ১০টার দিকে উপজেলার পিয়ারপুর গ্রামের নুরুল ইসলামের বাড়ির সামনে অবস্থিত বিএনপি কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পিয়ারপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা জহুরুল করিম বিশ্বাস এবং উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মনিরুজ্জামান মুনতাজের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
রবিবার রাতে পিয়ারপুর গ্রামের মো. ফুরকান (৫৫), এছেম (৫০), ফিরোজ (৪৮) ও মনিরুজ্জামান মুনতাজের কয়েকজন কর্মী বিএনপি কার্যালয়-সংলগ্ন চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিতভাবে বিএনপি কার্যালয় লক্ষ্য করে কয়েকটি ককটেল নিক্ষেপ করে। বিকট শব্দে ককটেলগুলো বিস্ফোরিত হলে এলাকায় তখন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এ সময় হামলায় আহত হন পিয়ারপুর এলাকার রহমত মন্ডলের ছেলে ফুরকান কসাই, হাজেদ্দিনের ছেলে এছেম এবং আতর আলী কবিরাজের ছেলে ফিরোজ। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের হাসপাতালে ভর্তি রাখার পরামর্শ দেন। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সেখানে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও নজরদারি অব্যাহত রেখেছেন বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ।
এ বিষয়ে মনিরুজ্জামান মুনতাজ বলেন, ‘এই হামলার সঙ্গে জহুরুল করিম বিশ্বাস ও তার লোকজন সরাসরি জড়িত। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।’
তবে সাবেক চেয়ারম্যান জহুরুল করিম বিশ্বাস অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘তারা (মুনতাজ ও তার লোকজন) নিজেরাই নিজেদের অফিসে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আমার ও আমার লোকজনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করছে। এই ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’
কুষ্টিয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভেড়ামারা সার্কেল) মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, পিয়ারপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারের জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়ার মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। ঘটনাস্থল থেকে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।