পুশ-ইন
লালমনিরহাটে ১২ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা বিএসএফের, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী বামনদল সীমান্ত দিয়ে নারী, শিশুসহ ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) বাধায় তারা ব্যর্থ হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে বুড়িমারী বামনদল সীমান্তের ৮৩৮/১ নম্বর পিলারসংলগ্ন এলাকা দিয়ে এ পুশ-ইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, দুই শিশু, দুই নারী ও আট পুরুষকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে বিজিবি অবস্থান নিলে তাদের এ চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই ১২ জন বর্তমানে সীমান্ত থেকে প্রায় ১০০ গজ ভারতের ভেতরে অবস্থান করছে। তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে বিজিবির টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাহিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, বিএসএফের পুশ-ইনের চেষ্টার প্রতিবাদ জানিয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে। পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।
১ দিন আগে
কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশ-ইন চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি
কুষ্টিয়া সীমান্ত দিয়ে চারজনকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করার ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) চেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
রবিবার (১১ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৮টার দিকে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) ঠোটারপাড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বিএসএফের ১৪৬ ব্যাটালিয়নের উদয় কিষাণ ক্যাম্পের সদস্যরা ভারতীয় দুই পুরুষ ও দুই নারীকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা চালান। সীমান্তের ১৫৩/৯-এস পিলার থেকে আনুমানিক ৫০ গজ ভারতের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে।
এ সময় বিজিবির সতর্ক অবস্থান, তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ও কার্যকর তৎপরতায় বিএসএফের ওই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে সকাল ৮টার দিকে বিএসএফ চারজনকে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের চেষ্টা প্রতিরোধে বিজিবি সবসময় সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে।
৮ দিন আগে
পঞ্চগড়ে ৭ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা বিএসএফের, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ
পঞ্চগড় জেলার মালকাডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে সাতজনকে পুশ-ইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বাধার মুখে শেষ পর্যন্ত তাদের ভারতে ফিরে যেতে হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে বোদা উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নের মালকাডাঙ্গা সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে ফেরত যান তারা। পুশ-ইনের চেষ্টার শিকার সাতজনের মধ্যে ছয়জন পুরুষ ও একজন নারী ছিলেন।
নীলফামারী (বিজিবি-৫৬) ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে মালকাডাঙ্গা সীমান্ত এলাকায় সাতজনকে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করতে দেখা যায়। এ সময় সীমান্তে দায়িত্ব পালনরত বিজিবি সদস্যরা তাদের বাধা দেন। পরে তারা সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থান নেন।
দিনভর সীমান্ত এলাকায় অবস্থানের পর রাতে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে ওই সাতজন একই সীমান্ত দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, সীমান্তে চোরাচালান, অবৈধ পারাপার, পুশ-ইনসহ সব ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহলের পাশাপাশি নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
১২ দিন আগে
জয়পুরহাটে বিজিবি ও স্থানীয়দের প্রতিরোধে বিএসএফের পুশ-ইনের চেষ্টা ব্যর্থ
জয়পুরহাট সীমান্ত দিয়ে তিন যুবককে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও গ্রামবাসীদের প্রতিরোধের মুখে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে জয়পুরহাট সদর উপজেলার পশ্চিম রামকৃষ্ণপুর সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবি-১৪ পত্নীতলা ব্যাটালিয়নের কড়িয়া ক্যাম্প ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এদিন সকালে সীমান্তের ২৭৬ নম্বর মূল সীমান্ত পিলারের কাছে বিএসএফ সদস্যরা ওই তিন যুবককে এনে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বিষয়টি বুঝতে পেরে সীমান্তে দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যরা দ্রুত টহল জোরদার করেন এবং প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
এ ঘটনার পরপরই কড়িয়া ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে যোগ দেন পশ্চিম রামকৃষ্ণপুর গ্রামের শতাধিক বাসিন্দা। ২৭৬ নম্বর সীমান্ত সীমান্ত পিলার থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে সড়কপথে বিজিবি ও গ্রামবাসী সতর্ক অবস্থান নিলে বিএসএফের পুশ-ইনের চেষ্টা ভেস্তে যায়। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে বিএসএফ সদস্যরা ওই তিন যুবককে নিজেদের সীমানার ভেতরে ফিরিয়ে নিয়ে যান।
ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেলা ১১টায় বিএসএফ-১২৩ ব্যাটালিয়নের দুর্গাপুর ক্যাম্প ও বিজিবি কড়িয়া ক্যাম্পের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে এক ঘণ্টার এ বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মেলেনি।
বিজিবির কড়িয়া বিওপির কমান্ডার মহাতাব উদ্দিন জানান, বিএসএফ অন্যায়ভাবে তিন যুবককে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছিল। বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের কারণে তারা ফেরত যেতে বাধ্য হয়েছেন।
এ ঘটনায় দিন শেষে আবারও পতাকা বৈঠকের কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিওপি কমান্ডার।
এদিকে সীমান্তে বিজিবি সদস্যরা টহল জোরদার করে অত্যন্ত সতর্কবস্থায় রয়েছেন।
১৩ দিন আগে
সীমান্তে পুশ-ইন ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, বাংলাদেশকে চাপে রাখতে নয়: তথ্য উপদেষ্টা
সীমান্তে ভারতের পুশ-ইনের বিষয়টি বিজেপির রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। এটি তারা বাংলাদেশকে চাপে রাখতে করছে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা জানান।
পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশ সীমান্তে পুশ-ইনের বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশে যেটা করার চেষ্টা করছে, আমরা নিশ্চয়ই পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন লক্ষ করেছি। সেখানে নির্বাচনে একটা ইস্যু ছিল এটা। এটা তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ব্যাপার, যেটার খানিকটা চাপ আমাদের ওপরে আসছে। আমি মনে করি না যে বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো একটা চাপ তৈরির জন্য ভারতীয় সরকার এটা করছে। পশ্চিমবঙ্গে যে নতুন সরকার নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় এসেছে, তাদের নির্বাচনের এক ধরনের প্রতিশ্রুতি ছিল এটা।’
তিনি বলেন, ‘তাদের (পশ্চিমবঙ্গ সরকার) একটা রাজনীতি আছে, সেটারই এক ধরনের বহিঃপ্রকাশ এটা। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে নতুন যে সরকার আসছে তার সঙ্গে ভারতের সরকার বিভিন্ন পর্যায়ে যখন কথাবার্তা বলেছে, আমার নিজেরও কিছু কথাবার্তা হয়েছে, তারা বাংলাদেশের সঙ্গে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ড. ইউনূস সরকারের সঙ্গে যে ধরনের পরিস্থিতি ছিল, সেটা থেকে তারা বেরিয়ে আসতে চান। সেটটা দুই দেশই চায়। সেজন্য আমি মনে করি যে সংকটটা প্রাথমিকভাবে দেখা যাচ্ছে, এটার একটা সমাধান দ্রুত হবে।’
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘এটা কোনোভাবেই তারা ইনটেনশনালি (ইচ্ছাকৃতভাবে) বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক বা বাংলাদেশকে চাপে রাখতে চাইছেন এরকম আমি মনে করি না।’
১৩২ দিন আগে
বিরামপুর সীমান্ত দিয়ে ১৫ জনকে পুশ-ইন বিএসএফের
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার অচিন্তপুর সীমান্ত দিয়ে ১৫ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করেছে বিএসএফ। এদের মধ্যে ৩ জন নারী, ৩ জন পুরুষ ও ৯ শিশু রয়েছে। শুক্রবার (১৩ জুন) ভোরে তাদের পুশ-ইন করা হয়।
বিজিবি ও পুলিশ জানিয়েছে, বিজিবির বিরামপুরের অচিন্তপুর বিওপির বিপরীতে ৫৭ নম্বর বিএসএফ ব্যাটালিয়নের গুলশী বিএসএফ ক্যাম্পের ২৯৫/১নম্বর পিলারের পাশদিয়ে এই ১৫ নাগরিককে পুশ-ইন করে।
পুশ-ইন করা নাগরিকরা হলেন- ১। মো. আশোক মোল্লা (৬০) পিতা মৃত উমর মোল্লা, ২। মোছাম্মাৎ হিরিনা বেগম (৫২) স্বামী মো. আশোক মোল্লা ৩। মো. হাসু মোল্লা (৩৪) পিতা মো. আশোক মোল্লা ৪। মো. বিল্লাল মোল্লা (১৬) পিতা হাসু মোল্লা ৫। মোহাম্মদ মোল্লা (১২) পিতা মো. হাসু মোল্লা ৬। আহমেদ মোল্লা (৮) পিতা মো. হাসু মোল্লা ৭। মোছাম্মাৎ রাবেয়া মোল্লা (৪) পিতা হাসু মোল্লা ৮। মো. মনির মোল্লা (৩০) পিতা মো. আশোক মোল্লা ৯। মোছাম্মাৎ ঝরনা খাতুন (২৮) স্বামী মো. মনির মোল্লা ১০। মোছাম্মাৎ সুমাইয়া খাতুন (১১) পিতা মো. মনির মোল্লা ১১। মো. আলমিন মোল্লা (৮) পিতা মো. মনির মোল্লা ১২। মোছাম্মাৎ হুমাইয়া খাতুন (৬) পিতা মো. মনির মোল্লা ১৩। মোছাম্মাৎ খাদিজা খাতুন (৪) পিতা মো. মনির মোল্লা ১৪। মো. ইব্রাহিম মোল্লা (২) পিতা মো. মনির মোল্লা ও ১৫। মোছাম্মাৎ তাজমা বেগম (৪০) স্বামী মৃত হাফিজুল মোল্লা। তারা নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার শীতলপাটি গ্রামের বাসিন্দা।
আরও পড়ুন: পুশ-ইন বন্ধে ভারতকে আবারও চিঠি দেবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
অচিন্তপুর বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েব সুবেদার মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ভোরে সীমান্তে টহল দেওয়ার সময় বিজিবি সদস্যরা অচিন্তপুর সীমান্তের অভ্যন্তরে এসব নারী, শিশু ও পুরুষদের এলোমেলোভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখে। এসময় বিজিবি টহলদল তাদের আটক করে ক্যাম্পে আনে। আটদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিরামপুর থানায় হস্তান্তর করা হবে।
মো. আশোক মোল্লা (৬০) জানান, তারা গত বছরের ৭ অক্টোবর যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দালালের মাধ্যমে ভারতের মুম্বাই শহরে যায়। সেখানে তারা দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করছিল। ঈদুল আজহার দিন (গত ৭ জুন) ভারতের পারমেল থানা পুলিশ তাদের আটক করে তাদের হেফাজতে রাখে। গত ১২ জুন মুম্বাই থেকে বিমানে করে তাদের শিলিগুড়ি বাগডোগড়া বিমানবন্দরে নিয়ে আসে। এরপর বিএসএফ তাদের বিরামপুরের অচিন্তপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশ-ইন করে। তারা সবাই একই পরিবারের বলে জানান তিনি।
৪৯৩ দিন আগে
পুশ-ইন বন্ধে ভারতকে আবারও চিঠি দেবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
যথাযথ প্রক্রিয়া অনুরসরণ না করে বাংলাদেশে এখনো নাগরিকদের ঠেলে দেওয়ার (পুশ-ইন) ঘটনার বিষয়টি ভারতকে স্মরণ করিয়ে দিতে একটি সংক্ষিপ্ত চিঠি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
মঙ্গলবার (৩ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা আজ বা আগামীকাল তাদের আরেকটি ‘সংক্ষিপ্ত’ (কূটনৈতিক নোট) চিঠি দেব।’
চিঠিটির ভাষা নরম হবে, না কি এটি প্রতিবাদপত্র হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটি নির্ভর করে কে কীভাবে নেবেন তার ওপর।’
তিনি বলেন, পুশ-ইন ইস্যুতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে।
উপদেষ্টা বলেন, ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং বাংলাদেশ চেষ্টা করছে যাতে নির্ধারিত প্রক্রিয়ার বাইরে কিছু না ঘটে।
তিনি জানান, বাংলাদেশকে একটি তালিকা দিয়েছে ভারত। যাচাই-বাছাই শেষে বাংলাদেশ কিছু মানুষকে গ্রহণ করেছে।
বাংলাদেশের অবস্থান হলো, প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে যাচাই করা হবে। শুধুমাত্র প্রমাণ সাপেক্ষে বাংলাদেশি নাগরিকদেরই গ্রহণ করা হবে।
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা দেখছি এখনো পুশ-ইন হচ্ছে। সশরীরে এটি ঠেকানো সম্ভব নয়।’
তিনি জানান, কনস্যুলার ইস্যুগুলোর জন্য একটি নির্ধারিত প্রক্রিয়া রয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বাংলাদেশ বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে।
ক্ষমতচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হস্তান্তর নিয়ে কোনো অগ্রগতি হয়েছে কিনা—এমন প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন, এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি।
ভারত সম্প্রতি জানিয়েছে, প্রায় ২ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি নাগরিক দেশটিতে রয়েছে—যাদের পরিচয় যাচাইয়ের পর বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো দরকার।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সম্প্রতি বলেছেন, ‘আমরা বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষকে তাদের জাতীয়তা যাচাই করতে বলেছি। বর্তমানে ২ হাজার ৩৬০ জনের একটি তালিকা রয়েছে যাদের প্রত্যাবাসন প্রয়োজন।’
আরও পড়ুন: চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্ত দিয়ে ১৭ জনকে পুশ-ইন
নয়া দিল্লিতে নিয়মিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি আরও জানান, এদের অনেকেই ইতোমধ্যে কারাদণ্ড ভোগ করেছেন। তাদের অনেক ক্ষেত্রে জাতীয়তা যাচাই করা বাকি রয়েছে। এটি ২০২০ সাল থেকে ঝুলে আছে। অর্থাৎ প্রায় পাঁচ বছর হয়ে গেছে।’
তিনি বলেন, এই যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে বাংলাদেশের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে ভারত। যাতে যাদের ফেরত পাঠানো দরকার, তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো যায়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘তারা(বাংলাদেশ) যেন দ্রুত এই প্রক্রিয়া শেষ করে।’
তিনি আরও বলেন, ভারতে যারা অবৈধভাবে অবস্থান করছেন—তারা বাংলাদেশি হোক বা অন্য কোনো দেশের নাগরিক হোক—তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: সিলেট সীমান্তে একরাতে ১৫৩ জনকে পুশ-ইন করল বিএসএফ
৫০৩ দিন আগে
সিলেট সীমান্তে একরাতে ১৫৩ জনকে পুশ-ইন করল বিএসএফ
সিলেট ও মৌলভীবাজারের সীমান্ত দিয়ে একরাতে ১৫৩ জন বাংলাদেশিকে পুশ-ইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
শনিবার (২৪ মে) দিবাগত রাত থেকে আজ রবিবার (২৫ মে) সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এ পুশ-ইনের ঘটনা ঘটে। সীমান্ত অতিক্রম করার সঙ্গে সঙ্গেই বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সংশ্লিষ্টদের আটক করে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ১৫৩ জনের মধ্যে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার শাহবাজপুর সীমান্ত দিয়ে ৭৯ জন, পাল্লাথল সীমান্ত দিয়ে ৪২ জন এবং সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার নয়াগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ৩২ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করা হয়েছে।
বিজিবি ৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান আজ রবিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শনিবার রাত আড়াইটার দিকে সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি চালানোর সময় দেখা যায়, ভারতীয় সীমান্ত থেকে দলবদ্ধভাবে লোকজনকে জঙ্গল ও বিলপথ ব্যবহার করে বাংলাদেশে পুশ-ইন করা হচ্ছে। এ সময় বিজিবি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়।
তিনি জানান, আমরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর সবার বাংলাদেশি পরিচয় নিশ্চিত হয়ে স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এসব ব্যক্তি অবৈধভাবে বিভিন্ন সময়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। বিএসএফ এখন তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠাচ্ছে বলেও জানান কর্নেল মেহেদী হাসান।
আরও পড়ুন: বিয়ানীবাজার সীমান্তে ৩২ জনকে পুশ-ইন করেছে বিএসএফ
এবিষয়ে বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুজ্জান জানান, বিজিবি থেকে নারী, পুরুষ এবং শিশুসহ ৩২জনকে হস্তান্তর করা হয়েছে। নয়গ্রাম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পর তাদের আটক করা হয়েছে। তবে এখনও সবার পরিচয় সনাক্ত হয়নি, সনাক্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এর আগে ২৩ মে সিলেটের কানাইঘাট সীমান্তের লোভাছড়া এলাকা দিয়ে নারী শিশুসহ ২১ জন এবং ১৪ একই উপজেলার আটগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ১৬ জনকে পুশ-ইন করেছিল বিএসএফ। পরে তাদের বাংলাদেশি পরিচয় নিশ্চিত হয়ে আত্মীয়স্বজনের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
৫১২ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএসএফের গুলিতে আহত ২, মেহেরপুরে ১৯ জনকে পুশ-ইন
ভারতের সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের জেলাগুলোর পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সম্প্রতি এসব এলাকায় বিএসএফের গুলিবর্ষণ ও বাংলাদেশিদের পুশ-ইন করার ঘটনা বেড়েছে। শনিবার মধ্যরাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুজন আহত হন। পরে আজ (রবিবার) ভোরে মেহেরপুরের মুজিবনগর সীমান্ত দিয়ে নারী-শিশুসহ ১৯ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গুলিবিদ্ধ ২
শনিবার (২৪ মে) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার খাদলা সীমান্তের শ্যামনগর এলাকার বিপরীত পাশে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি আহত হয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৬০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিয়াউর রহমান।
গুলিবিদ্ধ দুজন হলেন— কসবার শ্যামপুর এলাকার শের আলীর ছেলে মো. রবিউল ইসলাম (২৮) এবং মো. আজাদ হোসেন (২৬)। তারা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তারা শঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও বিজিবি সূত্র জানায়, রাত দেড়টার দিকে অন্তত ছয়জন ব্যক্তি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের ভেতরে প্রায় দেড়শ গজ পর্যন্ত ঢুকে পড়েন। এ সময় বিএসএফ তাদের লক্ষ্য করে ছররা গুলি ছোড়ে। এতে রবিউল ও আজাদ আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
আরও পড়ুন: সিলেট সীমান্তে ২২ জনকে পুশ ইন করল বিএসএফ
স্থানীয়রা জানান, ঈদকে সামনে রেখে সীমান্ত দিয়ে গরু, মসলা, প্রসাধনী ও পটকা বাজি পাচারে সক্রিয় হয়ে উঠেছে চোরাকারবারিরা। সীমান্ত চোরাচালান এখন নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিজিবি কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, সীমান্তে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।
মেহেরপুরে ১৯ জনকে পুশ-ইন
রবিবার (২৫ মে) ভোরে মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার সোনাপুর মাঝপাড়া সীমান্ত দিয়ে নারী-শিশুসহ ১৯ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করে বিএসএফ। সীমান্ত পার হয়ে তারা কেদারগঞ্জ বাজারের বিআরটিসি কাউন্টারের সামনে অবস্থান করছিলেন।
খবর পেয়ে মুজিবনগর থানা পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে মুজিবনগর বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা সেখানে যান।
মুজিবনগর থানা পুলিশ জানায়, আটক হওয়া ১৯ জনের মধ্যে ৯ জন শিশু, ৫ জন নারী ও ৫ জন পুরুষ রয়েছেন। তারা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক এবং জীবিকার সন্ধানে অবৈধভাবে ভারতে গিয়েছিলেন।
আটকদের মধ্যে রয়েছেন— কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার কাঠগিরি গ্রামের আব্দুল জলিলের মেয়ে মোমেনা খাতুন ও তার তিন ছেলে মোজাম্মেল হক (২৩), মোস্তাক আহমেদ (১৯) ও কাবিল (১১); কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর জয়মঙ্গল গ্রামের জালালউদ্দিনের ছেলে মইনুল ইসলাম, তার স্ত্রী কাঞ্চন বেগম, ছেলে কারণ (১৪), রবিউল (৭) ও মেয়ে মরিয়ম (৪); লালমনিরহাট সদর উপজেলার চুঙ্গগাড়া গ্রামের মৃত গণেশ চন্দ্র পালের ছেলে নিতাই চন্দ্র পাল, তার স্ত্রী গীতা রানী পাল, মেয়ে পার্বতী পাল (১৫), পূজা রানী পাল (৭) ও আরতী পাল (৩) এবং কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কুঠিচন্দ্রখানা গ্রামের খলিলের ছেলে আমিনুল ইসলাম, তার স্ত্রী পারুল এবং তাদের দুই মেয়ে আমেনা (৪) ও আরফিনা (১১ মাস)।
আরও পড়ুন: সীমান্তে ভারতের ‘পুশ ইন‘ সুপরিকল্পিত ও ন্যাক্কারজনক: বিজিবি ডিজি
আটকদের বরাতে পুলিশ জানায়, তারা ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে কাজ করতেন। সেখান থেকে ৬–৭ দিন আগে ভারতের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর জেলে পাঠানো হয়। পরে রবিবার ভোরে বিএসএফ তাদের বাংলাদেশে পুশ-ইন করে।
মুজিবনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, তারা সীমান্ত পার হয়ে কেদারগঞ্জ বাজারে বিআরটিসি কাউন্টারে অবস্থান করেছিলেন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তাদের আটক করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইউএনবির ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও মেহেরপুর প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য থেকে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।
৫১২ দিন আগে
সীমান্তে উত্তেজনা: বাংলদেশের প্রতিবাদ সত্ত্বেও পুশ-ইন অব্যাহত
‘বাংলাদেশি’ ট্যাগ দিয়ে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে শিশু, নারী-পুরুষদের ঠেলে দিচ্ছে (পুশ-ইন) ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এ নিয়ে প্রতিবেশী এই দুই দেশের অভিন্ন সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়েছে।
বিএসএফের পুশ-ইন করা মানুষের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিক, রোহিঙ্গা শরণার্থী ও পরিচয় না জানাও অনেকে রয়েছেন। বিষয়টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও জনসম্পৃক্ততায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা।
এ বিষয়ে ঢাকার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানানো হলেও সীমান্তের বিভিন্ন জায়গায় এই ধরনের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন: রামগড় সীমান্ত দিয়ে এক পরিবারকে পুশ-ইন করল বিএসএফ
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এক সূত্র জানায়, শুধু বৃহস্পতিবারই (২২ মে) একশর বেশি মানুষ বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে পাঠানো হয়েছে। পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, মৌলভীবাজার, ফেনী, কুমিল্লা ও খাগড়াছড়ির সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের আটক করে বিজিবি।
সরকারি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৪ থেকে ১৫ মের মধ্যে ভারতে থেকে অন্তত তিন শতাধিক মানুষকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করা হয়েছে।
বিজিবি ও সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মতে, ভারতের দিক থেকে ‘পুশ-ইন’ কিংবা ‘পুশ-ইনের চেষ্টা’ ক্রমেই বাড়ছে। এ ছাড়া সীমান্তে চলাচলের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিএসএফ, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বাড়াচ্ছে বলে জানা যায়।
অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর জন্য ভারত ও বাংলাদেশ আইনি কাঠামোর পাশাপাশি চুক্তি করলেও সেসব উপেক্ষা করেই পুশ-ইন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন এবং দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক চুক্তির পরিপন্থী।
বিএসএফের পুশ-ইনের ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেন, কিছু বাংলা ভাষাভাষী ব্যক্তিকে ভারত থেকে বাংলাদেশে পাঠানোর পর আটক করেছে বিজিবি। তারা কোনো পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট দেখাতে পারেননি। তাদের মধ্যে কেউ কেউ দাবি করছেন যে তারা এর আগে বাংলাদেশ থেকে ভারতে গিয়েছিলেন।
আইজিপি জানান, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা তাদের পরিচয় যাচাইয়ের পর পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আটকদের মধ্যে অনেকে অভিযোগ করেছেন, তাদের চোখ বেঁধে দূরবর্তী অঞ্চল থেকে এনে নির্জন সীমান্ত এলাকায় ফেলে যাওয়া হয়েছে।
বিজিবি তাদের আটক করে পরিচয় জানতে ও যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিতের উদ্দেশ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
গত বুধবার (২১ মে) পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন জানান, নয়াদিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং নির্ধারিত পদ্ধতির বাইরে যাতে কিছু না ঘটে, তার জন্য ঢাকার পক্ষ থেকে চেষ্টা চলছে।
নির্ধারিত কার্যপ্রক্রিয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তারা (ভারত) তাদের অবস্থান কিছুটা জানিয়েছে, আমরাও আমাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছি। আমরা বোঝানোর চেষ্টা করছি যে এটা সঠিক নয়।’
আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় পুশ-ইন: শিশুসহ আটক ৭
উপদেষ্টা জানান, ভারত একটি তালিকা দিয়েছে, যা বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যাচাই করছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান হলো, প্রত্যেকটি ঘটনা পৃথকভাবে খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রকৃত বাংলাদেশি হিসেবে প্রমাণ থাকলেই কেবল তাদের গ্রহণ করা হবে।
সম্প্রতি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, যেকোনো প্রত্যাবাসনই কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমেই হওয়া উচিত।
৫১৪ দিন আগে