যুদ্ধবিরতিতে ইরানকে ১৫ দফার একটি প্রস্তাব দিয়েছে ডোনিাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে ইতোমধ্যে মোতায়েন প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনার সঙ্গে আরও অন্তত ১ হাজার সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতে এ প্রস্তাবের রূপরেখা সম্পর্কে অবগত একজন ব্যক্তি এ তথ্য জানান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ব্যক্তি জানান, পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের কাছে প্রস্তাবটি পাঠানো হয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনা আয়োজনের প্রস্তাবও দিয়েছে পাকিস্তান।
ইরানি কর্মকর্তাদের কাছে প্রস্তাবটি পৌঁছানোর খবর প্রথম প্রকাশ করে নিউইয়র্ক টাইমস।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে আরও দুটি নৌ ইউনিট মোতায়েনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে পেন্টাগন। এর ফলে প্রায় ৫ হাজার মেরিন ও হাজারো নৌসেনা ওই অঞ্চলে যুক্ত হবে। এসব পদক্ষেপকে ট্রাম্পের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নমনীয়তা নিশ্চিতের কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে জানান ওই ব্যক্তি।
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অব্যাহত রাখতে ট্রাম্পকে উৎসাহিত করা ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বিস্মিত হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস কোনো মন্তব্য করেনি।
এর আগে, মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ শেষ করতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। একই সময়ে ইরান কড়া ভাষায় নিজেদের অবস্থান জানায়।
একদিকে ওয়াশিংটন হামলা অব্যাহত রাখায় তেহরানও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য ইসরায়েল ও অঞ্চলটির বিভিন্ন স্থাপনা। অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছে তেহরান। আবার হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর জন্য দেওয়া নিজের নির্ধারিত সময়সীমাও পিছিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে ইরানের নিয়ন্ত্রণ আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ব্যাহত করেছে, জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতির জন্য হুমকি তৈরি করেছে।
আলোচনার পথে বড় চ্যালেঞ্জ
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান এখনও জটিল।
ইরান সরকারের পক্ষ থেকে কার হাতে আলোচনা করার ক্ষমতা রয়েছে বা কে আলোচনা করতে আগ্রহী হবেন—তাও স্পষ্ট নয়; বিশেষ করে ইসরায়েল যখন দেশটির নেতাদের হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইরানের গভীর সন্দেহ রয়েছে। কারণ ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনার মাঝপথেই যুক্তরাষ্ট্র দুইবার হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলাটি চলমান যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায়।
মধ্যপ্রাচ্যে আরও সেনা মোতায়েন
যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার বিষয়ে অবগত তিনজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের অন্তত ১ হাজার সেনা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হবে।
এই ডিভিশনকে মার্কিন সেনাবাহিনীর ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স ফোর্স’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যারা খুব অল্প সময়ের নোটিশে মোতায়েন হতে পারে। গত সপ্তাহে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, নৌবাহিনীর কয়েকটি জাহাজে থাকা হাজারো নৌসেনাও ওই অঞ্চলে যাচ্ছে।
নৌ ইউনিটগুলো সাধারণত মার্কিন দূতাবাস রক্ষা, বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়া এবং দুর্যোগকালীন সহায়তার জন্য প্রশিক্ষিত হলেও, ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের সেনারা শত্রুভাবাপন্ন বা বিরোধপূর্ণ এলাকায় প্যারাস্যুটের মাধ্যমে নেমে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও বিমানঘাঁটি দখল করতে পারদর্শী।
এ অঞ্চলে নৌসেনা মোতায়েন নিয়ে গুঞ্জন উঠেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত ইরানের তেল নেটওয়ার্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ দখলের চেষ্টা করতে পারে। এর আগে, পারস্য উপসাগরের এই দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র বোমা হামলা চালালেও তেল স্থাপনা অক্ষত রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়।
অন্যদিকে, তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র স্থলবাহিনী নামানোর চেষ্টা করলে উপসাগরে মাইন বিছিয়ে দেবে তারা।
নিউইয়র্কভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক সুফান সেন্টার এক বিশ্লেষণে লিখেছে, আলোচনা চলাকালীন ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে বোমা হামলার হুমকি স্থগিত রেখেছেন। তবে এটি নৌসেনাদের পৌঁছানোর জন্য সময়ক্ষেপণের একটি কৌশল হতে পারে। সংস্থাটি অবশ্য এও উল্লেখ করেছে যে, ট্রাম্প হয়তো সক্রিয়ভাবে যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার একটি পথ খুঁজছেন।